মানুষকে ঘরে রাখতে সারাদেশে কঠোর সেনাবাহিনী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মানুষকে ঘরে রাখতে সারাদেশে কঠোর সেনাবাহিনী

করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শক্ত অবস্থানে গিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ৷ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে শিথিলতা দেখা দেয়ায় কঠোর অবস্থানে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর এবং পুলিশ৷

সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশ থেকে আসা কোনো ব্যক্তি যাতে কোয়ারান্টিন এড়াতে না পারেন তা নিশ্চিত করা৷

অবশ্য বল প্রয়োগ নয়, উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলছেন সেনারা৷ আর এজন্য তারা মাইকিং করা ছাড়াও মানুষের জটলা ভেঙে দেয়া, রাস্তা ও বাজারে টহল বাড়ানো, মাস্ক বিতরণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রয়োজনে জরিমানা করছেন৷ বিশেষ করে যারা ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং নিচ্ছেন সবাই যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন সেই বিষয়গুলোও নিশ্চিত করার কাজ করছেন৷ যারা ত্রাণ বিতরণ করেন তাদের বিতরণের আগে স্থানীয় থানা-পুলিশ বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে৷ যেকোনো জরুরি প্রয়াজনে পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করতে বলা হয়েছে৷

আন্তবাহিনী গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় আমরা এক ধরনের শিথিলতা লক্ষ্য করছি৷ এটা যাতে না হয় সে কারণেই আমরা কঠোর অবস্থানে গিয়েছি৷ তবে এটা বল প্রয়োগের মাধ্যমে বা কাউকে হিউমিলিয়েট করে নয়, আমরা মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করছি৷ করোনা প্রতিরোধে সিভিল প্রশাসনের যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন আমরা সব করব৷’’

অডিও শুনুন 03:40

‘আমরা মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করছি’

তিনি আরো বলেন, ‘‘কিছু মানুষ পুলিশ টহল টিম সরে গেলেই আবার জড়ো হন৷ তারা মনে করেন তাদের কিছু হবে না৷ তাই সেনাবাহিনী গিয়ে এখন তাদের বলছে৷ সামাজিক দূরত্বই যে করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান উপায় তা বোঝাচ্ছে৷’’

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার ৬২ জেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে৷ আর দুইটি জেলায় কাজ করছে নৌবাহিনী৷ তবে সেনাবাহিনীর সাথে আরো চার জেলায় নৌবাহিনীও কাজ করছে৷ ৬৪ জেলায় সব মিলিয়ে মোট ৫২৫টি দল কাজ করছে৷ 

বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের কোয়ারান্টিন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, তারা যাতে সাধারণ মানুষের সাথে না মিশতে পারেন৷ জেলা প্রশাসনের যে ডেটাবেজ আছে সেই ডেটাবেজ ধরেই তারা এই কাজ করছেন৷ এর বাইরেও যদি নতুন কোনো খবর পাওয়া যায় সে ব্যাপারেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন৷ লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, ‘‘আমরা এই কাজে সিভিল প্রশাসন যে ধরনের সহযোগিতা চায় সেই ধরনের সহযোগিতা করছি৷’’

ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশও আরো কঠোর হয়েছে৷ ঢাকায় পুলিশের টহলের বাইরেও ৫০টি চেকপোস্ট বসিয়ে ‘জরুরি প্রয়োজন' ছাড়া পথচারী ও যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে৷ সকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতকেও আগের চেয়ে সক্রিয় হতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের কয়েক জায়গায় জরিমানাও করা হয়৷

অডিও শুনুন 01:43

‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে বের হতে নিষেধ করছি’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার ( মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে বের হতে নিষেধ করছি৷ আর তল্লাশীর মাধ্যমে নিশ্চিত হচ্ছি যারা বাইরে বের হচ্ছেন তাদের প্রয়োজনটা আসেলই জরুরি কিনা৷ আর যারা বের হচ্ছেন তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন কিনা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বের হচ্ছেন কিনা৷’’

পুলিশ বাজার, গলির ছোটখাট দোকান বা যেখানে জটলা হয় সেখানে নজর রাখছে৷ সামাজিক দূরত্ব ভাঙা হলেও সেখানে তারা গিয়ে জটলা ভেঙে মানুষকে ঘরে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণেও তারা সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে আরো কঠোর হয়েছে৷

তারপরও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ পুলিশ সরে গেলেই জটলা তৈরি হচ্ছে৷ এক মোটরসাইকেলে দু'জন চড়ছেন৷ গলির চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন৷ বিশেষ করে ত্রাণের আশায় গরীব মানুষ রাস্তার পাশে দল বেধে অপেক্ষা করছেন৷’’

এদিকে পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার বাহিনীর সদস্যদের এক নির্দেশনায় বলেছেন, সাধারণ মানুষকে বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, যেনো কোনোভাবেই জনসমাগমের সুযোগ সৃষ্টি না হয়৷ সরকার নির্দেশিত সোশ্যাল ডিসট্যান্স এবং হোম কোয়ারান্টিন বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে হবে৷ আর জনগণকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি নিজের, অধীনস্ত সদস্য, সহকর্মী এবং পরিবারের সর্বোচ্চ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে ৷

প্রসঙ্গত করোনা ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির নামে লকডাউন শুরু হয় বাংলাদেশে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে৷

দেখুন ২৭ মার্চের ছবিঘর... 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন