মিথ্যা ধরার নতুন প্রযুক্তি | অন্বেষণ | DW | 11.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মিথ্যা ধরার নতুন প্রযুক্তি

সম্ভাব্য অপরাধীকে জেরার সময় তদন্তকারীরা কখনো ‘লাই ডিটেক্টর’-এর সাহায্যে মিথ্যা বক্তব্য শনাক্ত করেন৷ এবার আরও নির্ভরযোগ্যভাবে মিথ্যা ধরার তোড়জোড় চলছে৷ আধুনিক এই যন্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে৷

default

মস্তিস্কের ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে কাজ করে এই লাই-ডিটেক্টর

একটা খুন হয়েছে৷ কিন্তু খুনিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে৷ এমন অবস্থায় পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে৷ লাই-ডিটেক্টর পরীক্ষায় ফাঁকি দেওয়া যায় বলে তা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়৷ প্রমাণ হিসেবে তার ফলাফল যথেষ্ট নয়৷

বার্লিনের স্নায়ুবিজ্ঞানী জন-ডায়লান হেনস একেবারে নতুন ধরনের এক লাই-ডিটেক্টর তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন৷ এই যন্ত্র হবে ত্রুটিহীন এবং এর প্রয়োগে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকবে না৷ সচেতনভাবে কেউ মিথ্যা কথা বলছে কিনা, তা শনাক্ত করার বদলে এই যন্ত্র অপরাধস্থল সম্পর্কে অকাট্য তথ্য মিলিয়ে দেখবে৷ হেনস বলেন, ‘‘কেউ সত্যি না মিথ্যা বলছে, তা জানতে চাইলে হয় তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা যেতে পারে৷ যেমন ‘তুমি কি ঘটনাস্থলে ছিলে?’, ‘তুমি কি এই অস্ত্র ব্যবহার করেছো?’ ইত্যাদি৷ অথবা সরাসরি তার মস্তিষ্কে উঁকি মেরে দেখা যেতে পারে, সে কোনো কিছু চেনার লক্ষণ দেখাচ্ছে কিনা৷ একবার কিছু দেখে থাকলে মস্তিষ্ক আবার তা চিনতে পারে৷ কোনো অপরাধ করে থাকলে সেটা মনে পড়লে মস্তিষ্কে কিছু লক্ষণ দেখা যায়৷’’

একবার কোনো জায়গায় গিয়ে থাকলে কি সারা জীবন ধরে তার ‘নিউরোনাল ইমেজ মনে থাকে? হেনস-এর টিম এক ধরনের ভিডিও গেমস-এর মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে৷ এই পরীক্ষার আওতায় স্বেচ্ছাসেবীরা ভার্চুয়াল বাড়িঘর ও এলাকার মধ্য দিয়ে চলে যাচ্ছেন৷ যা দেখছেন, সেই সব কিছু মনে রাখা তাদের দায়িত্ব৷

এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে খুনি, ডাকাত বা হামলাকারীকে শনাক্ত করতে কাজে লাগতে পারে৷ তখন ঘটনাস্থলের ছবি দেখিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিউরাল প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা হবে৷ গোটা প্রক্রিয়াটা কোনো কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রে লাই ডিটেক্টর যন্ত্রের মতো মনে হয়৷

ভিডিও দেখানোর পর স্বেচ্ছাসেবীদের মস্তিষ্কে বিকিরণ করা হবে৷ এক মনিটরের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তাদের পরিচিত ও অপরিচিত জায়গার ফিল্ম দেখিয়ে তাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন৷ এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মানুষের মন পড়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল৷ প্রথমে গবেষকদের জানতে হবে, কোনো ব্যক্তি একটি জায়গা দেখে থাকলে তার মস্তিষ্কে ঠিক কোন ক্রিয়া ঘটে৷ তারপর সেই প্যাটার্ন বা বিন্যাস কম্পিউটারকে শেখাতে হবে৷

নিউরাল লাই ডিটেক্টর অবশ্যই কাজ করছে৷ কোনো ব্যক্তি কোনো জায়গা একবার দেখে থাকলে মস্তিষ্কের কিছু অংশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷ তখন মিথ্যা বলে কোনো লাভ হয় না৷

বিজ্ঞানীরা আরও এক ধাপ এগিয়ে অপরাধ ঘটার আগেই মস্তিষ্কের বিন্যাসের সাহায্যে সম্ভাব্য অপরাধীকে শনাক্ত করতে চান৷ জন-ডায়লান হেনস বলেন, ‘‘অত্যন্ত দ্রুত এক স্ক্রিনিং টেস্ট করতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো৷ তবে আমার মনে হয় না, আগামী বছরগুলিতে সেটা সম্ভব হবে৷ কারণ কোনো ব্যক্তির খারাপ অভিসন্ধির মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য থাকতে পারে৷ তার মনে বোমা বা পিস্তল দিয়ে হামলা চালানো, পণবন্দি করার মতো মতলব থাকতে পারে৷ অর্থাৎ আমাদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব সম্ভাব্য মতলব খুঁজতে হবে৷ এই মুহূর্তে সেটা খুবই কঠিন কাজ৷’’

কিন্তু সেই মতলবের অস্তিত্ব যদি শুধু কল্পনার জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন কী করা যায়? সেই মতলব বাস্তবে কার্যকর না করলেও কি কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা যেতে পারে? মনের কথা আগেভাগে জেনে অপরাধীকে থামানোর সম্ভাবনা থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে রয়েছি৷

ভিডিও দেখুন 04:04
এখন লাইভ
04:04 মিনিট

ফরেনসিক গোয়েন্দার ক্ষমতা

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন