মুক্তি পেলেন ৮ মানবাধিকার কর্মী | বিশ্ব | DW | 26.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

মুক্তি পেলেন ৮ মানবাধিকার কর্মী

জার্মান নাগরিক পেটার স্টয়েটনার ও আরো সাতজন মানবাধিকার কর্মীকে বেশ কয়েক মাস তুরস্কে কারাবন্দি রাখার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়৷

বৃহস্পতিবার স্টয়েটনার, তুরস্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান ইদিল এসার ও আরো ছয় জন যখন ইস্তানবুলের কারাগার থেকে বেরিয়ে পরিবারবর্গের সঙ্গে মিলিত হন, তখন সকলের চোখেই জল৷ তাঁদের সমর্থকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷

স্টয়েটনার গত ৫ই জুলাই থেকে কারারুদ্ধ ছিলেন৷ মুক্তি পাবার পর তিনি বলেন, ‘‘আমরা সকলেই বিপুল স্বস্তি অনুভব করছি৷ যা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে খুশি৷ আমার নিজের তরফ থেকে আমি বলতে পারি, আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এবং আমরা সত্যিই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাদের আইনগতভাবে, কূটনৈতিকভাবে ও সংহতির মাধ্যমে সাহায্য করেছেন৷''

বুধবার সন্ধ্যায় একটি তুর্কি আদালত স্টয়েটনার ও আরো ১১ জন মানবাধিকার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেবার নির্দেশ দেন৷ ইতিপূর্বে সরকারি কৌঁসুলি অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়ার আগে আটক রাখার অন্ত ঘটানোর আবেদন করেন৷ ফলে এসার মুক্তি পেলেও, তুরস্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যুগ্ম পরিচালক তানের কিলিচ-কে এখনও কারাবদ্ধ রাখা হয়েছে৷

Türkei Deutscher Menschenrechtler Peter Steudtner in U-Haft

পেটার স্টয়েটনার

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার সমালোচনা করা হয়৷ জার্মানি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ‘অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করে৷

অভিযুক্তদের দশজনকে গত ৫ জুলাই তারিখে ইস্তানবুলের কাছে বুইয়ুকাদা দ্বীপে একটি মানবাধিকার ওয়ার্কশপ চলাকালীন গ্রেপ্তার করা হয়৷ তুরস্কে অ্যামনেস্টির সভাপতি কিলিচকে এর বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ও পরে তাঁর মামলা বুইয়ুকাদার মামলার সঙ্গে যোগ করা হয়৷

বিচার শুরু হওয়ার আগে অ্যামনেস্টি একটি বিবৃতিতে বলে,‘‘তুরস্ক এই মানুষদের কারারুদ্ধ করেছে, ঠিক যেমন তুরস্ক শত শত সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করেছিল, এই প্রচারণার দোহাই দিয়ে যে, মানবাধিকার রক্ষাকারীরা বিপজ্জনক ও তাঁদের রোখা প্রয়োজন৷ এটা হাস্যকর ও একেবারেই সত্যি নয়৷''  ‘‘এই সব মানুষেরা তুরস্কে শান্তিপূর্ণভাবে মানবাধিকার সুরক্ষার চেষ্টা করছিলেন৷ তাঁরা কারাগারে যত দিন কাটাচ্ছেন, সেই সময়ে তারা যে সব মানুষের জন্য সোচ্চার ছিলেন, তারা সরকারের ব্যাপক নিপীড়ন অভিযানের মুখে আরো অসহায় হয়ে পড়ছেন৷''

‘সমাজে অরাজকতা'

অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বলেছেন যে, তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই এবং সরকারপন্থি মিডিয়াকে খবর ফাঁস করার মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে জনমত ও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে৷

অভিযুক্ত ১১ জনের সকলের বিরুদ্ধে সুশীল সমাজসুলভ কার্যকলাপের মাধ্যমে ‘‘সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদি সংগঠনকে মদত দেওয়ার'' ও ‘‘সমাজে অরাজকতা'' সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়৷

সরকারি কৌঁসুলি তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদি সংগঠনগুলি যেসব পদ্ধতি ও পন্থা অবলম্বন করে থাকে... অভিযুক্তরা সে বিষয়ে নানা কার্যকলাপ ও দেখাসাক্ষাতের উপস্থাপনা করেছে৷'' 

এছাড়া মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান শ্রমিক দল পিকেকে, উগ্র বামপন্থি ডিএইচকেপি-সি ও গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে৷ গত বছরের তুরস্ক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার জন্য গুলেনকেই দায়ী করে থাকে৷

এসি/এসিবি (এএফপি, এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন