মাস্ক পরতে বলায় তরুণকে হত্যা, চরমপন্থার উত্থান নিয়ে জার্মানিতে উদ্বেগ | বিশ্ব | DW | 22.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

মাস্ক পরতে বলায় তরুণকে হত্যা, চরমপন্থার উত্থান নিয়ে জার্মানিতে উদ্বেগ

মাস্ক পরতে বলেছিলেন ২০ বছর বয়সি এক তরুণ৷ তাই ক্রেতা গুলি করে হত্যা করে তাকে৷ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন আন্দোলনের আড়ালে চরমপন্থার উত্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদেরা৷

শনিবার জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের ইডার-ওবারস্টাইন শহরের এক গ্যাস স্টেশন সংলগ্ন দোকানে এক ব্যক্তি বিয়ার কিনতে যান৷ কিন্তু মাস্ক না পরায় ২০ বছর বয়সি তরুণ তাকে জানিয়ে দেন, মাস্ক না পরলে বিয়ার দেয়া যাবে না৷ ৪৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি তখন রেগেমেগে চলে গেলেও আধ ঘণ্টা পর মাস্ক পরে ফিরে আসেন৷ সঙ্গে নিয়ে আসেন লাইসেন্সবিহীন বন্দুক৷ সেই বন্দুক দিয়েই গুলি চালান দোকানের ওই তরুণকে৷

তরুণকে লুটিয়ে পড়তে দেখে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান হামলাকারী৷ তবে রবিবার সকালে নিজেই ধরা দিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি করোনা-স্বাস্থ্যবিধি মানেন না, তাই মাস্ক পরতে বলায় আর রাগ সামলাতে পারেননি৷

সোমবার ট্রিয়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, গুলি চালানোর কথা স্বীকার করা ব্যক্তি জার্মান নাগরিক৷ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

চ্যান্সেলর প্রার্থীদের ক্ষোভগোয়েন্দা কর্মকর্তার হতাশা

এ ঘটনায় জার্মানির শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ আসন্ন নির্বাচনে সবুজ দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী আনালেনা বেয়ারবক নিহতের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘‘আইন মেনে শুধু মাস্ক পরতে বলায় এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে- ভয়াবহ এ ঘটনায় আমি স্তম্ভিত৷ তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানাই৷’’ এ ঘটনায় করোনা-স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতার আড়ালে বেড়ে চলা চরমপন্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘চরমপন্থার উত্থান নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন৷ক্রমশ বেড়ে চলা ঘৃণার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে৷’’

এ বিষয়ে এসপিডি এবং সিডিউ-এর চ্যান্সেলর প্রার্থীরাও একমত৷ এসপিডির চ্যান্সেলর প্রার্থী ওলাফ শলৎস টুইটারে লিখেছেন, ‘‘নিজেকে এবং অন্যদের (করোনার হাত থেকে) রক্ষা করতে চাওয়ায় একজনকে হত্যা করা হয়েছে জেনে আমি স্তম্ভিত৷ ঘৃণার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে পুরো সমাজকে৷’’ আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল সিডিইউ-এর চ্যান্সেলর প্রার্থী আরমিন লাশেটও একইভাবে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক টুইটবার্তায় সবার প্রতি এমন তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান জানিয়েছেন৷

করোনা সংক্রমণ রোধে জার্মানিতে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই আন্দোলনে নামে কুয়ারডেঙ্কেন গ্রুপ৷ লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে প্রকাশ্যে করোনা-বিরোধী অপপ্রচার শুরু করে তারা৷ বিক্ষোভ দেখায় করোনাবিধির বিরুদ্ধে৷ পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয় কয়েকটি শহরে৷

অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ফেসবুক৷ সম্প্রতি কুয়ারডেঙ্কেন গ্রুপের দেড়শ'টির মতো অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ সরিয়ে ফেলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির এ পদক্ষেপ চলতে থাকবে৷

তবে টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান স্টেফান ক্রামার মনে করেন, জার্মানিতে এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে আরো আগেই কঠোর হওয়া উচিত ছিল৷ আরএনডি মিডিয়া গ্রুপকে তিনি জানান, মাস্ক পরতে বলায় এক তরুণকে হত্যা করার ঘটনা তাকে মোটেই বিস্মিত করেনি, কারণ, পরিস্থিতি যে এমন দিকে যাচ্ছে তা তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন এবং এ বিষয়কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি৷ তাই হতাশা নিয়েই আরএনডিকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এটা খুব অনুতাপের বিষয় যে কারো প্রাণহানির পরই কেবল ঝুঁকির বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়৷’’

জন সিল্ক/এসিবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়