মানহাইম ও হাইডেলবার্গ চলচ্চিত্র উৎসব | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.12.2008
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মানহাইম ও হাইডেলবার্গ চলচ্চিত্র উৎসব

সম্প্রতি জার্মানির মানহাইম ও হাইডেলবার্গ শহর মিলিতভাবে আয়োজন করলো ৫৭ তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব৷ ভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র উৎসব এটি৷ এখানে সেই সব শৈল্পিক ছবিই দেখানো হয়, যার সর্বত্র ছড়িয়ে আছে পরিচালকের নিপুণ হাতের ছোঁয়া৷

default

পরিচালক এখানে চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক, ক্যামেরা ম্যান বলা যায় প্রায় সবকিছুই৷

বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান নতুন পরিচালক ও লেখক যাদের হয়তো দেশের বাইরে তেমন নাম নেই, তাদের ছবিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় মানহাইম-হাইডেলবার্গ উৎসবে৷ লক্ষ্য রাখা হয় গুণগত মানের দিকে৷ কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে যাওয়া ছবি মানহাইম চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়না৷ প্রতিবছর ৫০ হাজারের মত দর্শক ও ১ হাজার চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞের সমাগম হয় এই উৎসবে৷ এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷

এই চলচ্চিত্র উৎসবে দুই ভাগে ছবি প্রদর্শিত হয়েছে৷ এক দিকে অনুষ্ঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা৷ যাতে ১৪ টি দেশের ১৮ টি ছায়াছবি যোগ দিয়েছিল৷ অন্যদিকে ১১টি দেশের বেশ কয়েকটি ছবি ''আন্তর্জাতিক আবিষ্কার'' হিসাবে প্রদর্শিত হয়েছিল৷ এ ছাড়া চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি চলেছে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনাসভা৷

কানাডীয় কাহিনী চিত্র ''বেবি ফরমুলা''-র প্রদর্শনীর মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় মানহাইম-হাইডেলবার্গ চলচ্চিত্র উৎসব৷ দুই সমকামী নারীর প্রেম, ভালবাসা, সন্তানের আকাংখা তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে৷

ভারতীয় চিত্রনির্মাতা কে এম মধুসুধানান মানহাইম চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছিলেন তাঁর ''বায়স্কোপ'' ছবিটি নিয়ে৷ বায়স্কোপ ছবিটি মানহাইম উৎসবের সঙ্গে যেন একেবারে খাপ খেয়ে গেছে৷ ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেনের শাসনামলে প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্র দেখানো শুরু হয়৷ সেই সময়কার পরিবেশ ও পরিস্থিতির খুঁটিনাটি দিক লক্ষ্য রেখে তুলে ধরা হয়েছে ধীর লয়ের ছায়াছবি বায়স্কোপে৷ ইউরোপ ও আমেরিকার তুলনায় ভারতের মানুষদের চলচ্চিত্র প্রথম দিকে কিছুটা মুগ্ধ আবার কিছুটা বিভ্রান্তও করতো৷ উন্মুক্ত আকাশের নীচে বা তাঁবু খাটিয়ে সাদা পর্দায় দেখানো হোত সাদা কালো নির্বাক ছায়াছবি৷ বড় বড় চোখে অবাক বিস্ময়ে সে সব উপভোগ করতো নানা বয়সের দর্শক৷ এ যেন তাদের কাছে ছিল কিছুটা বাস্তব আবার কিছুটা অলীক৷

মধুসুধানান এই প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতির কথা জানান, জানেন, আমি যখন প্রথম ছবি দেখতে শুরু করি, তখন আমি ছিলাম চিত্রশিল্পী, পরিচালক নই৷ ভারতীয় নির্বাক ছায়াছবি আমাকে মুগ্ধ করতো৷ নির্বাক ছবিতে দৃষ্টিগোচর হয় অনেক কিছু, কল্পনার পাখাও ছড়িয়ে দেয়া যায় বহুদূর৷ শুধু ভারতীয় নয় অন্যান্য দেশের নির্বাক ছবি সম্পর্কেও এই কথা প্রযোজ্য৷

বাইস্কোপ ছবিটি মানহাইম উৎসবে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে৷

হেলমা সানডার্স-ব্রামস-এর ক্লারা ছবিটিও প্রশংসিত হয়েছে মানহাইম চলচ্চিত্র উৎসবে৷ প্রখ্যাত ধ্রুপদী সংগীতস্রষ্টা রবার্ট শুমান-এর স্ত্রী ক্লারা শুমান-এর জীবনালেখ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে চমত্‌কারভাবে৷ তাঁর যুগের এক আধুনিক নারী ও প্রতিভাবান পিয়ানো শিল্পী ক্লারা শুমান৷ সংগীতে অত্যন্ত দক্ষ হলেও স্বামী সন্তানের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ আনুগত্য ও ভালবাসা৷ পরিবারের প্রতি কর্তব্যে কোনো ত্রুটি ছিলনা তাঁর৷

হেলমা সানডার্স-ব্রামস বলেন, ক্লারা আমার কাছে একজন বীর নারী৷ সবার জন্য তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন৷ মঞ্চে তিনি একজন দক্ষ পিয়ানোবাদক, অন্যদিকে স্বামীর প্রতি আনুগত্যেও কার্পণ্য নেই তাঁর৷

মানহাইম-হাডেলবার্গ চল্চ্চিত্র উৎসবে সেরা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে Paula Hernandez পরিচালিত আর্জেন্টিনার ছায়াছবি ''বৃষ্টি''৷ বৃষ্টিস্নাত বুয়েনিস আইরেস শহরে এক বিষাদমাখা ধূসর পরিবেশে দুই তরুণ তরুণীর সাক্ষাৎ তাদের ব্যথা বেদনা তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে চমৎকারভাবে৷

জুরি কমিটির প্রধান এডগার রাইস বলেন, বড় বড় বহু চলচ্চিত্র উৎসবের তুলনায় এই উৎসব অনেক বেশি উত্তেজনাকর৷ আমি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবেও যোগ দিয়েছি জুরি হিসাবে৷ প্রতিবছর বিশ্বখ্যাত তারকাদের সমাগম হয় সেখানে৷ কিন্তু মানহাইম-হাইডেলবার্গ চলচ্চিত্র উৎসবে সাফল্য ও খ্যাতিই আসল কথা নয়৷ এখানে ছায়াছবির সঙ্গে পরিচালক, লেখকের সম্পৃক্ততাই মূল বিষয়৷ এটা আমার খুব ভাল লাগে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন