মানসিক যন্ত্রণার চেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়াই শ্রেয় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

মানসিক যন্ত্রণার চেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়

ডিভোর্স কখনই আনন্দের নয়, হোক সে বিচ্ছেদ তরুণ কিংবা বেশি বয়সে৷ কমবয়সীদের ডিভোর্স কিছুটা মেনে নিলেও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নয়, তা বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদে জানিয়ে দিচ্ছে স্যোশাল মিডিয়া৷

বিল ও মেলিন্ডা গেটস

বিল ও মেলিন্ডা গেটস

অন্যদের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করতে অনেকেই বেশ পছন্দ করেন৷ তাদের নিয়ে কেউ কেউ মুখরোচক গল্পও বানিয়ে ফেলেন আবার কেউবা সমবেদনা জানান৷ তবে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার কারণগুলো নিয়ে কে কতটা ভাবেন, প্রশ্ন থেকে যায়৷

বিল ও মেলিন্ডা গেটসের দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষে বিবাহ বিচ্ছেদের খবরটি বেশ আলোড়ন তুলেছে আমাদের সমাজে, বিশেষ করে স্যোশাল মিডিয়ায়৷ তারা ১৩০.৫ বিলিয়ন ডলারের মালিক সেজন্য নাকি তাদেরএকটু বেশি বয়সে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ?

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তরুণ দম্পতিদের মধ্যে ডিভোর্সের হার বেড়েছে অনেক বেশি যা দেশের মানুষই ভালো জানেন৷ বয়স্কদের মধ্যে তেমন দেখা যায় না আর হলেও মানুষ আড়াল করার চেষ্টা করে৷ আমাদের সমাজ তা মেনে নেবে না বলেই হয়তো শত কষ্ট হলেও ডিভোর্সের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বয়স্করা ভাবতে পারেন না৷

আমার কাছের একজন মানুষকে দেখেছি দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই স্বামী-স্ত্রীর অমিল থাকা সত্ত্বেও সংসার করেছে বহুদিন৷ যদিও শেষ পর্যন্ত সে সংসার আর টেকেনি ফলে শেষ বয়সে একা থেকেছে যা নিঃসন্দেহে ছিল বেদনাদায়ক৷ আবার এমনও দেখেছি সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারায় দ্বিতীয়বার বিয়ে করে সুখে আছেন৷ ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত যার যার নিজস্ব ব্যাপার৷ ইউরোপ অ্যামেরিকায় মানুষ অন্যের মতামত নয় পারিবারিক সুখের ব্যাপারে নিজেদের মনকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন৷

আমার অভিজ্ঞতায় দেখা বিদেশিদের সম্পর্কে বাঙালিদের কিছু ভুল ধারনা রয়েছে৷ যেমন  পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ কথায় কথায় ডিভোর্স দেয়, তাদের মধ্যে তেমন ভালোবাসা নেই৷ কিংবা সন্তানেরা মা-বাবার খোঁজ খবর রাখে না, ১৮ বছর বয়সে তারা বাড়ি থেকে চলে যায় ইত্যাদি৷

আসলে কে কি বলবে তা নিয়ে এদেশের মানুষ যে একেবারেই ভাবে না তা নয়৷ তবে বিয়ে, ডিভোর্স, সন্তান উৎপাদন, সংসার এসব ব্যাপারে সমাজ কি ভাববে সেটা নয় , তাদের নিজেদের মতামতই চূড়ান্ত৷ আসলে বিদেশিরা অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না, যা সকলের জন্যই স্বস্তিদায়ক৷ 

তারুণ্যের আনন্দ উচ্ছ্বাস একরকম আর বয়স্কদের অন্যরকম-এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু বয়স হলে যে সাধ আহ্লাদ থাকতে নেই, তেমন তো নয় ! প্রতিটি মানুষেরই বয়সের সাথে সাথে শরীর এবং মন দুটোরই  পরিবর্তন হয় আর এটাই বাস্তব৷ যে কোনো বয়সেই জীবনসঙ্গীর সাথে অমিল  হতেই পারে! তারপরও যে কষ্ট করে বাকি জীবন তাদের একসাথে থাকতেই হবে এমনটা এদেশিরা মনে করে না৷ তাছাড়া আমি দেখেছি তরুণ বয়সে মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হলে ছোট সন্তানদের কষ্টের মাত্রা অনেক বেশি হয়৷

Nurunnahar Sattar, DW-Mitarbeiterin Bengali Programm

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

জার্মান পরিসংখ্যান অফিসের এক হিসেবে দেখা গেছে,  দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরে যারা ডিভোর্স করেছেন তাদের সংখ্যা বেড়ে গত ৩০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে৷

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে  বোঝাপড়া একটি বড় ব্যাপার৷ পরিবেশ, পরিস্থিতি, সময়, বয়স এসব নানা  কারণে সম্পর্ক নড়বড়ে হতে হতে একসময় হয়ত ডিভোর্সের দিকে এগোয়৷ 

অবশ্য আমাদের অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে নারীরা নিজেদের কষ্ট হলেও দাম্পত্য জীবনের ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখায় চেষ্টা করে৷ এদেশে অনেক নারীকেই দেখেছি ছোটখাট সমস্যা বা নিজের দুঃখ কষ্টগুলো সহজেই অন্যের সাথে শেয়ার করে৷ ডিভোর্স নিয়ে নারী, পুরুষ সবাই খুব সহজেই কথা বলেন৷  তবে বয়স্কদের ডিভোর্স নিয়ে গত চার দশক আগে জার্মানদের মনোভাব যেমন ছিল আমাদের অঞ্চলের মানুষের বর্তমান মনোভাব অনেকটা সেরকম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন