‘মিয়ানমারে গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে মৃত্যু’ | বিশ্ব | DW | 12.06.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘মিয়ানমারে গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে মৃত্যু’

মিয়ানমারে গুলিতে আহত এক রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে৷ সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সম্ভবত এই ব্যক্তি আহত হয় বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ পুলিশ৷

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে সহিংসতায় গত শুক্রবার থেকে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫৷ এই হিসাব অবশ্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা, রোহিঙ্গা মুসলমান আর বৌদ্ধদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি৷ রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করা সংগঠন, ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’এর দাবি হচ্ছে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা কয়েক ডজন৷
বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে তার নাম কালা হোসেন৷ বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন মিয়ানমার থেকে আসা এই রোহিঙ্গা মুসলমান৷ তার বয়স পঞ্চাশ বছর৷
মৃত্যুর পূর্বে কালা বলেছেন, তিনি গত ৮ জুন মিয়ানমারের মাউনেগডাও শহরে ধর্মীয় প্রার্থনা শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত হন৷ বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমার’এর এই শহর থেকে আহত অবস্থায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন তিনি৷ বার্তাসংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন৷ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে আরো দুই গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা মুসলমান চিকিৎসা গ্রহণ করছে৷ এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, তার মাথায় গুলি লেগেছে, জানান নাসির৷

Polizei in Birma Myanmar

বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যকার সংঘাত দমনে রাখাইন’ রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার


এদিকে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন৷ এই অস্থিরতা সেদেশের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্লিন্টন৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধশালী এবং গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে আমরা বার্মার নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি, যে দেশ সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবে৷’’
বলাবাহুল্য, বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যকার সংঘাত দমনে রাখাইন’ রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার৷ সংকট নিরসনে সেদেশের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের কারণে মিয়ানমারের উপর যেসব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল, সম্প্রতি সেগুলো স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ৷
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অনেক মুসলমানের বাস৷ এই মুসলমানদের মধ্যে একটি বড় অংশ আবার নাগরিকত্ববিহীন রোহিঙ্গা৷ জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ রোহিঙ্গাদের একটি অংশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বাস করছে৷ সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবশ্য রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে৷
প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন