1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Filmstill Muktir Gaan
তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির গান-এর একটি দৃশ্যছবি: AudioVision

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ও গান: গর্ব ও হতাশার ৫০ বছর

জনি হক
১০ ডিসেম্বর ২০২১

মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গানের ভূমিকা ব্যাপক৷ কিন্তু এ ধরনের চলচ্চিত্র এবং গান যেন রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা এবং বিশেষ দিবস আর বর্ষনির্ভর হয়ে পড়েছে৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%93-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%AB%E0%A7%A6-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0/a-60078014

সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খুব কমই হয়েছে৷ কোনো নির্মাতা-প্রযোজক ব্যক্তি উদ্যোগে যদি এগিয়েও আসেন, তারা সব জায়গা থেকে সমান সাড়া পান না৷ প্রচার, পুরস্কারের স্বীকৃতি কিংবা প্রাপ্য অর্থ প্রাপ্তি সব ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য৷

দেশাত্মবোধক গানও অনেকটাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা-নির্ভর ৷ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত দেড় বছরে বেশকিছু দেশের গান তৈরি হয়েছে৷ তবে এ ক্ষেত্রেও ‘বেসরকারি উদ্যোগ' হাতেগোনা৷

সরকারি অর্থায়নেই বেশি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মোট চলচ্চিত্রের বেশির ভাগই তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় অনুদানে৷ যদিও সত্তর দশকের সব মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রই হতো বেসরকারি প্রযোজনায়৷ কারণ, তখনও সরকারি অনুদান চালু হয়নি৷ সেই সময়ের কয়েকটি কালজয়ী নির্মাণের তালিকায় রয়েছে মাসুদ পারভেজের প্রযোজনায় চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন' (১৯৭২) ও কাজী সবুজ প্রযোজিত ‘সংগ্রাম' (১৯৭৪), রমলা সাহা প্রযোজিত সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' (১৯৭২), মমতাজ আলীর ‘রক্তাক্ত বাংলা' (১৯৭২), আনন্দ'র ‘বাঘা বাঙালি' (১৯৭২), বাংলাদেশ ফিল্মস ইন্টারন্যাশনাল প্রযোজিত আলমগীর কবিরের ‘ধীরে বহে মেঘনা' (১৯৭৩), খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ' (১৯৭৩), ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল প্রযোজিত আলমগীর কুমকুমের ‘আমার জন্মভূমি' (১৯৭৩), নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল' (১৯৭৪), আনোয়ার আশরাফ ও শাজীদা শামীমের প্রযোজনায় হারুনর রশিদ পরিচালিত ‘মেঘের অনেক রঙ' (১৯৭৬)৷

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৫০টির মতো ছবি তৈরি হয়েছে৷ ৫০ বছরে সংখ্যাটাকে খুব কম মনে করেন না ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর৷ তিনি অ্যামেরিকা থেকে ডয়েচে ভেলেকে বলেন,‘‘আপাতদৃষ্টিতে সংখ্যাটি কম মনে হলেও যদি আমরা একটু ভেবে দেখি– এ দেশে বছরে যত ছবি তৈরি হয়, যত সিনেমা হল অবশিষ্ট আছে, যত দর্শক রয়েছে; সেখানে ৫০ বছরে ৫০টি ছবি খুব একটা কম নয়৷ একটু ব্যাখ্যা করলে দেখা যাবে, ছবিগুলো কিন্তু ১৯৭২ থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে এ পর্যন্ত হয়েছে সেরকম নয়৷ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ছবি হয়েছে থেমে থেমে৷ সেক্ষেত্রে ৫০টি ছবিকে খুব একটা কম বলা যাবে না৷’’

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ‘বন্ধ্যাত্বের’ সময়

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফিল্ম অফিসার মো. ফখরুল আলম ডয়েচে ভেলেকে জানান, সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বই দশকের বড় একটা সময় পর্যন্ত শহীদুল হক খানের ‘কলমীলতা' (১৯৮১) বাদে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো ছবি হয়নি৷ নব্বই দশকে বেসরকারিভাবে নির্মিত ছবির তালিকায় রয়েছে অনুপম চিত্রয়ন ট্রাস্ট প্রযোজিত নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘একাত্তরের যীশু' (১৯৯৩), কিনো-আই ফিল্মস প্রযোজিত তানভীর মোকাম্মেলের ‘নদীর নাম মধুমতি' (১৯৯৫), অডিও ভিশন প্রযোজিত তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান' (১৯৯৫) ও ‘মুক্তির কথা' (১৯৯৯), খান আতাউর রহমানের ‘এখনো অনেক রাত' (১৯৯৭)৷

‘মুক্তিযুদ্ধের ছবি তৈরির জন্য থাকতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’

ফিল্ম আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একবিংশ শতাব্দীতে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধনির্ভর ছবির তালিকায় রয়েছে ক্যাথরিন মাসুদ প্রযোজিত তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না' (২০০২), নক্ষত্র চলচ্চিত্রের প্রযোজনায় তৌকীর আহমেদের ‘জয়যাত্রা' (২০০৪), ব্যক্তি প্রযোজনায় মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর' (২০০৬), ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড প্রযোজিত হুমায়ুন আহমেদের ‘শ্যামল ছায়া' (২০০৪), চাষী নজরুল ইসলামের ‘মেঘের পরে মেঘ' (২০০৪) ও ‘ধ্রুবতারা' (২০০৬), আবুল খায়ের প্রযোজিত মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন' (২০১৫)৷

রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর ছবির তালিকায় উল্লেখযোগ্য– হারুনর রশিদের ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না' (১৯৯৩), হুমায়ুন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪), চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৯৭), তানভীর মোকাম্মেলের ‘রাবেয়া' (২০০৮) ও ‘জীবনঢুলী' (২০১৩), নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা' (২০১১), মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ' (২০১১), জাহিদুর রহিম অঞ্জনের ‘মেঘমল্লার' (২০১৪), ফাখরুল আরেফিন খানের ‘ভুবন মাঝি' (২০১৭)৷ আজ মুক্তি পেয়েছে নূরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’৷

নির্মাণে অপ্রতুল অনুদান

১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর থেকে দেশীয় চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান চালু হয়৷ আগে ছবিপ্রতি ২৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হতো৷ ২০১৪ সালের পর থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন শাখায় ৬০-৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে নির্মাতাদের৷ যদিও মুক্তিযুদ্ধনির্ভর ছবি নির্মাণে এই অঙ্ককে যথাযথ মনে করেন না নাসির উদ্দীন ইউসুফ৷ তার পরামর্শ, ‘‘সরকার যেমন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় করেছে, সেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও ভাবা উচিত৷ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে আলাদা বিবেচনার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে৷ মুক্তিযুদ্ধের ছবির জন্য এক কোটি টাকা লাগে, তবে আনুষঙ্গিক মিলিয়ে একটু বেশিও খরচ হয়৷’’

চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে দর্শক খরা, অপাত্রে অনুদান

সরকারি অনুদান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ছবি বেশি নির্মাণ হয় না৷ এমন কেন? মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অর্থলগ্নিতে প্রযোজকদের অনীহার কারণ কী? ফরিদুর রেজা সাগর মানছেন, মুক্তিযুদ্ধনির্ভর ছবি তৈরির জন্য যে মননশীলতা, আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, সবক্ষেত্রে সেসব পাওয়া যায় না৷ আবার এসব পাওয়া গেলেও তার প্রতিফলন যে পর্দায় ঘটবে সেরকমও হচ্ছে না৷

মুক্তিযুদ্ধের ছবির মান নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যায় অনেক বছর ধরে৷ নাসির উদ্দীন ইউসুফের দৃষ্টিতে, ‘‘মূলধারায় মুক্তিযুদ্ধের যেসব ছবি হয়েছে, একদিক দিয়ে এক-দুটি ছাড়া বাকিগুলো আমলে নেওয়ার মতো নয়৷ এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কম৷ যেগুলোতে একাত্তরের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পেছনে থাকা স্বপ্নগুলো খুঁজে পাওয়া যায়, তেমন ছবি কিন্তু দর্শকরা দেখে৷ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার যথেষ্ট অনুদান দিয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো বানাতে ব্যর্থ হয়েছি৷’’

‘মুক্তিযুদ্ধের কাজগুলোকে দর্শকদেরও পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে’

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিযুদ্ধনির্ভর ছবির প্রদর্শনীতে দর্শক উপস্থিতি কম থাকে৷ তৌকীর আহমেদ যেমন দর্শকদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ছবির ব্যাপারে আগ্রহ কম দেখেছেন, "আমার প্রথম ছবি ‘জয়যাত্রা' নিয়ে শুরুতে কিন্তু তেমন সাড়া পাইনি৷ ইউটিউবে বা টিভিতে যখন ফ্রি পেয়েছে, দর্শক তখন দেখেছে৷ কিন্তু সিনেমা হলে এসে সেভাবে দেখেনি৷ আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধের কাজগুলোকে দর্শকদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে৷ তাদেরও এ ধরনের কাজ দেখার জন্য রুচি তৈরি করা এবং দেখে নির্মাতাদের সহযোগিতা করা দরকার৷’’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সর্বোচ্চ ১৯টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছে৷ ফরিদুর রেজা সাগর মনে করেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের ছবি তৈরির জন্য মেধা, গবেষণা ও অর্থকড়ির ব্যাপার রয়েছে, কারণ, সেই সময়কে তুলে ধরতে হয় এতে৷ মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় আনতে যে পরিমাণ গবেষণা, চেষ্টা, মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রম দরকার, সাধারণ ছবির ক্ষেত্রে ততটা অনেক সময় না-ও লাগতে পারে৷ সেজন্য মেধা তো বটেই, মুক্তিযুদ্ধের ছবি তৈরির জন্য থাকতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা৷’’

ইতিহাস, ঐতিহ্যে দলীয় রাজনীতি সন্ধান

তৌকীর আহমেদের কথায়,‘‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে বারবার ফিরে তাকাতে হবে৷ যে জাতি ইতিহাস-ঐতিহ্যের ব্যাপারে সচেতন নয় তাদের উন্নতি মুশকিল৷ আমি মনে করি, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সমাজ, রাজনীতি বা সংস্কৃতিসহ সবকিছুর মধ্য থেকে আসতে হবে৷ শুধু বিনোদনের জন্য আমি ছবি বানাই না৷”

‘জেকে ১৯৭১' নামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ছবি নিজের প্রযোজনায় বানাচ্ছেন ফাখরুল আরেফিন খান৷ তিনি ডয়েচে ভেলের কাছে তুলে ধরলেন আরেকটি দিক, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টিকে আমরা গত ৫০ বছরে সার্বজনীন একটি প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারিনি৷ বাংলাদেশে এমন একটি বড় অংশ রয়েছে যারা ধরেই নেয়, মুক্তিযুদ্ধ মানে একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে কিছু প্রোপাগাণ্ডা চলবে৷ এগুলো ঘুরেফিরে বঙ্গবন্ধুর কথা বলবে, ৭ মার্চের কথা বলবে, ‘জয় বাংলা' স্লোগান দেবে৷ দেশের এই বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের জায়গা থেকে দূরে ঠেলে দেয়৷ তাছাড়া এতে খুব বেশি বিনোদন থাকে না৷ ফলে দর্শকদের মধ্যে সিনেমা হলে এসে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখার প্রবণতা কম৷ এ কারণে প্রযোজকরা অর্থলগ্নি করতে ভয় পায়৷ এগুলো মেনে নিয়েই ৫০ বছর ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র চলছে৷’’

অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদের কথায় উঠে এলো দেশীয় চলচ্চিত্রের সামগ্রিক নাজুক অবস্থা, "মুক্তিযুদ্ধের ছবি বাদই দিলাম, বাংলাদেশের ছবি নিয়েই কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন আছে এখন? বাংলাদেশে বর্তমানে সিনেমা হলের সংখ্যা কয়টি? চলচ্চিত্রই তো নেই এখন৷ আগে আমাদের চলচ্চিত্র বাঁচাই, তারপর সেটি যুদ্ধ নিয়ে হবে না অন্যকিছু নিয়ে হবে পরে দেখা যাবে৷ এখন যে অবস্থার মধ্যে আমরা আছি, চলচ্চিত্রই তো বাঁচে না৷ ক'জন প্রযোজক আছে এখন চলচ্চিত্র বানাবে? চলচ্চিত্রে যে বিনিয়োগ করা হবে সেই টাকাটা উঠবে কোথা থেকে?”

একই অভিমত ব্যক্ত করলেন তৌকীর আহমেদ, "এখন ছবির বাণিজ্যে এমনিতেই মন্দা৷ ভালো ছবির দর্শক যেমন কম, মুক্তিযুদ্ধের ছবির দর্শক আরো কম৷ যেমন ধরুন, ‘ফাগুন হাওয়ায়' ছবির প্রযোজকই পাচ্ছিলাম না৷ প্রযোজকরা বলেছেন এই ছবি চলবে না৷ আশার কথা হলো, আমার ‘স্ফূলিঙ্গ' ছবিটি প্রযোজনা করতে এগিয়ে এসেছে স্বপ্নের বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন৷”

‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনেক গান হারিয়ে যাচ্ছে’

সস্তায় হাতবদল

সাম্প্রতিক সময়ে টিভি চ্যানেলে স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস ছাড়া মুক্তিযুদ্ধনির্ভর চলচ্চিত্র দেখানো হয় না৷ রাইসুল ইসলাম আসাদের কথায় তা স্পষ্ট, ‘‘২৬ মার্চ এবং ১৬ ডিসেম্বর এলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবির কথা বেশি করে মনে পড়ে৷ তখন আমরা হুলস্থূল লাগিয়ে দেই, তারপর সারাবছর আর কোনো খবর থাকে না৷’’

২০১৬ সালে ঢাকার বলাকা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে একটি উৎসব আয়োজন করেছিল একদল তরুণ৷ সেই আয়োজকদের একজন সংবাদকর্মী নাজমুল আলম রানা ডয়েচে ভেলেকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী ছবিগুলোর মালিকানা এখন তৃতীয় পক্ষের কাছে৷ অনুপম মিডিয়া, লেজার ভিশন, জি-সিরিজ, ঈগল মিউজিক, লাইভ টেকনোলজিস, ফাহিম মিউজিক এসব চলচ্চিত্র কিনে ডিজিটালি কনভার্ট করেছে৷ প্রযোজকরা এজন্য তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এককালীন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন৷ ইদানীং কোনো কোনো নির্মাতা এককালীন ছবি বিক্রি না করে টিভি চ্যানেলকে একেকটি ছবি তিন-চারবার চালানোর অনুমতি দেন৷

সরকারি অর্থায়নে কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে যারা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি বানান, তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার৷ মুক্তিযুদ্ধনির্ভর কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় আসরে৷ এক্ষেত্রে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক ও সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক ১ লাখ টাকা করে পেয়ে থাকেন৷ অন্যান্য শাখার বিজয়ীদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়৷

নাসিরউদ্দীন ইউসুফের আশা, ‘‘৫০ বছর পার হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ছবির নানান দিক এখন উন্মোচন হওয়া শুরু করবে৷ তরুণরা হয়ত একটা সম্ভাবনার জায়গা খুঁজে পাবে৷ এর মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে, যেখানে আমাদের স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানুষের সমঅধিকারের বাংলাদেশ৷’’

তৌকীর আহমেদও এক্ষেত্রে আশাবাদী, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য একটি গৌরবজনক অধ্যায়৷ মুক্তিযুদ্ধের ছবি হবে এবং হতে থাকবে বিভিন্নভাবে৷ মুক্তিযুদ্ধের ছবি হতে হবে৷ মুক্তিযুদ্ধের ছবি বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখবে নতুন প্রজন্ম৷ আরো ভিন্ন ভিন্ন গল্প আসবে মুক্তিযুদ্ধের৷ তাই সেদিক থেকে মনে করি, এটি আমাদের একটি জাতীয় প্রয়োজন৷ নতুন প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি দায়িত্ব থাকবে নির্মাতাদের কাঁধে৷''

অনাদরে দেশের গান

২০০৬ সালের কথা৷ বিবিসি বাংলা তখন একটি জরিপে সর্বকালের সেরা কুড়িটি বাংলা গানের তালিকা করেছিল৷ এর মধ্যে ১৪টিই ছিল দেশাত্মবোধক৷ সেসব গানের তিনটি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা৷ এগুলো হলো ‘জয় বাংলা বাংলার জয়', ‘একতারা তুই দেশের কথা বল' এবং ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়'৷ তিনটিরই সুরকার আনোয়ার পারভেজ৷ এই তিনটির মতো তালিকায় থাকা ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে' আনোয়ার পারভেজের বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া৷ ভাই-বোন কেউই বেঁচে নেই৷

‘দেশাত্মবোধক গান বেশি করে হওয়া উচিত’

বিবিসির শ্রোতা জরিপে আধিক্য থাকলেও দেশের গানকে অনাদরে রাখার বিষয়টি বরাবরই পীড়া দেয় গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে৷ তিনি ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটা যুদ্ধ করা দেশকে আমরা স্বাধীনভাবে ভোগ করছি৷ সেই স্বাধীনতা পেতে এত মানুষ জীবন দিয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে এবং দেশের মাটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে আমাদের দেশাত্মবোধক গান অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে করা উচিত৷ আমি মনে করি, জাতীয় পর্যায়ে এমন গান আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়, যা দিয়ে দেশকে চেনা যায়৷ আমার জন্ম যখন এ দেশে, তখন আমার দায়িত্ব দেশের জন্য কিছু করা৷’’

বছরে বিশেষ দিবস ছাড়া টিভি কিংবা রেডিওতে দেশাত্মবোধক গানের প্রচার তেমন একটা হয় না এখন৷ স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসেই কেবল দেশের গান বাজে৷ তখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান শোনা যায় চারপাশে৷ তবে একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা শাহীন সামাদের আশঙ্কা, "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনেক গান হারিয়ে যাচ্ছে৷ এগুলো কোনোখানে সেভাবে সংরক্ষণ করা নেই৷ এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়৷ অথচ মুক্তিযুদ্ধে সেগুলো বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছে, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সাহস জুগিয়েছে৷ সেই শিল্পীদের অনেকে হারিয়ে গেছেন৷ যে ক'জন আছে তাদের দিয়ে গানগুলো নতুনভাবে রেকর্ড করলে সংরক্ষণ হবে, নতুন প্রজন্মও শিখতে পারবে৷ এজন্য সরকার বা কোনো পৃষ্ঠপোষককে এগিয়ে আসতে হবে৷ কিন্তু কারো মধ্যে তেমন ইচ্ছে দেখি না৷ একটা সময় পরে গানগুলোর খোঁজ করা হলেও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না৷”

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সুরযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম ডয়েচে ভেলেকে হতাশা নিয়ে বললেন, ‘‘একাত্তরের হাতেগোনা চার-পাঁচটি গান ছাড়া বাকিগুলোর কদর হয়নি৷ ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে', ‘নোঙর তোলো তোলো', ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর'– ঘুরেফিরে এগুলোই বাজানো হয়৷ এক্ষেত্রে টিভি চ্যানেল ও রেডিওগুলো ভূমিকা রাখতে পারে৷ তারা যদি অন্য গানগুলোও প্রচার করে, তাহলে সেগুলোর প্রসার হবে৷ কয়েক বছর আগে বেসরকারিভাবে স্বাধীন বাংলা বেতারের গানের দুটি সংকলন বেরিয়েছিল৷ এছাড়া ‘জাগরণের গান' এসেছিল কয়েকটি সিডিতে৷”

গীতিকবি কবির বকুল একই বিষয় সামনে আনলেন,‘‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে যারা দেশের গান করে, তারা পুরনো গানগুলোকেই আঁকড়ে ধরে আছে৷ ঘুরেফিরে ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা' কিংবা স্বাধীন বাংলা বেতারের চার-পাঁচটি গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ তারা৷ নতুন গান খুব কম হচ্ছে৷ নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম কতটা কাজ করে জানি না৷ তাদের মনে দেশাত্মবোধটা জাগে না বলেই হয়ত তারা এ ধরনের গান করার তাগিদ বোধ করে না৷”

শুধু ২৬ মার্চ এবং ১৬ ডিসেম্বরে কেন দেশের গান?

শাহীন সামাদের আক্ষেপ, সত্তর ও আশির দশকের মতো নতুন নতুন দেশাত্মবোধক গান এখন খুব একটা শোনা যায় না৷ তার প্রশ্ন, ‘‘নতুন প্রজন্ম যদি দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধের গান না শোনে, মুক্তিযোদ্ধাদের, কণ্ঠযোদ্ধাদের মনে না রাখে তাহলে কীভাবে এগোবে তারা?''

বেসরকারি টিভি চ্যানেল নতুন দেশের গান তৈরি করে না৷ এখনো রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের কালজয়ী দেশাত্মবোধক গানগুলো জাতীয় দিবসগুলোতে বাজানো হয়৷ রুনা লায়লা লন্ডন থেকে ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন আমার কাছে দেশের গান গাওয়ার অনুরোধ আসে না তেমন৷ আমার মনে হয় নতুন দেশের গান অবশ্যই হওয়া উচিত৷ নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান করছে৷ এ প্রজন্মের সুরকাররাও সুর করছে৷ কিন্তু সংখ্যাটা হাতেগোনা৷’’

গাজী মাজহারুল আনোয়ার জানালেন তিনি যেসব দেশের গান লিখেছেন, সবই লিখেছেন নিজের তাগিদে৷ তার কথায়, ‘‘দেশাত্মবোধক গান লেখা আনন্দের ব্যাপার এজন্য যে, তখন মনে হয় দেশের জন্য কিছু করলাম, মানুষের জন্য কিছু করলাম৷ বঙ্গবন্ধু যখন বললেন– এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, তখন দেশাত্মবোধক স্পৃহা সবার মনে তীব্র হয়ে উঠেছিল৷ সেটি ছিল আত্মতৃপ্তি৷ জাতীয় পর্যায়ে আত্মতৃপ্তি সৃজনশীল মানুষকে আরো বেশি সৃজনশীল করে তোলে৷’’

‘আমাদের এমন গান প্রয়োজনীয় যা দিয়ে দেশকে চেনা যায়’

এখনকার গীতিকবিরা কি নিজেদের আগ্রহে দেশের গান লেখেন? কবির বকুলের উত্তর, ‘‘আমি দেশাত্মবোধক অনেক গান লিখেছি৷ এর মধ্যে কিছু নিজে থেকেই লেখা, কিছু ফরমায়েশি৷ বিটিভি বা বেতার থেকেই বেশি লেখার অনুরোধ পেয়েছি৷ গান লেখাটা যেহেতু আমার পেশা, তাই দেশের গান আমার লেখাই থাকে৷''

তরুণ গীতিকবি রবিউল ইসলাম জীবন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, দেশের গানের চাহিদা কম থাকায় কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না৷ তিনি নিজে থেকে দেশাত্মবোধক গান লিখেছেন৷ সেগুলোর কিছু প্রকাশিত হয়েছে৷ তার কথায়, ‘‘শিল্পীদের চাহিদা থাকলে নিয়মিত লেখা যায়৷ আমার যেহেতু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নেই, তাই আমি চাইলেও এ ধরনের কাজ বেশি করতে পারি না৷’’

এ প্রজন্মের আরেক গীতিকবি সোমেশ্বর অলির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই, ‘‘যেহেতু আমি নিজের উদ্যোগে প্রযোজনা করি না, তাই দেশের গান নিয়মিত লেখা হয় না৷ সম্প্রতি ‘স্ফূলিঙ্গ' ছবিতে একটি লিখেছি৷ আগে দিবসভিত্তিক হলেও দেশের গান হতো৷ এখন প্রযোজক কমে গেছে৷ এ কারণে অন্য গানও বেশি হয় বলা যাবে না৷ একইভাবে দেশের গানও কমেছে৷”

রয়্যালিটি কতদূর

সংগীতাঙ্গনে এখন রয়্যালটি আলোচিত একটি বিষয়৷ শিল্পীরা এ বিষয়ে অন্য যে-কোনো সময়ের চেয়ে এখন সচেতন৷ কিন্তু দেশাত্মবোধক গান নিয়ে শিল্পীরা হতাশা প্রকাশ করলেন৷ রুনা লায়লা বলেন, ‘‘আমি কোনো রয়্যালিটি পাই না৷ আমাদের দেশে দুই-একজন হয়ত কিছু পেয়েছে, তবে যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি৷''

গাজী মাজহারুল আনোয়ার উল্লেখ করলেন, বেতার থেকে যে রয়্যালিটি আসে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়৷ অবশ্য নিজের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড মানুষের গ্রহণযোগ্যতার মাঝে এলেই তা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন তিনি৷ তবে তার মতে, ‘‘জীবন চলার জন্য অর্থনৈতিক একটা দিক তো থাকে৷ প্রাপ্তি একদম না হলে মানুষ চলবে কী করে? কর্ম করলে প্রাপ্তিটা তো আসতেই হবে৷’’

সুজেয় শ্যাম জানালেন, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী হিসেবে সরকার থেকে একটা ভাতা পেয়ে থাকেন তিনি৷ তবে টিভি-বেতার থেকে রয়্যালটি না পাওয়া নিয়ে হতাশা ঝরলো তার কণ্ঠে৷

সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হোক দেশ

দেশের গান ৫০ বছর ধরে একই ধারায় রয়েছে চলচ্চিত্রের মতোই৷ গত দেড় বছর যখন রাষ্ট্র মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে গুরুত্ব দিয়েছে, তখন এক্ষেত্রেও এর একটা প্রভাব পড়েছে৷ এর মাধ্যমে নতুন কিছু দেশের গান হয়েছে৷ আশঙ্কার কথা, এরপরে কি চিত্রটা আগের মতোই হয়ে যাবে? রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা কিংবা বিশেষ কোনো দিবস ছাড়া দেশের গান কি অবহেলিতই থাকবে?

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মন্তব্য, ‘‘আমাদের দেশাত্মবোধক গান সুন্দরভাবে করা উচিত এবং প্রবল ধারায় করা উচিত৷ অতীত তো শুকিয়ে যায়নি৷ আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে সবাইকে উৎসাহিত করে আবারও কাজে লাগতে হবে৷ একাত্তরে প্রয়োজন ছিল স্বাধীনতার, এখন প্রয়োজন স্বাধীন দেশকে সংস্কৃতি দিয়ে সমৃদ্ধি করা৷’’

শাহীন সামাদের পরামর্শ, ‘‘গানগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত৷ প্রতিটি চ্যানেল যদি প্রতিদিন একটি করে দেশাত্মবোধক, গণসংগীত কিংবা একাত্তরের গানগুলো প্রচার করে তাহলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ তবে সেসব হতে হবে নতুন প্রজন্মের জন্য উপযোগী৷’’

 

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Wahl in Italien - Stimmabgabe

ইটালির নির্বাচনে ডনপন্থিদের ক্ষমতায় আসার আভাস

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান