মারধরই এখন বঙ্গ রাজনীতির পরিচয়!‌ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

মারধরই এখন বঙ্গ রাজনীতির পরিচয়!‌

ইংরেজিতে একটি শব্দবন্ধ আছে— ‘‌ডোমিস্টিক ভায়োলেন্স‘৷ যে সহিংসতা ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে হয়৷ আড়ালে, লুকিয়ে, জনসমক্ষে নয়।

ফাইল ফটো৷

ফাইল ফটো৷

মূলত নারীদের ওপর নির্যাতনের যে সামাজিক গোপনীয়তা রক্ষার দায়, তা বোঝাতেই নারীনিগ্রহকে এভাবে আলাদা করে গার্হস্থ সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা থেকে এটুকু অন্তত বোঝা যায় যে, পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ এখনও প্রকাশ্যে কোনও মেয়ের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাগ্রস্ত। সাংসারিক কলহ যখন শারীরিক নির্যাতনের দিকে গড়ায়, তখনও, সমাজের নেহাতই নিচু তলার বাসিন্দা না হলে, তা ঘরের বাইরে আসে না।

পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে নারীকে নাকি প্রভূত সামাজিক সম্মান দেখানো হয়, নারীর অবমাননা হলে যে বাঙালি ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে, সেখানে এই আড়ালটুকুও শেষ পর্যন্ত রাখা হল না। স্রেফ রাজনৈতিক বৈরিতার জায়গা থেকে হাত উঠল মহিলাদের ওপর। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর গালে ঘুষি মারার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে রীতিমত ছড়িয়েছে। দেহরক্ষী পুলিশ পাপিয়াদেবীকে ঘিরে থাকা অবস্থাতেই বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী সটান তাঁর মুখে আঘাত করে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ সেই আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, সম্ভবত এই কারণেই যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে হুগলি জেলারই আরামবাগের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজাতা মন্ডল খাঁ আক্রমণের শিকার হয়েছেন বিরোধী বিজেপি কর্মীদের হাতে।

খোলা ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে সুজাতা দৌড়োচ্ছেন, তার পিছনে তাড়া করছে মারমুখী জনতা, সুজাতার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে, তার দেহরক্ষী আহত হচ্ছেন— এসবের ভিডিও, ছবিও স্থানীয় টিভি চ্যানেলের দৌলতে সারা রাজ্য দেখেছে।

ভোটের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা, হাতাহাতি, মারামারি নতুন কিছু নয়৷ এর আগেও অজস্রবার একই ঘটনা ঘটেছে৷ নিয়মমাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, কিন্তু তার পরে ঘটনা চাপা পড়ে গেছে৷ কিন্তু এবার সুজাতা মন্ডল খাঁ, পাপিয়া অধিকারীদের প্রকাশ্যে নিগ্রহের পর প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ কি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের রাজত্ব হিসেবেই চিহ্নিত হবে?‌ প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসের জন্য কুখ্যাত বিহার, হরিয়ানা, বা উত্তরপ্রদেশকেও কি পিছনে ফেলে দিল বাংলা?‌ তার মাথায় কি উঠল না লোকলজ্জার নতুন মুকুট?‌ এর পরও কি বাঙালি মাথা উঁচু করে বলতে পারবে যে, তারা নারীদের সম্মান করে?‌

আসলে এই বিষবৃক্ষের বীজ পোঁতা হয়েছিল সেদিনই, যেদিন পশ্চিমবঙ্গের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পেশের সময় নারী প্রার্থীদের প্রকাশ্যে নিগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছিল। টিভিতে দেখা সেই ছবি অনেকেরই মনে আছে, যে এক নারী, তার পরনের শাড়ি খুলে মাটিতে লুটোচ্ছে, তার চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়ে লাথি মারা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন বলছেন, সন্ত্রাস–জর্জরিত সেই পঞ্চায়েত ভোট থেকেই বর্তমান তৃণমূল সরকারের পতনের শুরু। লোকে সেই সময়ই বুঝতে পেরেছিল, গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে এই রাজ্যের সরকার কতটা উদাসীন৷ মেয়েদের সম্মান রক্ষায় এ রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীও কতটা নির্বিকার৷ এবং সেই সময়ই বৈধতা পেয়ে গিয়েছিল প্রকাশ্যে একজন মহিলার সম্ভ্রমহানী, তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করার মতো জঘন্য কাজও৷ কাজেই যা ঘটছে এবারের নির্বাচনে, আদৌ অপ্রত্যাশিত নয়৷ শনিবার, চতুর্থ দফার ভোটেও আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী, দলের মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ প্রায় প্রতিদিনই হামলার মুখে পড়ছেন সংবাদকর্মীরা৷ বেছে বেছে আক্রমণ করা হচ্ছে সেই সব গাড়িতে, যেখানে মহিলা সাংবাদিকেরা আছেন৷ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের৷

ফলে আজ যখন শহর, গ্রাম, মফস্বলের আকাশ ঢেকে গেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সহাস্য ছবির বিশাল বিশাল বিজ্ঞাপনে, যাতে দাবি করা হয়েছে— বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, তখনও লোকের মধ্যে এই সব স্মৃতিই ফিরে এসেছে। লোকে হয়ত মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করেছে, আর পাঁচজন মেয়ের সম্মান রাখতে পারে না যে মেয়ে, সত্যিই কি লোকে তাকে চায়?‌ ঠিক কী ভেবেছে লোকে, জানা যাবে আর সপ্তাহ তিনেক পরেই৷ অর্থাৎ, ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিন।‌

২০১৯ সালের গ্যালারি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়