মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান সিপিএ সম্মেলনে | বিশ্ব | DW | 05.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান সিপিএ সম্মেলনে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷

রবিবার ঢাকায় ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের (সিপিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান৷ এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় ফোরাম৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর ভাইস প্যাট্রন৷ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে এর চেয়ারপার্সন৷

শেখ হাসিনা সিপিসি'র উদ্বেধনী বক্তৃতায় বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা শুধু এ অঞ্চলে নয়, এর বাইরেও অস্থিরতা তৈরি করছে৷ মিয়ানমার সরকারের এমন আচরণের জন্য সেখান থেকে ৬ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে৷ ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে৷''

Bangladesch - Premierminister Sheikh Hasina

সাড়ে পাঁচশ মত প্রতিনিধি এ সম্মেলন অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন

তিনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে আমরা এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছি৷ আপনাদের অনুরোধ জানাবো রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করুন৷ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের ফেরত নিতে আপনারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, রোহিঙ্গা সমস্যার পেছনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই, সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই নিহিত৷''

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়-এই নীতির ভিত্তিতে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালিত হয়৷ বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে আমরা সব সময়ই সুসম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি৷ এর ফলে আমরা ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি এবং স্থল সীমানা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করতে পেরেছি৷ একইভাবে মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে৷''

অডিও শুনুন 01:03
এখন লাইভ
01:03 মিনিট

‘সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা রয়েছে’

সিপিএ'র বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সদস্য এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ দেশগুলোর আইন প্রণেতাদের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন৷ আমরা চাই এখন তারা নিজ নিজ দেশের সংসদে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব পাশ করুক৷ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে৷ কমনওয়েলথভুক্ত দেশের আইন প্রণেতারা সেচ্চার হলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে মিয়ানমারের ওপর৷''

সম্মেলনে যে সংসদ সদস্য, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা প্রতিনিধিরা এসেছেন তারা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানালেন তিনি৷ বললেন, ‘‘তারা রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্যাতনকে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হিসেবে দেখছেন৷ আর তারা বাংলাদেশের মানবিকতার প্রশংসা করেছেন৷'' আব্দুর রাজ্জাক আরো জানান,‘‘সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা রয়েছে৷''

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন(সিপিএ) এর সদস্য ৫২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশ, ১৮০টি শাখার মধ্যে ১১৪টি শাখা এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে৷ তিন দিনের সম্মেলনে এসব দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যসহ সাড়ে পাঁচশ মত প্রতিনিধি এ সম্মেলন অংশ নিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসেছেন৷

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠ অংশীদারিত্ব সংলাপে রোহিঙ্গা সংকট

এদিকে রবিবার ঢাকায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠ অংশীদারিত্ব সংলাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,‘‘রোহিঙ্গা সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র৷''

এক সংবাদ সম্মেলনে শ্যানন বলেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্যার সমাধান করাভ আমরা এজন্য মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি৷ রোহিঙ্গারা যে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে সেটি সমাধানের চেষ্টা করছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মিয়ানমার সফর করেছেন৷ এছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে৷ আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কিন্তু সেটি আমরা ভাবছি না৷ আমরা এখন সমাধান চাই, কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়৷''

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি৷''

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি৷ যুক্তরাষ্ট্র এ ইস্যুতে আমাদের অন্যতম সহযোগী৷ গত দুই মাসে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য ৩১টি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷'' রোহিঙ্গা ছাড়াও আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়