মিয়ানমারে সহিংসতায় নিহত ৮৯ | বিশ্ব | DW | 25.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মিয়ানমারে সহিংসতায় নিহত ৮৯

চরমপন্থি বিদ্রোহীদের হামলা এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৮৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, অস্ত্রধারী বিদ্রোহীরা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্ট ও একটি সেনাঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালায়৷

default

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংতায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে

শুক্রবার গভীর রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখনও বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে চলার খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম৷ মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের এই রাজ্যে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করলো এই হামলা৷ অক্টোবরে একই ধরনের হামলার পর সেনাবাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালায়৷ এই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে৷

অক্টোবর হামলায় জড়িত আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি (এআরএসএ) শুক্রবারের হামলারও দায় স্বীকার করেছে৷ এ ধরনের আরো হামলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র এ সংগঠনটি৷

নিহত ৩২ জনের মধ্যে ২১ জন বিদ্রোহী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১১ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী৷

Myanmar Regierung weist Genozid-Vorwürfe an Rohingya zurück

আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি (এআরএসএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে

‘‘রাত একটার দিকে বাঙালি সন্ত্রাসীরা উত্তর রাখাইনের মংডুতে একটি পুলিশ স্টেশনে হাতে তৈরি বোমা নিয়ে হামলা চালায়৷ এরপর একই সাথে হামলা চালানো হয় আরো কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে'', এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় নেতা অং সান সুচির প্রেস দল৷

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না৷ দেশটির সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে রোহিঙ্গা কোনো স্বতন্ত্র জাতিসত্তা নয়, বরং বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যাওয়া বাঙালি৷ দেশটির নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমেও অধিকাংশক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি' বলে সম্বোধন করা হয়৷ তবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক বলেই মনে করে৷

Symbolbild Gewalt gegen die muslimische Rohingya-Minderheit in Myanmar

অং সান সুচির নিষ্ক্রিয়তাকে দুষছেন অনেকে

কয়েক দশকের সেনাশাসন থেকে গণতন্ত্রের পথে হাঁটলেও এখনও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ১১ লাখেরও বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা নিপীড়ন থামেনি৷ বছরের পর বছর ধরে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন, ধরপাকড় ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে বিপুল সংখ্যায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন রোহিঙ্গারা৷ সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বৈধ-অবৈধভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা৷ ভারতেও বিপুল সংখ্যায় রোহিঙ্গাদের বসবাস৷

বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও, তাতে কার্যকর কোনো ফল আসেনি৷

রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতা ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে শুক্রবার রাত থেকেই দলে দলে রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকিয়ে নিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করেন৷ তবে প্রতিবারের মতোই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত থেকে আবার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছেন রোহিঙ্গাদের৷

Myanmar Improvisierter Fischfang der Rohingya wegen eines Verbots von Fischerbooten

নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা

কয়েকটি নৌকায় আসা মোট ১৪৬ জন রোহিঙ্গাকে খাবার, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা৷ তবে রাখাইনে সহিংসতা চলতে থাকলে আরো রোহিঙ্গা সীমানা পাড়ি দিতে পারেন বলে আশংকা করছে বাংলাদেশ৷

এদিকে, আগস্টের শুরু দিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছে ‘অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত' করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে৷ এদের মধ্যে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাও রয়েছে৷ চিঠিতে শরণার্থীদের ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি' এবং দেশটির সম্পদের ওপর 'বোঝা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ তবে দেশে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জোর করে আবার ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা জানিয়েছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন৷

ওদিকে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তদন্তে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি মিয়ানমার সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে৷ এতে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘স্টেটলেস পিপল' বা ‘দেশহীন জনগোষ্ঠী' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷

রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারকে আহ্বানও জানিয়েছে কোফি আনান কমিশন৷ তবে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিয়ানমার সরকার৷

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি গত বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানকে প্রধান করে এই পরামর্শক কমিটি গঠন করেন৷

এডিকে/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়