মুক্তিসেনাদের লক্ষ্য পূরণে ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ | বিশ্ব | DW | 22.03.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

মুক্তিসেনাদের লক্ষ্য পূরণে ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ

‘এটা একটা বিপ্লব’, বললেন মমতাজ জাহান হালিমা৷ তরুণ এই আইন শিক্ষার্থী শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিতে পাড়ি দিয়েছেন ৩০০ কিলোমিটার পথ৷

খুলনার বাসিন্দা হালিমা নিজের বক্তব্যে সবাইকে জানাতে, গণজাগরণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছেন শাহবাগে৷ তাঁর কথায়, ‘‘ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ এখানে একত্র হয়েছে৷ আমার এরকম শান্তপূর্ণ গণজাগরণ স্বাধীনতার আগে আর দেখেনি৷''

শাহবাগ গণজাগরণে অংশ নেওয়াদের অধিকাংশই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি৷ বয়সে তারা তরুণ, অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী৷ তবে এই সংগ্রামীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত৷ তাদের পূর্বপুরুষরা একাত্তরে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন৷ সেসময় অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন অগুনতি মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারিয়েছেন লাখো নারী৷ সেই স্বাধীনতার গর্বে গর্বিত বর্তমান প্রজন্মই শাহবাগের মূল চালিকা শক্তি৷

শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ ঘিরে গড়ে ওটা জনসমুদ্রের ঠিক উপরেই ঝুলছে ব্যানার৷ লেখা রয়েছে, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই'৷ এই যুদ্ধাপরাধের মূল অভিযোগ বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থি বিরোধী দল জামায়াত-ই-ইসলামীর বিরুদ্ধে৷ ১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার চলছে এখন৷

শাহবাগে অবস্থান নেওয়া এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা চৈতি মজুমদার বলেন, ‘‘একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে প্রাণ দিয়েছেন হাজার হাজার মুক্তিসেনা৷ আমরা তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ করতে চাই৷''

যেভাবে রাজনীতিতে ফিরেছিল জামায়াত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে জামায়াত-ই-ইসলামী৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত নেতারা আবারো মাথাচাড়া দিতে শুরু করে৷

বর্তমানে জামায়াতের মূল রাজনৈতিক মিত্র হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)৷ এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজের অবস্থান শক্ত করতে ১৯৭৫ সালে উগ্র ইসলামপন্থীদের আবারো রাজনীতির মাঠে প্রবেশের সুযোগ করে দেন৷ প্রখ্যাত লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবির এই বিষয়ে বলেন, ‘‘জেনারেল জিয়া এরকম উগ্রগোষ্ঠীকে কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন৷ ১৯৭৬ সালে তিনি এক অর্ডিনেন্সে ৬৬টি পাকিস্তানপন্থী ইসলামি দলকে বৈধ করেন৷''

শাহবাগ আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার মনে করেন, সাধারণ মানুষ এতকাল সঙ্ঘবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে পারেনি বলে জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করা যায়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু এখন আমরা, সাধারণ জনতা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী৷ আমাদের অহিংস তরুণ শক্তি রয়েছে এবং আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়বো৷''

একথা সত্যি, ১৫০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে৷ এই নতুন দেশ গড়ার চেষ্টা এমন এক সময় শুরু হয়েছে, যখন বাংলাদেশের ৩৫ শতাংশ জনসাধারণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে৷ সে দেশে ২০০০ সালের তুলনায় জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ৷ পাশাপাশি তরুণ বেকারের সংখ্যা বাড়ছে আর প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণি অবধি পৌঁছানোর আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেছে৷

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিবি) সহকারী পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো ৪০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে৷''

এই দরিদ্রতার কারণেই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এতকাল রাজনৈতিক ইস্যুতে নীরব থেকেছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ তবে শাহবাগ এই নীরবতার ধারা বদলে দিচ্ছে৷ সেখানে আন্দোলনরত একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুনম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের নামে গত কয়েক দশক ধরে নোংরা রাজনীতির খেলা দেখতে দেখতে হতাশ সাধারণ জনতা এখন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন৷''

শাহবাগের বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধীদের সংসদ বয়কটের সুযোগ রয়েছে, তারা চাইলে সাধারণ জনতার বাড়িঘরে, গাড়িতে আগুন দিতে পারে এবং চাইলে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে৷ এরকম রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ৷ অনেকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে বিভক্ত সমাজ নিয়ে হতাশ৷

চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এখানে (শাহবাগ) যারা অবস্থান করছেন, তারা ভোটের মাধ্যমে আগামীর রাষ্ট্র শাসকদের নির্ধারণ করবেন৷ ফলে শাহবাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷''

পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ শাহবাগের এই আন্দোলনকে এড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সেটা পারেননি৷ বরং তাদেরকে শাহবাগের দাবির দিকে মনোযোগী হতে হচ্ছে এবং তারা এই আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানও নিচ্ছেন৷ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ঝর্না রানি দাস বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দলের অনেক রাজনীতিবিদ আমাদের নির্ভেজাল শক্তি দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছেন, অনেকে ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন৷''

দাস জানান, আমাদের আন্দোলন যত গতি পাচ্ছে, গতানুগতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভাঙ্গনও তত প্রকট হচ্ছে৷ পরিবর্তনটা এভাবেই হবে৷

এআই / এসবি (আইপিএস)

নির্বাচিত প্রতিবেদন