মামলার কত রঙ্গ! | আলাপ | DW | 02.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

মামলার কত রঙ্গ!

এক দেশে কত রকমের মামলা হয়! আইনের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে এসব মামলা করে হয়রানি করা হয়৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

একজন কৃষক৷ রক্ত পানি করা পরিশ্রমে ফসল ফলান৷ সেই ফসল আমাদের খাদ্যের যোগান দেয়৷ অথচ সেই কৃষকের ঘরে হয়তো খাবার নেই৷ তার ওপর যদি এই গরিব মানুষটিকে ভুয়া মামলায় জড়িয়ে ফেলা হয়? যেমন হয়েছে গাজীপুরের কৃষক আবদুল আজিজের বেলায়৷ আটটি মামলায় তাঁকে ১০০ দিন জেলে থাকতে হয়৷

প্রথম আলোর ১৮ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাশিমপুর কারগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার চারটি মামলায়, রাজধানীর মিরপুর থানার একটি মামলায়, জামালপুরের বক্সীগঞ্জ থানার একটি মামলায় ও মাদারীপুর সদর থানার একটি মামলায় পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো হয়৷ এসব মামলায় তাঁকে চট্টগ্রাম কারাগার, মাদারীপুর কারাগার ও জামালপুর কারাগারে থাকতে হয়৷ সবশেষ ছিলেন কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে৷

‘‘আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কোনো একটি মহল ভুয়া পরোয়ানা তৈরি করে তাঁকে হয়রানি করেছেন৷ কিন্তু সব কটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুয়া বলে প্রমাণিত হলে আদালত ওই সব মামলা থেকে তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন৷ আদালতের নির্দেশে ১০০ দিন হাজত খাটার পর গত বছরের ১২ জুন তিনি মুক্তি পান৷ ছাড়া পেয়ে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ৩ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তিনি৷ এত দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো জবাব পাননি৷ তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে সাতটি মামলা থেকে তিনি মুক্তি পেলেও গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মাদকের মামলায় তিনি এখনো হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন,'' (প্রথম আলো, ১৮মার্চ)৷

প্রায়ই এমন ভুয়া মামলায় হয়রানির খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে দেখা যায়৷

ভুয়া মামলা যেমন হয়, তেমনি ভুল ব্যক্তিকে আটক করে দিনের পর দিন আটকে রেখে অন্যায় করা হয়৷ জাহালমের ঘটনাটি এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷ জজ মিয়া নাটকের কথাও কেউ ভোলেনি এখনও৷ এমনকি রসরাজের মতো অনেককে ফাঁসাতে সাম্প্রদায়িকতার ভুয়া অভিযোগ তুলেও মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে৷

স্থানীয় পর্যায়ে বৈষয়িক স্বার্থে এমন হয়রানির করার অভিযোগ আছে অসংখ্য৷ পুলিশের কোনো কোনো অসৎ কর্মকর্তাও মামলা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেবার তৎপরতায় ব্যস্ত থাকেন৷ এমন অসংখ্য ঘটনার নজির পুলিশেই আছে৷ সেখানে এসবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থারও অসংখ্য নজির আছে৷

এই যে চারপাশে এত ভুয়া মামলা হচ্ছে হয়রানির উদ্দেশ্যে, ভুল করে অথবা আর্থিক লোভে, এমন ঘটনা যেহেতু হরহামেশাই হয়ে থাকে, তার মানে ধরা যেতে পারে এটি সমাজের একটি ব্যাধি৷ যেই ব্যাধিতে আক্রান্ত আমাদেরই চারপাশের অসংখ্য মানুষ৷ কারো গায়ে ইউনিফর্ম আছে, কারো নেই৷

আরেকটি কারণ আছে, সবচেয়ে বড় কারণ৷ তা হলো রাজনৈতিক কারণে মামলা৷ অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, অথবা নন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল বা তার কোনো কর্মী সেই ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষ মনে করছেন, এবং কোনো কারণে নিজের বা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে ক্ষতিকর মনে করছেন, তখন মামলা করা হচ্ছে৷ নানান রকমের মামলা৷

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছিল বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো৷ স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অনেক ঘটনা ঘটেইনি, তার জন্যও মামলা করা হয়৷ প্রথম আলোর ৭ অক্টোবরের রিপোর্টে বলা হয়, ‘‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৈরি করা এক হিসাবে দেখা যায়, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১৩৫টি মামলা হয়েছে৷ এতে মোট আসামি ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩১৪৷ এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ৮৫ হাজার ৬০৪ জন৷ অজ্ঞাত আসামি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭১০ জন৷ এই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজার ৬৫০ জন৷''

বাংলা ট্রিবিউনকে ৮ অক্টোবর বিএনপি আইনজীবী মাসুদ রানা বলেছেন, ‘‘গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় চার হাজার মামলা হয়৷ ১০ বছর আগে মারা গেছেন এমন লোকদেরও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে৷''

এসব মামলাকে ‘গায়েবি', ‘কল্পিত' ও ‘ভৌতিক' নানা নামে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির কর্মী-সংগঠকরা৷ পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে৷

এছাড়া আরো এক ধরনের মামলা খুব বেশি দেখা যায়৷ তার একটি হলো মানহানির মামলা৷ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে, তাই অনেকে সংক্ষুব্ধ হচ্ছেন৷ সংক্ষুব্ধ হয়ে সারাদেশ থেকে মামলা করা হচ্ছে৷ যেমন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামেরবিরুদ্ধে ৬০ থেকে ৭০টি মামলা হয়েছিল৷

লাখ থেকে কোটি, কোটি থেকে শতকোটি, শতকোটি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয় একেকজনের বিরুদ্ধে৷ এমন নজির আছে অনেক৷

HA Asien | Zobaer Ahmed

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

সম্প্রতি মাহফুজা আক্তার কিরণের ঘটনাটিও অদ্ভুত লেগেছে৷ তিনি একজন ফুটবল কর্মকর্তা, যিনি বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন৷ বিষয়টি বিচারাধীন, তাই মামলা নিয়ে তেমন কিছু বলছি না৷

তবে একজন ফুটবল কর্মকর্তা হিসেবে যে কেউ চাইতে পারেন ফুটবলকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হোক৷ সরকারকে বা প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ভাবনা মেনে নিতে হবে এমন কোনো বিষয় নেই৷ ক্রিকেটকে ফুটবলের চেয়ে বেশি বা কম গুরুত্ব দিতে হবে, সেটা নীতিগত ব্যাপারই বটে, এবং এটা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে৷ সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়া সম্ভবও নয়৷

এটাকে একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করার কিছু নেই৷ প্রধানমন্ত্রীকে দেশের অসংখ্য বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়৷ সেখানে তাঁর সিদ্ধান্ত সবই জনপ্রিয় হবে এমন কোনো কথা নেই৷ সব সিদ্ধান্তের পক্ষে বিপক্ষে কথা থাকবেই৷ আর সব বিষয় আদালত পর্যন্ত নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই৷ 

এছাড়া, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকসহ অনেকের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে৷ অনেক মামলা শুধু হয়রানি করার জন্যই করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়৷ এমন পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অশুভ৷ আইন রাষ্ট্রের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য৷ রাষ্ট্রের জনগণের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নয়৷ নিয়ন্ত্রণ কোনো অর্থেই কোনো সমাধান নয়৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন