মার্কিন কংগ্রেসে শুনানিতে ফেসবুকসহ চার টেক জায়ান্ট | বিশ্ব | DW | 30.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কংগ্রেসে শুনানিতে ফেসবুকসহ চার টেক জায়ান্ট

মার্কিন কংগ্রেসের এক কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়েছেন ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন এবং অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীরা৷ ডিজিটাল যুগে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন কিভাবে প্রয়োগ করা হবে, এ নিয়েই ছিল শুনানি৷

অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যাপলের টিম কুক, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ এবং গুগলের সুন্দর পিচাই এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ শুনানিতে অংশ নেন৷ এই প্রথমবারের মতো চার টেক জায়ান্টের প্রধান নির্বাহীকে একসঙ্গে কোথাও দেখা গেল৷

আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, এই চার প্রতিষ্ঠান অনলাইনের একাধিপত্যের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সুযোগ নষ্ট করছেন এবং বাজার দখলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন৷ সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে কড়া বিধিনিষেধ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন৷

শুনানিতে নির্বাহীরা অবশ্য কিভাবে তাদের প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করছে এবং প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করছে তার পক্ষে তথ্যসহ যুক্তি তুলে ধরেন৷ তবে শুনানিতে বেশকিছু প্রশ্নের ক্ষেত্রে তারা সরাসরি উত্তর দিতে ব্যর্থ হন৷

ইনস্টাগ্রাম ইস্যু

প্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরম ইনস্টাগ্রাম কিনে নেয়ার ঘটনায় জাকারবার্গকে বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় শুনানিতে৷

কংগ্রেসের বিচার কমিটির নেতা ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য জেরল্ড নাডলার জাকারবার্গকে বলেন, ইনস্টাগ্রাম কেনার বিষয়ে ফেসবুক থেকে পাওয়া কাগজপত্র বেশ ‘গোলমেলে'৷ ফেসবুকের নথিতে দেখা গেছে, ছবি শেয়ার করার প্ল্যাটফরম ইনস্টাগ্রাম একসময় ফেসবুকের জন্য ‘বেশ ক্ষতিকর' হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন জাকারবার্গ৷

অ্যামাজনের তথ্য চুরি

অ্যামাজন একই সঙ্গে অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং খুচরা বিক্রেতার ভূমিকা নেয়ায় অন্য খুচরা বিক্রেতারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে মনে করে কংগ্রেসের কমিটি৷ এমনকি বিক্রেতারদের তথ্য চুরি করে নিজেদের পণ্য তৈরি করার অভিযোগও ওঠে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে৷

কংগ্রেসে প্রথম শুনানিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস জানিয়েছিলেন,  অ্যামাজন বিক্রেতার তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নীতি থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা যে ভঙ্গ করা হয়নি তা তিনি ‘নিশ্চিতভাবে' বলতে পারেন না৷

অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ডিভাইসে নিজেদের অ্যাপ উপস্থাপনের জন্য অ্যাপলের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারে বাধ্য করার৷

গুগলের প্রধান নির্বাহী পিচাইকে প্রশ্ন করা হয় তথ্য সুরক্ষা ও অপব্যবহার নিয়ে৷ থার্ড পার্টির তথ্য নিজেদের বলে চালিয়ে দেয়া এবং নিজেদের সুবিধাজনকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে গুগলের বিরুদ্ধে৷ পিচাই অবশ্য বলেন, কেবল ‘আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়' এমন তথ্যই গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্লক করে৷ বাকি সব তথ্য কিভাবে ব্যবহারকারীদের সামনে উপস্থাপিত হবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়৷

অত্যধিক ক্ষমতা

কংগ্রেসের অ্যান্টিট্রাস্ট কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড সিসিলিন অভিযোগ করেন এই টেক জায়ান্টগুলো ‘চূড়ান্ত ক্ষমতা' পেয়ে িয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘নিজেদের এগিয়ে রাখা, মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া, বাড়তি পণ্য কিনতে ক্রেতাকে বাধ্য করা এবং শক্তিশালী প্ল্যাটফরম কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর ও বিধ্বংসী উপায়ে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো৷''

একইসঙ্গে করোনা মহামারির ফলে অনলাইনে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়েও শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে বলেও আশঙ্কা করেন এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা৷

অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের ফলে ভোক্তাদের ক্ষতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণ করতে না পারলে কোনো একচ্ছত্র আধিপত্য সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না৷ তবে এ আইন সংস্কার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে৷ ডিজিটাল যুগে কেমন হবে এই আইন সে বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কংগ্রেসের এই কমিটি৷

এডিকে/কেএম (এএফপি, এপি, ডিপিএ)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন