মার্কিনিদের দাবি পিছু হটছে ইরান | বিশ্ব | DW | 07.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

মার্কিনিদের দাবি পিছু হটছে ইরান

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সমরসজ্জার কারণে ইরান আপাতত কিছুটা পিছু হটেছে বলে দাবি করলেন এক সামরিক কর্মকর্তা৷ গত মাসে পেট্রোলিয়ামবাহী জাহাজের উপর হামলার তদন্তে পরোক্ষভাবে ইরানকেই দায়ী করা হয়েছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বেড়ে চলা উত্তেজনার জের ধরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বা পুরোপুরি যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে চলেছে৷ মার্কিন প্রশাসন সেখানে জোরালো সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে৷ এই সমরসজ্জার ফলে ইরান কিছুটা পিছু হটছে বলে দাবি করলেন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার৷ তেহরান আপাতত নিজেদের কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে নতুন করে ছক কষছে৷ উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তা সম্প্রতি দাবি করেছেন যে উপকূলের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেও ইরান সেগুলি প্রত্যাহার করেছে৷

জেনারেল ফ্র্যাংক ম্যাককেনজি অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যে ইরান এখনো বড় হুমকি হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে৷ তাই প্রয়োজনে তিনি আরও মার্কিন সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম চাইতে পারেন৷ তিন সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেন৷ অ্যামেরিকা অকারণে প্ররোচনার বদলে ইরানকে সতর্ক করতে শুধু শক্তি প্রদর্শন করছে বলে তিনি মনে করেন৷

ইরান এর মধ্যে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ছোট আকারের সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে বলে বিভিন্ন দেশ মনে করছে৷ গত ১২ই মে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বন্দরে তিনটি পেট্রোলিয়ামবাহী ট্যাংকার জাহাজের উপর হামলার পেছনে তেহরানের হাত ছিল – এমন সন্দেহ এখনো দূর হয় নি৷ ঘটনাটির তদন্তের পর আমিরাত, সৌদি আরব ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন৷ তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে তাঁরা বলেন, সম্ভবত কোনো বিদেশি রাষ্ট্র স্পিড বোটে ডুবুরি পাঠিয়ে জাহাজগুলিতে মাইন বসিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল৷ তবে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেন নি তাঁরা৷ তবে জাতিসংঘে সৌদি রাষ্ট্রদূত এর আগে এই অন্তর্ঘাতমূলক হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছিলেন৷

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানের উপর চাপ বজায় রাখার সুফল তুলে ধরেছেন৷ ফ্রান্স সফরের সময় তিনি দাবি করেন, যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ এর ফলে সম্ভবত কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার পথ খুলে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন৷ ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ইরান সংলাপ চালাতে চাইলে অ্যামেরিকাও সংলাপের জন্য প্রস্তুত৷ তবে ইরানের হাতে কোনো অবস্থায় পরমাণু অস্ত্র আসতে দেওয়া হবে না৷

মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আহাতোল্লাহ আলি খামেনেই ট্রাম্প-এর সংলাপের প্রস্তাবকে প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন৷ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে ইরান সেই ফাঁদে পা দেবে না৷ তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন নি৷ তবে তাঁর মতে, এর পূর্বশর্ত হিসেবে অ্যামেরিকাকে ইরানের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে৷

এর মধ্যে রাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ইরান সফর করছেন৷ ফলে বর্তমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আশা কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে৷ আবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা ইরানের নেতৃত্বের কাছে তুলে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে৷

এসবি/কেএম (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন