মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ঢাকায় কড়া প্রতিক্রিয়া | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 11.12.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ঢাকায় কড়া প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের ব়্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার উপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তা তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছে ঢাকা৷ মানবাধিকার কর্মীরা অবশ্য বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ‘ক্রসফায়ার’ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে৷

বাংলাদেশের ব়্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার উপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তা তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছে ঢাকা৷ মানবাধিকার কর্মীরা অবশ্য বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ‘ক্রসফায়ার’ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে৷

ফাইল ছবি

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

শনিবার এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘‘ব়্যাব ও ব়্যাবের সাবেক-বর্তমান প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷’’

তার মতে, এতে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কিনা তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর৷ ব়্যাব সম্পর্কে পশ্চিমা দেশটির মন্তব্য ও নিষেধাজ্ঞা তথ্যভিত্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী৷ 

তিনি বলেন, ‘‘ব়্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক৷ ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷ তিনি নিজেও বিষ্মিত৷’’

অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল৷  শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিটি ঘটনা ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে তদন্ত করা হয়ে থাকে৷ কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বস্তুনিষ্ঠভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি৷ তারা অতিরঞ্জিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে৷ আমাদের কোনো সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না৷ করলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷’’

অভিযোগ নিয়ে ব়্যাব যা বলছে

বাংলাদেশে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’ মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন করেছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (ব়্যাব)৷ এমন অভিযোগে শুক্রবার সংস্থাটিসহ এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ব়্যাব ও বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির রাজস্ব বিভাগ৷ এই তালিকায় আছেন ব়্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদও৷ পৃথক আরেক ঘোষণায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেনজীর আহমেদ এবং ব়্যাব ৭ ইউনিটের সাবেক কমান্ডিং অফিসার মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের উপর যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে৷ কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই দুইজন ২০১৮ সালের মে মাসে টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাসহ বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷

তবে, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকারের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ব়্যাব৷ এই প্রসঙ্গে বাহিনীটির লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন তারা সব ধরনের আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করে আসছেন৷ অভিযান পরবর্তীতে মামলার তদন্ত করে পুলিশ এবং আদালতের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হয়৷

অডিও শুনুন 04:00

ব়্যাব মানবাধিকার লুণ্ঠন করে না, মানবাধিকার রক্ষা করে: খন্দকার আল মঈন

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘‘আমরা যে কাজটি করছি সেটা সঠিক না ভুল, সেটার তদন্ত কিন্তু হয় পুলিশ করছে না হয় বিজ্ঞ আদালত করছে৷ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নয় হাজার বাহিনীর এই ফোর্সটির ২৮ জনকে জীবন দিতে হয়েছে৷ এর মধ্যে লে. কর্ণেল আজাদের মতো কর্মকর্তাও আছেন৷ আমাদের এক হাজার সদস্যের জখম হয়ে অঙ্গহানি হয়েছে৷ দুই হাজারের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন৷ আমাদের মতো ক্যাজুয়ালিটি কিন্তু কম বাহিনীরই রয়েছে৷ আমাদের কাজ অনেক দেশের জন্যই রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে৷ আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিদের অবস্থান প্রায় জিরোর কাছাকাছি নিয়ে এসেছি৷’’

তিনি বলেন, ‘‘ব়্যাব মানবাধিকার লুণ্ঠন করে না, মানবাধিকার রক্ষা করে৷ বিষয়টি অফিসিয়ালি জানতে পারলে আমরা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব৷”

পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক কামরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনের বাইরে গিয়ে পুলিশের কাজ করার কোন সুযোগ নেই৷ যদি কোথাও গোলাগুলি হয় সেখানে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত হয়৷ তদন্তে যদি কোন ব্যক্তি দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোন অভিযোগ পাওয়া যায় সে অনুযায়ী কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়৷’’

কী বলছেন মানবাধিকার কর্মীরা?

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলমান রয়েছে৷ সাধারণ মানুষের অনেক দিনের দাবি ছিল যে, এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে৷ আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করে আসছি৷ কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কখনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি৷ ফলে আজকে আমরা এই জিনিসটা দেখলাম৷ এখন তো তারা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করছে, পরে হয়ত তারা রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করতে পারে৷ তাই তার আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে৷ গুম-খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে৷’’

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এমন শহীদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ বা ব়্যাব তো নিজের সিদ্ধান্তে কাজ করে না৷ এখানে তো কোন কর্মকর্তার লাভ-লসের বিষয় নেই৷ সরকারের একটা সিস্টেম আছে৷ সে অনুযায়ী তারা কাজ করে৷ এখন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে তো আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে না৷ তাদের কাজ করতে হবে৷ ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে হ্যাঁ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যেখানে উন্নতি করার সুযোগ আছে, সে চেষ্টা তাদের অব্যহত রাখতে হবে৷ এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা যাতে প্রত্যাহার হয়, সে ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি৷’’

নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়বে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এম হুমায়ুন কবীর৷ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোন সংকটে পড়বে এমনটা তিনি মনে করেন না৷ ডয়চে ভেলেকে এই কূটনীতিক বলেন, ‘‘তবে বাইডেন প্রশাসন এটাকে অগ্রাধিকারের মধ্যে নিয়ে গেছেন৷ বাইডেনতো ক্ষমতায় আসার এক-দেড় বছর আগে থেকেই লেখালেখি করেছে, বলাবলি করেছে৷ গত দুই দিন ধরে ১১০টা দেশ নিয়ে তিনি যে গণতন্ত্র সম্মেলন করলেন তাতে বোঝা যাচ্ছে তার কাছে এই বিষয়টা প্রাধান্য পাচ্ছে৷ ফলে এখানে তার মনোযোগ একটু বাড়বে৷ তবে আমি মনে করি না যে, আমরা কোন সংকটের মধ্যে পড়েছি৷ 

তিনি বলেন, ‘‘তবে আমাদের সংবিধানেও আছে, প্রচুর আন্দোলনও হয়েছে এ কারণে যেখানে সুযোগ আছে সেখানে মনোযোগ দিলেই হয়৷ এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কেন দিল সেটার তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে নেই৷ তবে এটা আমাদের জন্য ভালো কোন খবর না৷ সাবধান হওয়ার সুযোগ থাকলে সেটা করা প্রয়োজন৷’’

অডিও শুনুন 02:29

ভূরাজনীতি সেই আগের অবস্থায় নেই: ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নেয়া ব্যবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ছাড়াও উগান্ডা, চীন, বেলারুশ, শ্রীলঙ্কা ও মেক্সিকোর ১০ জন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তার ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে৷ অন্যদিকে রাজস্ব মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার বেশ কিছু সংস্থা ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এই ঘোষণাকে ব্যাখ্যা করেছেন ভূরাজনৈতিক দিক থেকে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘তারা তো অনেক দেশের সঙ্গেই এটা করেছে৷ কিন্তু কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা এটা করল? যে কোন বিচার বর্হিভূত হত্যাই খারাপ৷ অনেক দেশেই এই ধরনের বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে৷ আমি যদি পাকিস্তান বা কাশ্মীরের কথা বলি সেখানে হচ্ছে৷ সেখানে তো তারা এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না৷ সাহসও পাবে না হয়ত৷ আমি মনে করি এর মধ্যে আরো কিছু আছে, সেটা হয়ত আমাদের জানা নেই৷ তবে এটা নিয়ে আমি বিস্মিত৷ বিচারবর্হিভূত হত্যা তো তাদের হিসাবেই বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকায় আরও বেশি হয়৷ অ্যামেরিকা তো তার নিজের উপরে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয় না৷ ভূরাজনীতি সেই আগের অবস্থায় নেই৷ বাংলাদেশের যত বেশি উন্নয়ন হবে তত বেশি ঝামেলা আছে৷ আমি আশা করি, বাংলাদেশের যারা নিরাপত্তা দেখেন তারাও সচেতন হবেন৷ বিচার বর্হিভূত হত্যা একটাও গ্রহণযোগ্য না৷ তবে এটা অ্যামেরিকার মাধ্যমে জানতে হবে, আমি মনে করি না এটা ঠিক৷ অ্যামেরিকার এই ধরনের পদক্ষেপে বাংলাদেশ চিন্তিত হবে, এখন আর সেই অবস্থায় আমরা নেই৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন