মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা বাড়ছে | বিশ্ব | DW | 19.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা বাড়ছে

জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে জন্ম নিচ্ছে মানসিক অবসাদ৷এ প্রবণতা মহিলাদের, বিশেষ করে বিবাহিতা মহিলাদর মধ্যে বেশি৷ ওই অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যা করছেন তাঁরা৷

এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে৷ বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানি ডা. আর. নিয়োগী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানসিক অবসাদ যে একটা অসুখ, তার যে চিকিত্সা দরকার, সেটা মনে রাখেন না শতকরা নব্বই জন৷''

বিশ্বে যত মহিলা আত্মহত্যা করেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে তার ৩৭ শতাংশ ভারতীয়, যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ৪০-এর মধ্যে৷ অধিকাংশই বিবাহিতা৷ সমীক্ষা বলছে, ভারতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পঞ্চম বড় কারণ আত্মহনন৷ বিবাহিতা মহিলাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি কেন ? প্রথম এবং প্রধান কারণ লিঙ্গ বৈষম্য৷ দ্বিতীয় কারণ, ভারতে বিবাহ নামক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় মেয়েদের আশা-আকা্ঙ্খা পূরণের পরিসর তেমন নেই বললেই চলে৷ একদিকে সাংসারিক তথা সামাজিক প্রত্যাশার চাপ, অন্যদিকে আর্থিক স্বনির্ভরতার অভাব৷ অল্প বয়সে বিয়ে এবং অল্প বয়সে মাতৃত্বের দায় দায়িত্ব৷ মেয়েদের জীবনে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা৷ সেই চাপটা এসে পড়ে মনের উপর৷ এই চাপ উপশমে যদি সে কাউকে, বিশেষ করে স্বামী বা অন্য পরিজনকে পাশে না পায়, তাহলে সেটা পরিণত হয় মানসিক অবসাদে৷ জীবন সম্পর্কে দেখা দেয় এক অনীহা, বিতৃষ্ণা৷ বাঁচার ইচ্ছেটা চলে যায়৷ আত্মহননকে এই চাপ থেকে মুক্তির সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয়৷ এর পাশাপাশি আরো একটা বড় কারণ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞানতা৷

অডিও শুনুন 03:53

‘ মানসিক অবসাদের পেছনে আছে নানা কারণ, সামাজিক লিঙ্গ বৈষম্য অন্যতম’

সমীক্ষার এক পরিসংখ্যানে বলা হয়,  ১৯৯০ সালে যেখানে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার, ২০১৬ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৩১৪ অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি৷ এ বিষয়ে ডা. আর. নিয়োগী বললেন, ‘‘মূলত এর বড় কারণ হচ্ছে জেনেটিক বা জিনঘটিত, যদিও এটা প্রমাণ করার মতো বৈজ্ঞানিক স্টাডি এই মূহুর্তে আমাদের হাতে নেই৷ তবে আগামী দিনে আমরা সেটা করবো, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে৷ যদিও অন্যান্য রাজ্যেও আত্মহত্যার ঘটনা যথেষ্ট বেশি৷ দ্বিতীয়ত, মানসিক অসুস্থতার চিকিত্সা দেশে খুব কম৷ বস্তুত মানসিক অসুস্থতার প্রধান কারণ অবসাদ৷ দেখা গেছে, ভারতে ১০০ জন মানসিক অবসাদে ভুগলে ৯০ জন চিকিত্সা সহায়তা নেন না৷ অন্যদিকে জার্মানি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে মানসিক অবসাদের চিকিত্সা সহায়তা নেন না মাত্র ৩০ থেকে ৪০ জন৷ এক কথায় ভারতে যেখানে চিকিত্সা সহায়তা নেন না শতকরা ৯০ জন, সেখানে ঐসব দেশে নেন না শতকরা ৩০ থেকে ৪০ জন৷''

মানসিক অবসাদের প্রধান কারণ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানি ডা. নিয়োগী ডয়চে ভেলেকে বললেন, মানসিক অবসাদের পেছনে আছে নানা সামাজিক কারণ. সামাজিক লিঙ্গ বৈষম্য যার অন্যতম৷ তৃতীয়ত, পশ্চিমী মিডিয়া, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে সুইসাইডের ব্যাপক প্রচার৷ কোনো আত্মহত্যার ঘটনার বিভিন্ন দিক অনুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়৷ যেমন, কেন, কিভাবে এবং কী অবস্থায় আত্মহত্যা করলো ইত্যাদি৷ সেই মেথডটা তাঁরা নিয়ে নেয় এবং সেইভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করে৷ যেমন ধরুন, ২০১৪-১৫ সালে কলকাতায় কিছু হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি হয়, সেখান থেকে অনেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে৷ এইসব ঘটনা ফলাও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়৷ অবশ্য, উঁচু বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিল বয়স্করা বেশি৷ এসবের পরও একটা কথা বলা যায়, আত্মহননের সব থেকে বড় ভূমিকা গার্হস্থ্য হিংসা৷ যেমন ধরুন, কাজ করতে ইচ্ছা করছে না অবসাদের কারণে৷ ঘরের অন্যরা মনে করছে, সে ইচ্ছা করে কাজ করছে না৷ মহিলারা এমনিতেই জেনেটিক্যালি বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়৷ তার সঙ্গে আছে প্রেম-ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতা, বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি৷

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আত্মহত্যার হার সমান নয়৷ দক্ষিণী রাজ্য কর্নাটকের প্রতিলাখে ৩০ জন. তামিলনাড়ুতে ৩০ জন. অন্ধ্রপ্রদেশে প্রতিলাখে ২৫ জন৷ আত্মহত্যার হার তুলনামূলকভাবে সবথেকে কম জম্মু-কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং দিল্লি,পাঞ্জাব, ঝাড়খন্ড এবং বিহারে৷ পুরুষদের আত্মহত্যার পেছনে সাধারণত কাজ করে মদ ও মাদকাসক্তি, গার্হস্থ্য হিংসা, দারিদ্র্য তথা বেকারত্ব৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন