মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চার মাস পর প্রথম ‘ক্রসফায়ার′ | বিশ্ব | DW | 18.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চার মাস পর প্রথম ‘ক্রসফায়ার'

র‍্যাব- পুলিশের  কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রায় চার মাস পর বাংলাদেশে আবার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷

BdTD | Bangladesch Dhaka | Protest gegen Crossfire Tötungen

প্রতীকী ছবি

গত শনিবার রাতে কুমিল্লার সদর আদর্শ উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে' রাজু নামে একজন নিহত হন৷ তিনি সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যার আসামি৷

কুমিল্লার সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকারকে গত ১৩ এপ্রিল(বুধবার) রাত ১০টার দিকে ডেকে নিয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্ত এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে৷ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৪ এপ্রিল( বৃহস্পতিবার) রাতে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে৷ আরেকজন এজাহারভুক্ত আসামি রাজু র‌্যাবের সঙ্গে শনিবার রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন৷ রাত দুইটার দিকে ওই ঘটনা ঘটে৷

র‌্যাব ১১-এর কুমিল্লা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, ‘‘আমরা সাংবাদিক হত্যার আসামি ধরতে কোনো অভিযান চালাইনি৷ সে রাজু কি না তাও আমরা জানতাম না৷ আমাদের কাছে খবর ছিলো গোলাবাড়ি এলাকায় একদল সন্ত্রাসী নাশকতা করার জন্য আত্মগোপন করে আছে৷ এই তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের টহল টিম সেখানে পৌঁছালে তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে৷ আমরাও আত্মরক্ষার্থে গুলি করি৷ গোলাগুলি শেষ হলে আমাদের এক সদস্যকে আহত দেখতে পাই৷ চার-পাঁচজন লোক পালিয়ে যায়৷ এলাকার লোকজন এসে পড়ে৷ আমাদের সদস্যকে উদ্ধার করার পর আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখি গুলিতে আহত একজন অজ্ঞাত যুবক পড়ে আছে৷ তার পাশে একটি লোডেড পিস্তল৷ তাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই৷ আমরা জীবিত অবস্থায়ই হাসপাতালে পাঠাই তাকে৷''

অডিও শুনুন 02:06

'রাষ্ট্র ও সরকার যতদিন পর্যন্ত স্বাধীন তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় না আনবে ততদিন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না"

তিনি বলেন, ‘‘পিস্তল ছাড়াও তার কাছে কয়েকটি ইয়াবা, দেড় বোতল ফেনসিডিল এগুলো পাওয়া যায়৷ মাদক বলতে যা বুঝায় সেরকম কিছু না৷ আমাদের কাছে সেরকম তথ্যও ছিলো না৷ আমরা জানতাম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওইখানে আছে৷''

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানাটমি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. দুলাল বলেন, ‘‘হাসপাতালে আনার পর পরই তাকে ডেড ডিক্লেয়ার করা হয়৷ হাসপাতালের খাতায় তাই লেখা আছে৷''

গত ১০ ডিসেম্বর পুলিশ ও র‌্যাবের সাত শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এই প্রথম বাংলাদেশে ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল৷ তবে ওই নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘণ্টা আগেও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে৷ ১০ সিসেম্বরের আগের পাঁচদিনে ক্রসফায়ারে পাঁচজন নিহত হয়েছে৷

এর আগেও ২০২০ সালের ৩১ জুলাই  কক্সবাজারে পুলিশের হাতে ক্রসফায়ারের নামে মেজর(অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর কিছুদিন ক্রসফায়ার বন্ধ ছিলো৷

অডিও শুনুন 00:22

'কে নিষেধাজ্ঞা দিলো৷ তার দেশের অবস্থা কী সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে"

আর ২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হককে বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যার ঘটনার পর একটি অডিও প্রকাশ হওয়ায় ক্রসফায়ার নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ তখনো কিছুদিন ক্রসফায়ার বন্ধ ছিলো৷

আইন ও সালিশ  কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে ২০২১ সালে বাংলাদেশে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৮০টি৷ ২০২০ সালে ২২২ জন এবং ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন নিহত হন৷ তাদের হিসবে ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল  পর্যন্ত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিন হাজার ৩৬৪ জন৷

আসকের তথ্যমতে শনিবারের ক্রসফায়ারের ঘটনার আগে চলতি বছরে বাংলাদেশে আর কোনো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি৷ তবে পুলিশ ও র‌্যাব হেফাজতে চারজন মারা গেছেন৷

আসকের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘আমরা অতীতেও দেখেছি কোন চাপ বা মানুষের ক্ষোভের পর কিছুদিন ক্রসফায়ার বন্ধ থেকে আবার শুরু হয়৷ এবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর আমরা সেই আশঙ্কা করেছিলাম৷ শনিবারের ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের আশঙ্কা সঠিক প্রমাণ হলো৷

‘‘রাষ্ট্র ও সরকার যতদিন পর্যন্ত এইসব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় না আনবে ততদিন এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না৷ রাষ্ট্র যদি এটাকে কৌশল হিসেব নেয় তাহলে তো বন্ধ হবে না৷''

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘‘যতদিন পর্যন্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম যতদিন পর্যন্ত উন্নত করা না যাবে, এই কলোনিয়াল পুলিশ কোর্ট ও প্রসিকিউশন যত দিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত এই অবস্থার উন্নতি হবে না৷ এ জাতীয় বিষয়ের সম্মুখীন আমাদের হতেই হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘কে নিষেধাজ্ঞা দিলো৷ তার দেশের অবস্থা কী সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে৷ কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থেই এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে৷ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়