মাল্টায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ব্লগার নিহত | বিশ্ব | DW | 17.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাল্টায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ব্লগার নিহত

আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে হত্যা করা হতে পারে৷ সোমবার বোমায় উড়ে যায় তাঁর গাড়ি৷ ব্লগার কারুয়ানা গালিজিয়ার এমন মৃত্যুতে মাল্টায় নেমেছে শোকের ছায়া৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হবে৷

চার মাস আগেই সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতার মেয়াদ আরো দীর্ঘ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মুসকাট৷ ফলে ২০১৩ সাল থেকে বিরামহীনভাবেই তিনি ক্ষমতাসীন৷ তাঁর বিরুদ্ধেই দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন দেশের সুপরিচিত সাংবাদিক, ব্লগার কারুয়ানা গালিজিয়া৷ গালিজিয়ার অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, তাঁর চিফ অফ স্টাফ এবং এক মন্ত্রী ব্যাপকভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত৷ প্রধানমন্ত্রী সে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘‘মাল্টার রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিথ্যা এটি৷'' এক ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বও দিয়েছিলেন৷ কিন্তু চিফ অফ স্টাফ এবং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মুসকাটও এক সময় সাংবাদিক ছিলেন৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি যথেষ্টই সোচ্চার৷ কারুয়ানা গালিজিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘আজ যা ঘটে গেল তা অনেক কারণেই অগ্রহণযোগ্য৷ আমাদের গণতন্ত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আজ কলঙ্কের দিন৷'' কারুয়ানা গালিজিয়া যে তাঁর কট্টর সমালোচক ছিলেন সে কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশ্বাসও দিয়েছেন৷ বলেছেন, ‘‘সবাই জানেন যে, কারুয়ানা গালিজিয়া রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত- দুভাবেই আমার কঠোর সমালোচক ছিলেন৷ তা সত্ত্বেও এমন বর্বরোচিত কাজকে মেনে নেয়া যায় না৷ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি থামবো না৷''

কারুয়ানা গালিজিয়ার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর৷ তিন সন্তানের জননী ছিলেন তিনি৷ সোমবারও একটি ব্লগ পোস্ট দিয়েছিলেন৷ সেখানে লিখেছিলেন, চিফ অফ স্টাফ কিথ শেম্ব্রি নিজের প্রভাববলয় খাটিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েই চলেছেন৷ দুপুরে নিজের গাড়ি চালিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন৷ কিছু দূর যাওয়ার পরই বোমা বিস্ফোরণে উড়ে যায় গাড়ি৷ রাস্তার ধারের মাঠে পাওয়া গেছে কারুয়ানার ছিন্নভিন্ন দেহের কিছু অংশ৷

প্রতিবাদী, নির্ভিক এক কলমযোদ্ধার মৃত্যুতে মাল্টা এখন শোকের চাদরে ঢাকা৷ সর্বস্তরের মানুষ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে নেমে এসেছেন রাস্তায়৷ সোমবার রাতে মোমের আলোয় সারি সারি ফুলের স্তবক থেকে উঁকি দিচ্ছিল কোনো এক প্রতিবাদকারীর লিখে যাওয়া দু'টি বাক্য, ‘‘জনগণ যখন সরকারকে ভয় করে, বুঝতে হবে জুলুমবাজি চলছে, সরকার যখন জনগণকে ভয় পায়, বুঝতে হবে মুক্তি আসন্ন৷ ''

এসিবি/জেডএইচ (এপি, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন