মানুষের জন্য ‘উপকারী′ ভাইরাস | বিশ্ব | DW | 06.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

মানুষের জন্য ‘উপকারী' ভাইরাস

মানুষ যখন করোনা ভাইরাসের খপ্পর থেকে মুক্ত হবার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন যেচে খাদ্যপণ্যের মধ্যে ভাইরাসের প্রয়োগ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন গবেষকরা৷ ‘উপকারী' এই ভাইরাস নাকি খাদ্যপণ্য আরো নিরাপদ করে তুলবে৷

খাদ্যপণ্যে ভাইরাসের প্রয়োগ

নেদারল্যান্ডসের ভাখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া শায়েস্তা করতে আরো ছোট জীবাণু কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গবেষণা চলছে৷ মিকেরোস কোম্পানি ব্যাকটিরিয়ার ফেজ তৈরি করে৷ ফেজ আসলে এমন ভাইরাস, যেগুলি নির্দিষ্ট গোত্রের ব্যাকটিরিয়ার মধ্যে বাসা বেঁধে বংশবৃদ্ধি ঘটায়৷ এক চিজ প্রস্তুতকারক এমন ফেজ কাজে লাগিয়ে চিজ আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছেন৷

তরল ব্যাকটেরিয়া কালচারে ফেজ সৃষ্টি করা হয়৷ সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে৷ হবহু সেই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই ফেজ সৃষ্টি করা হয়, পরে যেগুলির মোকাবিলা করতে হবে৷ ফেজ ব্যাকটেরিয়ার জাতশত্রু৷ মিকেরোস লিস্টেরিয়া ও সালমোনেলা মোকাবিলা করতে ফেজ সরররাহ করে৷ এভাবে হামলাকারীরা তাদের শিকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়৷

ফেজ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তার মধ্যে নিজের ডিএনএ ঢুকিয়ে দেয়৷ ফলে ব্যাকটেরিয়াকে বাধ্য হয়ে ফেজের অসংখ্য নকল সৃষ্টি করতে হয়৷ সেই ফেজগুলির চাপে ব্যাকটেরিয়া ফেটে যায়৷ তখন ফেজ বেরিয়ে এসে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার উপর হামলা চালায়৷

এক খাদ্য প্রস্তুতকারকের সমস্যা সমাধানে ফেজ কাজে লাগানো যায় কিনা, মিকেরোস কোম্পানির কর্মীরা তা পরীক্ষা করছেন৷ খাদ্যপণ্যের দুটি সংস্করণ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দূষিত করা হয়েছে৷ যেমন বিশেষ এক প্রজাতির আপেলের মধ্যে লিস্টেরিয়ার কারণে অ্যামেরিকায় মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷

হাতেনাতে ফলাফল

একটি খাদ্যপণ্যের উপর পানি স্প্রে করে দেখা হলো৷ অন্যটির উপর ব্যাকটেরিয়ার ফেজ ঢেলে দেওয়া হলো৷ এবার ফেজের ক্ষমতা খতিয়ে দেখার পালা৷ বিশেষজ্ঞরা সেই খাদ্যপণ্যের নমুনা ব্যাকটেরিয়ার জন্য অত্যন্ত উর্বর এক পাত্রে রাখলেন৷ তারপর সেটি ২৪ ঘণ্টার জন্য ইনকুবেটরে রাখা হলো৷ বিজ্ঞানীদের দলের প্রধান হাখেনস তাঁর ফেজগুলির কার্যকারিতা সম্পর্কে আশাবাদী৷ তিনি বলেন, ‘‘এত সুনির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে বলে ফেজ খুবই কার্যকর৷ অর্থাৎ এগুলি শুধু নির্দিষ্ট এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে৷ চিজ ও দইয়ের মতো খাদ্যপণ্যের মধ্যে ভালো ব্যাকটেরিয়ার উপর হামলা চালায় না৷ সে কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে ফেজ কাজে লাগানো যায়৷''

২৪ ঘণ্টা পর ইনকুবেটর থেকে প্লেটগুলি বের করে নেওয়া হলো৷ তার মধ্যে অনেকগুলি অনিয়ন্ত্রিত ব্যাকটেরিয়ার কলোনি রয়েছে৷ কয়েকটি মাত্র ফেজের প্লেটের উপর রাখা হয়েছে৷ সেটাই বা করার কী প্রয়োজন ছিল? স্টেফেন হাখেনস বলেন, ‘‘অনিয়ন্ত্রিত শ্রেণির তুলনায় সেগুলির সংখ্যা দশগুণ কম৷ দশগুণ বেশি ফেজের প্রয়োজন হলে দশগুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে ফেলা যায়৷ প্রশ্ন হলো, কীসের প্রয়োজন রয়েছে? খাদ্যপণ্য শিল্পখাতে কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়, ফলে উচ্চ মাত্রায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়৷ খাদ্যপণ্যে লিস্টেরিয়ার প্রবেশের আশঙ্কা অত্যন্ত কম৷ নব্বই শতাংশ ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে ফেললে সেই ঝুঁকি আরও কমে যায় এবং খাদ্যপণ্য আরও নিরাপদ হয়ে ওঠে৷''

খাদ্য নিরাপদ রাখতে পারে ফেজ

এভাবে জার্মানিতে অদূর ভবিষ্যতে ফেজের প্রয়োগ বাড়তে পারে৷ যেমন সসেজ উৎপাদনের সময় ব্যাকটেরিয়া-নাশক এই উপাদান প্রয়োগ করা যেতে পারে৷ জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে ফেজ শুধু খাদ্যপণ্যের উপরিভাগে থাকে৷ স্মোকড মাছের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ করলে ভালো হয়৷

হোয়েনহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ভল্ফগাং বায়ার এ বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হলো. ফেজ কি বিপদেরও কারণ হয়ে উঠতে পারে? বায়ার বলেন, ‘‘এটা ঠিক, যে ব্যাকটেরিওফেজ ভিরুলেন্স জিন বা প্রতিরোধী জিন বয়ে আনতে পারে৷ সবাই জানে, যে এমনটা ঘটে থাকে৷ খাদ্যপণ্য শিল্পে প্রয়োগের সময়েও সেটা হতে পারে৷ তবে খাদ্য শিল্পে মোটেই এমন ধরনের ফেজ প্রয়োগ করার সম্ভাবনা কম, যেগুলি নিজস্ব জিনোম ব্যাকটেরিয়ার জিনোমের অংশ করে তুলতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে একমাত্র সেই ধরনের ফেজ কাজে লাগানো হবে, যেগুলি শুধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম৷''

মোটকথা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যে ভাইরাস আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে৷ তবে বিশেষ করে বর্তমান অবস্থায় এমনটা মেনে নেওয়া বেশ কঠিন হবে৷

ফ্রাংক ভিটিশ/এসবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন