মানসিক রোগাক্রান্ত অভিবাসীদের জন্য আন্তঃসাংস্কৃতিক চিকিৎসা কেন্দ্র | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.05.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

মানসিক রোগাক্রান্ত অভিবাসীদের জন্য আন্তঃসাংস্কৃতিক চিকিৎসা কেন্দ্র

মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা ডাক্তারদের পক্ষে সহজসাধ্য ব্যাপার নয়৷ মানসিক ভারসাম্যহীন অভিবাসীদের চিকিৎসা করাটা তো আরো দুরূহ৷ এজন্য জার্মানির বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ শাখা খোলা হয়েছে৷

অনেকেই সংকোচ বোধ করেন তাঁদের অবস্থা তুলে ধরতে

অনেকেই সংকোচ বোধ করেন তাঁদের অবস্থা তুলে ধরতে

ডিপ্রেশন, চরম হতাশা - এই ধরনের নানা রকম মানসিক সমস্যায় শরণাপন্ন হতে হয় মানসিক চিকিৎসকের৷ কিন্তু জার্মানিতে বসবাসকারী বিদেশি বা অভিবাসীদের পক্ষে মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই একটা বড় সমস্যা৷ অনেকেই সংকোচ বোধ করেন তাঁদের অবস্থা তুলে ধরতে৷ কেউ কেউ এমনভাবে তাদের অসুখের বর্ণনা করেন, যা ডাক্তারদের পক্ষে বোঝা মুস্কিল৷

অভিবাসীরা মানসিক সমস্যার কথা ঠিকমত বোঝাতে পারেননা

ইরাক থেকে আসা এক মহিলা জার্মানিতে বসবাস করছেন ৩০ বছর ধরে৷ দেশে শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি৷ বহু বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমি ৫০ বছর ধরে প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় ভুগছি৷ খুব বেশি, খুব বেশি৷ প্রতিদিন প্রতিদিন৷''

তাঁর অসুখটা তুলে ধরতে সঠিক শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না ইরাকি এই মহিলা৷ ডিপ্রেশন বা মাত্রাধিক বিষন্নতায় ভুগছেন প্রাক্তন এই শিক্ষিকা৷ তিনি আরো জানান, ‘‘আমার দেশ সম্পর্কে টিভিতে মন্দ কিছু দেখলে দুই তিন দিন ঘুম হয়না আমার৷ আমি শুধু অপেক্ষা করি৷ কিন্তু জানিনা কিসের জন্য৷ আমার মাথা ব্যথা করে৷ প্রচণ্ড মাইগ্রেন আমার৷''

যেভাবে তাঁর সমস্যা বর্ণনা করেন তিনি, তা থেকে জার্মান ডাক্তারদের পক্ষে রোগ শনাক্ত করা সহজ নয়৷ বন শহরের বড় এক ক্লিনিকের আন্তঃসাংস্কৃতিক বিভাগে সাহায্য পান তিনি৷ যারা জার্মানিতে বড় হয়ে ওঠেননি, তারা তাদের মানসিক অসুস্থতার কথা জার্মান রোগীদের তুলনায় ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করেন৷ জানান ডা. গেলাস হাবাশ৷ উত্তর ইরাক থেকে আসা এই চিকিৎসক বন শহরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত৷ আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশগুলিতে মানসিক অসুস্থতা একটা নিষিদ্ধ বিষয় বা ট্যাবু৷

Symbolbild Stress Depression

ডিপ্রেশন বা মাত্রাধিক বিষন্নতায় ভুগছেন অনেকে

নানা রকম শারীরিক অসুবিধার কথা বলেন বিদেশিরা

ডা: হাবাশের ভাষায়, ‘‘তাঁরা যে ডিপ্রেশনে ভুগছেন, সেটাও বুঝে উঠতে পারেননা অভিবাসীরা৷ মানসিক অশান্তির কথা বলতে গিয়ে তাঁরা নানা শারীরিক অসুবিধার কথা বলেন৷ মাথাব্যথা, পেটব্যাথা বা পিঠব্যথায় ভোগার কথা জানান৷''

নয় বছর ধরে বন শহরের একটি ক্লিনিকে আন্তঃসাংস্কৃতিক চিকিৎসা বিভাগ কাজ করছে৷ এখানে অভিবাসীরা মানসিক অসুস্থতায় সাহায্য পেতে পারেন৷ এই ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে অন্যান্য ক্লিনিকেও নেওয়া হয়েছে৷

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: হাবাশ আরবি, কুর্দি ও রুশ ভাষায় কথা বলতে পারেন৷ অভিবাসীরা তাদের মানসিক অশান্তির কথা যেভাবে বর্ণনা করেন, তা বুঝতে পারেন তিনি৷ তিনি জানান,‘‘যেমন ইরান বা অন্য কোনো দেশ থেকে আসা মানসিক রোগী যদি বলেন, আমার কলজে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে৷ তা হলে বুঝতে হবে কী বলতে চাইছেন তিনি৷ আসল অর্থটা বুঝতে না পারলে, মনে হবে যকৃৎ টুকরো হলে তো অপারেশন করতে হবে৷ কিন্তু রোগী অন্তর বিদীর্ণ হওয়া কিংবা দুঃখে ভারাক্রান্ত হওয়ার কথা বোঝাতে চাইছেন৷ তুর্কিরা যখন বলেন, ‘ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া মাথা', তখন বুঝতে হবে বোধশক্তি লোপ পেয়েছে৷''

অভিবাসীদের মানসিক সমস্যা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ

প্রতি তিন মাসে ১৫০০ রোগীর চিকিৎসা হয় বনের ক্লিনিকে৷ ইরাকের প্রাক্তন শিক্ষিকাকেও সাহায্য করতে পেরেছেন ডা: হাবাশ৷ তিনি অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন এখন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমি প্রতি মাসে একবার আসি এখানে৷ সমস্যা হলেই ডা: হাবাশের সঙ্গে কথা বলি৷ মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খেতে হয়৷ টিভিতে ইরাকের কোনো দুর্ঘটনার খবর পেলেই ঘুম হয়না৷ ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাতে হয়৷ আমি খেলাধুলা করতে চেষ্টা করি৷ বের হই হাঁটতে৷ বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চেষ্টা করি৷''

চিকিৎসা ছাড়াও অন্যান্য সমস্যাতেও বনের ক্লিনিকে সাহায্য পেতে পারেন বিদেশিরা৷ অভিবাসীরা জার্মানির জটিল চিকিৎসা ও সামাজিক ব্যবস্থায় খেই হারিয়ে ফেলেন৷ ক্লিনিকের একজন সমাজকর্মী বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজকর্ম ও আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করে থাকেন তাঁদের ৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

বিজ্ঞাপন