মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব দোষী প্রমাণিত | বিশ্ব | DW | 28.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব দোষী প্রমাণিত

মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক দুর্নীতির মামলায় দোষী বলে জানাল আদালত। অর্থ নয়ছয়, বিদেশে পাচার সহ মোট সাতটি অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। 

 মালয়েশিয়ায় ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রথম রায় এল। সেখানে সাতটি অভিযোগের ক্ষেত্রে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। তিনটি ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ, তিনটি ক্ষেত্রে অর্থ বিদেশে পাচার এবং একটি ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করার দায়ে নাজিব দোষী বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে কী শাস্তি হবে তা বিচারপতি জানাননি। এই ধরনের প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচুর জরিমানা সহ ১৫ থেকে ২০ বছরের জেল হতে পারে। নাজিবের আইনজীবীরা চেষ্টা করছেন, যাতে শাস্তি ঘোষণাটা দেরি করে হয়।  

নাজিব জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে আবেদন জানাবেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ব্যাঙ্কাররা বিপথচালিত করেছিল। আর তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা পুরোপুরি রাজনৈতিক।

কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচরপতি মোহাম্মদ নাজলান ঘাজালি দুই ঘণ্টা ধরে রায় পড়েছেন। সেই রায়ে তিনি বলেছেন, ''সব তথ্য বিচার করার পর আমার মনে হয়েছে, অভিযোগকারীরা তাঁদের অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন।''  

তবে এই রায়ের পরই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৪২টি অভিযোগ নিয়ে পাঁচটি মামলার বিচার চলছে। নাজিব ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ওয়ানএমবিডি কোম্পানি গঠন করেছিলেন। তারই শাখা এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে চার কোটি ২০ লাখ মালয়েশীয় মুদ্রা(৮১ লাখ ইউরো বা ৯৫ লাখ ডলার) চুরির অভিযোগ আছে নাজিবের বিরুদ্ধে।

ওয়ানআইএমবিডি কি?

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ার আর্থিক উন্নয়নের জন্য নাজিব ওয়ানএমবিডি গঠন করেন।

অ্যামেরিকার তদন্তকারীরা অভিযোগ করে, এই সংস্থা যে তহবিল তৈরি করেছিল, সেখান থেকে অন্তত সাড়ে চারশ কোটি ডলার নয়ছয় করা হয়েছে। সেটা করেছেন নাজিবের ঘনিষ্ঠজনেরা। তাঁরা হলিউডের সিনেমা প্রযোজনা করেছেন, হোটেল কিনেছেন, ২৫ কোটি ডলার দিয়ে বিলাসবহুল জলযান, গয়না এবং পাবলো পিকাসোর ছবি কিনেছেন। আর এখান থেকে নাজিবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একশ কোটি ডলারের বেশি অর্থ গেছে। 

এই বেআইনি লেনদেন ও সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে নাজিবের আমলের কিছু অফিসার ও তাঁর স্ত্রীও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর নাজিবের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যে ২০১৮ সালে হেরে যায় তার অন্যতম কারণ এই দুর্নীতির অভিযোগ।

এর পর নাজিবের কী হবে

হাইকোর্ট সোমবারই জানিয়ে দিয়েছে, এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল সংক্রান্ত আরেকটি মামলার বিচার ২০২১ সালের জুলাইয়ে হবে।

তবে সামনের মাসে অর্থাৎ অগাস্টেই আবার আদালতে হাজির হতে হবে নাজিবকে। কারণ, ওয়ানএমবিডি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সব চেয়ে বড় অভিযোগের শুনানি হবে অগাস্টে। সেই মামলায় অভিযোগ, নাজিব ওই সংস্থা থেকে ৭০ কোটি ডলার চুরি করেছেন। পুরোটাই ছিল জনগণের টাকা।

জিএইচ/এসজি(এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

বিজ্ঞাপন