মাস্ক, লকডাউনকে যেভাবে দেখেছেন গ্রামের মানুষ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

মাস্ক, লকডাউনকে যেভাবে দেখেছেন গ্রামের মানুষ

লকডাউন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং, ফেস মাস্ক ইংরেজি এ শব্দগুলো শহুরে শিক্ষিত মানুষদের কাছে বেশি বোধগম্য৷ দেশব্যাপী যখন অঘোষিত লকডাউন আরোপ করা হয় তখন এ বিষয়গুলো গ্রামের মানুষের কাছে কি কোনো অর্থ তৈরি করেছিল?

উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা৷ গলির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট, বাস কিংবা রেল স্টেশন- সবখানেই মানুষের আলোচনা ঘুরেফিরে করোনা ভাইরাস নিয়ে৷ সামান্য ঠান্ডা, সর্দি হলেই কেউ কেউ যেন সন্দেহ করছে৷ করোনা ভাইরাসের প্রথমদিকে অনেকটা এমেনই ছিল রাজধানীর চিত্র৷

কিছুদিন পর শুরু হলো লকডাউন৷ পরবর্তী দুমাস প্রায় চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাটায় ঢাকার বাসিন্দারা৷

কিন্তু কেমন ছিল গ্রামের মানুষেরা? কতটাই বা তারা বুঝতে পেরেছিল মাস্ক ব্যবহার আর সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের গুরুত্ব?

আমার সুযোগ হয়েছিল ‘লকডাউনের’ পুরো সময়টা গ্রামে কাটানোর৷ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে একটি গবেষণার কাজে বাংলাদেশে যাই৷ প্রস্তুতি ছিল মার্চের ৩০ তারিখে জার্মানি ফিরবো৷ কিন্তু মার্চের শেষ সপ্তাহে লকডাউন আরোপ হওয়ায় দেশের সাথে সব আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, আটকে যায় আমার মতো অনেকেই৷ সেই আটকে যাওয়া এতে দীর্ঘায়িত হবে প্রথমে বুঝতে পারিনি৷ লকডাউন শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন গ্রামে চলে যাই, একটু বাড়তি নিরাপত্তার আশায়৷ আর সেখানেই কাটে আমার পরবর্তী চার মাস৷

খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করছিলাম করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ আশঙ্কাকে কীভাবে নেয় গ্রামের মানুষেরা৷ গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য সচেতনতা, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার মূলমন্ত্র, তুলনামূলক কম বলে ধরা হয়ে থাকে৷

মুখে মুখে মাস্কের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছিল আমরা বিশেষ কোন একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি৷ এমনকি বাড়ি বাড়ি ঘুরে গৃহস্থালিসামগ্রী বিক্রেতাদের ঝুড়িতেও দেখা গেছে এ পণ্যটি৷ বাজারগুলোতে দেখলাম দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, তবে সবসময় যে সফল হয়েছে তা বলা যাবে না৷

সারাদিন সরব থাকা হাইওয়েগুলোতে ছিল শুনশান নীরবতা৷ নেই কোনো যান, মানুষের চলাচলও সীমিত৷ যেমনটা ভেবেছিলাম লকডাউন হয়তো শহরকেন্দ্রিকই হবে, সে ধারণাটায় কিছুটা হলেও ছেদ পড়লো আমার৷ দেখলাম, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা৷ পাড়ার ছেলেদের খেলার মাঠ থেকে গ্রামের বাজার পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করছে তারা৷ গ্রামে এমন পরিস্থিতি আমি আগে কখনো দেখিনি৷ চলাফেরা সীমিত করে দেওয়ার এ সরকারি সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছে অনেকেই, সহযোগিতাও করতে দেখেছি কাউকে কাউকে৷

এর উল্টো চিত্রও বেশ পরিষ্কার ছিল৷ ফেসমাস্ক কেন ব্যবহার করতে হবে এর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় এমন অনেককেই পেয়েছি৷ এটা পশ্চিমাদের আবিষ্কার, বলেছেন কেউ কেউ৷ করোনা যখন বাংলাদেশে ধরা পড়ে, তখন গ্রীষ্মের শুরু৷ তীব্র গরমে তাই ফেসমাস্ক পরাকে বাড়তি চাপ হিসেবেই দেখেন তারা৷ দেখেছি সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং নিয়েও মানুষের বিভ্রান্তি৷

একটি বিষয়কে যদি পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা না করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এর অর্থ মানুষ নিজের মতো করে দাঁড় করাবে ও নিজ জীবনে আরোপ করবে, এটাই স্বাভাবিক৷ আর তাই উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক যোগযোগবিদ্যা বলছে, যোগাযোগের সফল সূত্র হলো যাকে আপনি বলছেন তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ব্যাখ্যা করা৷

করোনা ভাইরাসের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়গুলো সমাজে খুব একটা নতুন নয়৷ যেমন ধরুন, ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে শহরে কিংবা গ্রামে অনেকেই মাস্ক পরে থাকেন৷ নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার থাকাও অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনের অংশ৷ এ বিষয়গুলোকে যদি তাদেরকে তাদের মতো করে বুঝানো যেতো, তাহলে হয়তো আরো ভালো ফল পেতাম আমরা৷

(DW/S. Islam)

রাহাত রাফি, ডয়চে ভেলে

লকডাউনের প্রথম শিকার ছিল পরিবহণ খাত৷ এ খাতে শহরে কর্মরত প্রায় সবায়ই উপার্জনহীন অবস্থায় গ্রামে ফিরে এসেছে৷ গ্রামে ফিরেছে শহরেরে শ্রমিক শ্রেণি৷ যা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে গ্রামের সমাজে৷ 

এদিকে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে বন্ধ হয়ে গেছে রুটি রুজি৷ সরকারি সহয়তা যতটা পাচ্ছিল তা যথেষ্ট নয়৷ এক পর্যায়ে তারা আর পাত্তা দিতে চাইলো না স্বাস্থ্য বিধিগুলোকে, ভেঙে পড়ল লকডাউন আর সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং-এর সব চর্চা৷

শুধু বাংলাদেশ নয়, করোনা ভাইরাস থামিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকেই৷ গ্রামের মানুষের কাছে নতুন এ ধারণাটি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে ভালোই৷ সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচারে চিরাচারিত যোগাযোগ প্রথাকে বদলে দিয়েছে৷ হয়তো আমরা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যাবো, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে থাকবে লকডাউন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং, ফেস মাস্কের ধারণাগুলো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন