মিস ফিল্ডিংয়ের খেসারতে পাকিস্তানের রানের পাহাড় | বিষয় | DW | 05.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট বিশ্বকাপ

মিস ফিল্ডিংয়ের খেসারতে পাকিস্তানের রানের পাহাড়

পরম প্রার্থিত প্রথম উইকেট দ্রুতই পেয়ে যায় বাংলাদেশ; ইনিংসের অষ্টম ওভারে৷ কিন্তু এ সুবিধা নিয়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারল কই!

যাচ্ছেতাই ফিল্ডিংয়ে অনেক রান উপহার দিয়েছে; সঙ্গে একের পর এক 'জীবন'৷ সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে রানের পাহাড়ে পাকিস্তান৷ ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান তাঁদের৷

চ্যালেঞ্জ নিয়েই তাই এ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের শেষ ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামবে তাই বাংলাদেশ

এ খেলার গুরুত্ব এমনিতে ততটা নেই৷ সেমিফাইনালে ওঠার রেস থেকে আগেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশ৷ পাকিস্তানের যতটুকু সম্ভাবনা, সেটি আক্ষরিক অর্থেই কাগজ-কলমে৷ তা বাস্তবায়িত হওয়ার নূন্যতম সম্ভাবনাও ছিল না৷ দুই দলের সামনে বিশ্বকাপটি ভালোভাবে শেষ করার উপলক্ষ্যই ঝুলে ছিল এ ম্যাচের আবহে৷ বাংলাদেশের জন্য বাড়তি আরেক প্রণোদনা৷ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজার জন্য খেলা৷ বিশ্বকাপে এটি নিশ্চিতভাবেই তাঁর শেষ ম্যাচ৷ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও কি?

এ ম্যাচে অবসরের ঘোষণার গুঞ্জন ছিল প্রবল মাত্রায়৷ সেটি হোক বা না হোক, দীর্ঘদিনের অধিনায়কের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখার তাড়না ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের৷

যদিও জঘন্য ফিল্ডিংয়ের সময়ের শরীরী ভাষায় তা মনে হয়নি৷

গড়পড়তা ফিল্ডিং বিশ্বকাপজুড়েই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে৷ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেন উইলিয়ামসনের সহজ রান আউট করতে পারেননি মুশফিক৷ ২৪৪ রান ডিফেন্ডর করায় সেটি ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷ সে রান আউট হলে ৭২ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে নিউজিল্যান্ডের; ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারত বাংলাদেশ৷ সেটি হয়নি; তৃতীয় উইকেট পড়তে পড়তে কিউইদের রান ১৬০ হয়ে যাওয়ায় আফসোস আরো বেড়েছে৷ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ পয়েন্টে ছেড়েছেন সাবি্বর রহমান৷ ১০ রানে থাকা ওই ওপেনার পরে যোগ করেন আরো ১৫৬ রান৷ এখানেই শেষ নয়৷ ভারতের বিপক্ষে রোহিত শর্মার ক্যাচ ছাড়েন তামিম ইকবাল৷ ৯ রানে জীবন পেয়ে ১০৪ করেন রোহিত; ১৮ রানে যেখানে প্রথম উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ, সেই 'প্রথম' শিকারের স্কোরবেকার্ডে ১৮০ রান উঠে যেতে দেখে মাশরাফি বিন মোর্তজার দল৷

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও বাজে ফিল্ডিংয়ের ধারা অব্যাহত বাংলাদেশের!

টসজয়ী ব্যাটিং নেয়া পাকিস্তানের প্রথম উইকেট তৃতীয় ওভারেই পেতে পারত মাশরাফির দল৷ মিড অফ ফিল্ডার যথেষ্ট তত্‍পর ছিলেন না বলে ফখর জামান রান আউট হননি৷ এটি তেমন আফসোসে পোড়ায়নি বাংলাদেশকে৷ সপ্তম ওভারে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন জামান (১৩)৷ তবে ১ রানের সময় ইমাম-উল-হকের রান আউট সুযোগ মিস করা ভুগিয়েছে মাশরাফির দলকে৷ ইমাম ও বাবর আজমের জুটিতে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান৷

২২তম ওভারে দলীয় ১০০-তে পৌঁছে যায় সরফরাজ আহমেদের দল৷ পরের ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনকে বাউন্ডারি মেরে নিজের ফিফটিতে পৌঁছান আজম৷ এর কয়েক ওভার পরই মুস্তাফিজুর রহমানের বলে পয়েন্টে তাঁর ক্যাচ ফেলেন মোসাদ্দেক৷ ৫৭ রানে থাকা আজমের তখন এ বিশ্বকাপের মোট রান ৪৩৫৷ পাকিস্তানীদের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ রানে ১৯৯২ টুর্নামেন্টে জাভেদ মিয়াঁদাদের ৪৩৭ রানের রেকর্ডটি এরপর আর অক্ষত থাকেনি৷ পরে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেলা আজম পর পর দুটি চার মেরে সেঞ্চুরি থেকে আরেকটি চারের দূরত্বে পৌছে যান৷ কিন্তু সাইফের পরের বলে হয়ে যান এলবিডাব্লু৷ ৯৮ বলে ৯৬ রানের ইনিংস যায় থেমে৷ ভেঙে যায় ১৫৭ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি৷

ইনিংসের তখন মোটে শেষ হয়েছে ৩২ ওভার৷ সাড়ে তিনশ'র চোখ রাঙাচ্ছিল পাকিস্তান৷ কিন্তু এরপর ভালো নিয়ন্ত্রণ দেখায় বাংলাদেশের বোলাররা৷ ফিল্ডিংয়ের নাটকীয় কোনো উন্নতি অবশ্য হয়নি৷ মুস্তাফিজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ইমাম পৌঁছে যান সেঞ্চুরির মাইলফলকে৷ ৩৬তম ওয়ানডেতে এটি তাঁর সপ্তম শতরান৷ কিন্তু এক বল পরই হিট উইকেট হলে শেষ হয়ে যায় ইমামের ১০০ বলে ১০০ রানের ইনিংস৷ আর হারিস সোহেলকে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের শততম উইকেট নেন মুস্তাফিজ; ৫৪তম ম্যাচে৷ ওয়ানডেতে দ্রুততম শত উইকেটের তালিকায় এখন শেন বন্ডের সঙ্গে চতুর্থতে কাটার মাস্টার৷ রশিদ খান (৪৪), মিচেল স্টার্ক (৫২) ও সাকলাইন মুশতাকের (৫৩) পর৷

শেষ ১০ ওভারে ৮৫ রান করে স্কোরটাকে ৩১৫ নিয়ে যায় পাকিস্তান৷ পাঁচ শিকার মুস্তাফিজের; তিনটি সাইফের৷ মাত্র এক উইকেট পেলেও ১০ ওভারে ৩০ রানের বেশি দেননি মেহেদী৷ তুলনায় আবারও বড্ড নিষ্প্রভ মাশরাফি৷ সাত ওভারে ৪৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য৷ পুরো বিশ্বকাপে একটিমাত্র উইকেট তাঁর; গড় ৩৬১! অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্স একেবারেই অপ্রত্যাশিত৷

এখন সতীর্থরা যদি তাঁকে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় উপহার দিতে পারেন বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে! হয়তো-বা ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়