মানুষ আর প্রকৃতির বিরোধ মেটানো সম্ভব | অন্বেষণ | DW | 07.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মানুষ আর প্রকৃতির বিরোধ মেটানো সম্ভব

মৌরিতানিয়ার এক গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে সহায়তা করছে একটি জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক ও একটি জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা৷ সেখানে বাঁধকে ব্যারেজে পরিণত করে ও ফ্লাড বেসিনের ব্যবস্থা করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পশুপাখি, মাছ ও গাছপালা৷

ভিডিও দেখুন 05:35
এখন লাইভ
05:35 মিনিট

মানুষ আর প্রকৃতির বিরোধ মিটবে কীভাবে?

পানি প্রতিবছরই এগিয়ে আসছে৷ সাগরের কাছের বাড়িগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে৷ এককালে যে জায়গাটা কীরকম ছিল, আজকের কচিকাঁচারা তা কল্পনাই করতে পারবে না৷ স্থানীয় বাসিন্দা সালু দিইয়ে দেখালেন, ‘‘সবকিছু পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে গ্রামের অর্ধেকটা ছিল এইখানে, এমনকি আগে এই পর্যন্ত বাড়িঘর ছিল৷ সাগরের তলায় বোধহয় এখনও ভাঙা বাড়িঘর খুঁজে পাওয়া যাবে৷''

 দক্ষিণ মৌরিতানিয়ার গ্রামগুলোর একদিকে অসংখ্য নদী, অন্যদিকে সাগর৷ এখানে আর বিশেষ কিছু নেই, অবকাঠামো তো নয়ই৷ তাহলে মানুষজন কী করবে আর যাবেটাই বা কোথায়, সেটাই হলো প্রশ্ন৷ জেইন এল আবিদিন কাছের দিয়াওলিং ন্যাশনাল পার্কের কর্মী, সমস্যাগুলো তাঁর জানা৷ তিনি জানালেন, ‘‘প্রবীণদের সঙ্গে কথাবার্তা বললে, তারা বলেন যে, আশির দশকে সাগর এখান থেকে আরো দুই কিলোমিটার দূরে ছিল – আর এখন দেখুন, সাগরের পানি কী অবস্থা করেছে৷ সরকার মানুষজনের নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বটে, কিন্তু ওরা বলে যে, ওদের পূর্বপুরুষরা চিরকাল এখানেই বাস করেছেন৷ কাজেই ওরা অন্য কোথাও যেতে চান না৷'' 

অথচ এখানকার মানুষদের পেশা চাষবাস, খামার বা পশুপালন, যা থেকে জীবনধারণ করা ক্রমেই আরো শক্ত হয়ে উঠছে৷ একটি আশার আলো হলো কাছের দিয়াওলিং ন্যাশনাল পার্ক৷ ঠিকমতো ব্যবস্থা নিলে যে রোজগারের নতুন পথ খুলে যেতে পারে, দিয়াওলিং তার একটা ভালো দৃষ্টান্ত৷

এখানে যে কোনোদিন আবার এত বেশি জীবজন্তু বাস করবে, কয়েক বছর আগেও তা ভাবা যায়নি৷ এখন প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি এখানে বাসা বাঁধে, ছানা মানুষ করে৷ মাছের জন্য এটা ডিম পাড়ার জায়গা৷ ওয়ার্টহগ জাতীয় বুনো শুয়োররা এখানে স্বচ্ছন্দে বংশবৃদ্ধি করতে পারে, কেননা, এখানে কেউ তাদের শিকার করে না৷ ব-দ্বীপ এলাকায় নোনা জল আর মিষ্টি জল এসে মিশেছে, যা খুব বিরল৷

দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রকৃতি সংরক্ষণের মর্ম বোঝেন, কেননা, পরিবেশ থেকে চাকুরি সৃষ্টি হয়৷ জেইন এল আবিদিন বললেন, ‘‘পরিবেশকে পুনর্জীবিত করা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হলো ন্যাশনাল পার্কের লক্ষ্য৷ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেন? এখানকার বাসিন্দারা তাঁদের প্রথাগত পেশায় কাজকর্ম করেন বলে৷ প্রকৃতি যা দেয়, তা নিয়েই ওদের দিন কাটে৷ এখানকার অর্থনীতির ভিত্তি হলো কৃষিকাজ আর মাছ ধরা৷ পানি না থাকলে, ওদের এখানে কিছু করার থাকবে না৷''

খোলা আকাশের নীচে দড়ি টাঙিয়ে তেলাপিয়া মাছ শুকানো হচ্ছে৷ এই শুঁটকি মাছ গোটা দেশে, এমনকি সেনেগাল অবধি বিক্রি হয়৷ মৎস্য সমবায়ের প্রধান শেখ আহমেদ বললেন, ‘‘আগে এখানকার মানুষজন চাষবাসও করতেন, কিন্তু মাছের চাষ করে অনেক বেশি লাভ, তা থেকে সারাবছর রোজগার হয়৷ এই বাঁধ আর বাঁধের পানি ধরার বিল থেকেও আমাদের সুবিধা হয়, কেননা, এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়৷'' 

বাঁধ ও ব্যারেজ

এখানে যে আজ এত বেশি মাছ পাওয়া যায়, সে ব্যাপারটা নতুন৷ ত্রিশ বছর আগেও এলাকাটা প্রায় নষ্ট হতে বসেছিল, কেননা, আশির দশকের মাঝামাঝি একটি বড় বাঁধ তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিবেশী দেশ সেনেগাল, গাম্বিয়া আর মালিও মিষ্টিজল পায়৷ কিন্তু বাঁধ গোটা এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছিল৷ কেন, তা জানালেন দিয়াওলিং ন্যাশনাল  পার্কের সংরক্ষক ও জীববিজ্ঞানী জেইন এল আবিদিন, ‘‘বাঁধ তৈরির ফলে পরিবেশ প্রণালী ক্ষণভঙ্গুর হয়ে পড়ে৷ নোনাজল আর মিষ্টিজলের মধ্যে প্রকৃতিদত্ত ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে যায়৷ মিষ্টিজল পুরোপুরি বাঁধে আটকা পড়ার ফলে তা ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না৷''

এ কারণে বহু বছর পরে এই স্লুইস গেটগুলো তৈরি করা হয়৷ এ কাজে সাহায্য করে জার্মান উন্নয়ন সাহায্য ব্যাংক কেএফডাব্লিউ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড৷

জিআইজেড-এর সামান্তা মাপফুমো বললেন, ‘‘গেট দিয়ে পানি ছেড়ে কিছুটা জোয়ার-ভাটার নকল করার চেষ্টা করা হয়৷ এখানে নোনাজল আর মিষ্টিপানি মেশার ফলে জায়গাটা মাছেদের ডিম পাড়ার জন্য খুব ভালো৷ এছাড়া এটা সংরক্ষিত এলাকা৷  বাড়তি পানি ধরে রাখার জন্য তিন-তিনটা জলাধার থাকায় জায়গাটা শুধু মাছেদের জন্যেই নয়, পাখিদের জন্যও খুব ভালো৷'' 

ন্যাশনাল পার্ক প্রশাসন মাছ ধরার জন্য বিশেষ বিশেষ এলাকা ও সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন৷ মাছেরা যাতে ডিম পাড়ার ও ছানাপোনা মানুষ করার সময় পায়, সেদিকে নজর রাখা হয়৷ মিষ্টিজল আর বাঁধের পানির দরুণ অন্যান্য গাছপালাও ফিরে এসেছে; আবার পদ্মফুল ফুটতে শুরু করেছে৷

ইউলিয়া হেনরিশমান/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন