মানব শরীরকে সংরক্ষণ করে রাখার পদ্ধতি - প্লাস্টিনেশন | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 09.08.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

মানব শরীরকে সংরক্ষণ করে রাখার পদ্ধতি - প্লাস্টিনেশন

আমাদের এই মানব দেহ অপার রহস্যের আঁধার৷ তাই মৃত্যুর পরও এই মানব শরীরকে সংরক্ষণ করে রাখার চেষ্টা বহুদিনের৷ মানবদেহ সংরক্ষণ করে রাখার আধুনিক যে পদ্ধতি, তার নাম প্লাস্টিনেশন৷ যার জনক জার্মান বিজ্ঞানী গ্যুন্টার ফন হাগেন্স৷

Oberhausen; 29.01.2000: Anstatt Leichen in formalingefüllten Behältern zu konservieren, arbeitet der Anatom Gunther von Hagens nach einem von ihm entwickelten Verfahren, das er Plastination nennt. Er entzieht dem Gewebe Wasser und Fett und füllt es mit Kunststoff. Der härtet aus, so dass die Organe plastisch bleiben. Sie sind ewig haltbar, geruchsfrei und nicht mehr in einem Glas versteckt. Von Hagens hat die Ausstellung Körperwelten erfunden.

মানব শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য শত শত বছর ধরে মানুষ নানাভাবে চেষ্টা করে আসছে৷ সেই প্রাচীন মিশরের মমি থেকে শুরু করে আধুনিক জগতের প্লাস্টিনেশন৷ শুরুতে লক্ষ্যটা ছিলো ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে৷ কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এই দেহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হয়েছে শরীরকে চেনা ও জানা৷ মানব শরীরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপার রহস্যকে খুঁজে বের করা৷

১৯৭৭ সালে জার্মান বিজ্ঞানী গ্যুন্টার ফন হাগেন্স এই প্লাস্টিনেশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন৷ প্লাস্টিনেশন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘প্লাসিন' থেকে যার অর্থ আকৃতিতে রূপ দেওয়া৷ প্লাস্টিনেশনের মাধ্যমে কেবল জৈবিক শরীরের অঙ্গ ও কোষ নয়, গোটা শরীরকেও সংরক্ষণ করা হয়৷

মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকেই তার শরীর দ্রুত পচতে শুরু করে যাকে বলা হয় ‘ডিকম্পোজিশন'৷ প্রথমে শরীরে থাকা এনজাইম কোষগুলো অবমুক্ত হতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে গোটা শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং মাইক্রোঅর্গানিজমগুলো পচতে শুরু করে৷ শরীরে থাকা পানি এবং চর্বি সরিয়ে তার জায়গায় পলিমার ঢুকিয়ে প্লাস্টিনেশন এই পচে যাওয়াকে রোধ করে৷ প্লাস্টিনেশন শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে টিকে থাকতে দেয় না, ফলে শরীরও আর পচতে পারে না৷ তবে শরীরের তরল পদার্থগুলো সরাসরি পলিমারের সংস্পর্শে কাজ করতে পারে না৷ তাই গ্যুন্টার ফন হাগেন্স একটি বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন৷ প্রথমে শরীরের মধ্যে অ্যাসেটোন নামে দ্রাবক ঢুকানো হয় এরপর তার জায়গায় পলিমার ব্যবহার করা হয়৷

***Das Pressebild darf nur in Zusammenhang mit einer Berichterstattung über die Ausstellung verwendet werden*** Schachspieler Copyright: Gunther von Hagens, Institut für Plastination, Heidelberg, www.koerperwelten.de

প্লাস্টিনেশনের মাধ্যমে শরীরকে দুইভাবে সংরক্ষণ করা হয়৷ একটা হলো কাগজের মত পাতলা করে মৃত শরীরটিকে কেটে কেটে রাখা৷ নয়তো পুরো আস্ত শরীরটাকেই বিভিন্ন ভঙ্গিতে রেখে দেওয়া৷

প্লাস্টিনেশনের ধাপগুলো এবার আরও সহজভাবে বলি৷ প্রথম পর্যায়ে মৃতদেহটির ভেতরে ফর্মালিন ঢোকানো হয়৷ ধমনির মাধ্যমে এই ফর্মালিন গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই ফর্মালিন ব্যকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে৷ ফলে শরীরের কোষগুলোর ‘ডিকম্পোজিশন' বা দ্রুত পচন প্রক্রিয়া থেমে যায়৷ এরপর গোটা শরীরটাকে অ্যাসেটোন নামক একটি দ্রাবকের চেম্বারে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চুবিয়ে রাখা হয়৷ তবে তার আগে দেহ থেকে পানি এবং অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে ফেলা হয়৷ উল্লেখ্য, দেহকোষের শতকরা ৭০ ভাগই কিন্তু পানি৷ পরবর্তী পর্যায়ে অ্যাসেটোনের জায়গায় পলিমার সলিউশন ব্যবহার করা হয়৷ এজন্য মৃতদেহটিকে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারের মধ্যে রাখা হয় এবং তার ভেতরে বাতাসের চাপ আস্তে আস্তে কমানো হয়৷ এক পর্যায়ে চেম্বারে থাকা অ্যাসেটোন ফুটতে শুরু করে৷ এভাবে কোষে জমে থাকা অ্যাসেটোনগুলো বের হয়ে যেতে শুরু করে৷ চেম্বারের অন্য একটি পাইপ দিয়ে ঢোকানো হয় পলিমার৷ যেমন এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় সিলিকন রাবার৷ এই সিলিকন রাবার কোষগুলোর ভেতরে প্রবিষ্ট হয় এবং দেহের সবকোষে এই পলিমার বা সিলিকন রাবার পুরোপুরি প্রবিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে৷

এভাবে কয়েক সপ্তাহ পার হয়৷ সিলিকন রাবারের কারণে গোটা চেম্বারই একটি শক্ত টুকরোয় পরিণত হয় যার ভেতরে শুয়ে আছে মৃত মানুষের শরীরটি৷ তারপর সেই জমাট বাধা শক্ত টুকরোটি বিশেষভাবে কাটা হয়৷ অত্যন্ত পাতলা মাত্র কয়েক মিলিমিটার চওড়া করে কাটা এসব ফালিগুলোতে একটি মানুষের শরীরের প্রতিটি অংশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে৷ একে বলা হয় শিট প্লাস্টিনেশন৷

তবে মৃতদেহটিকে পলিমারের মধ্যে জমতে না দিয়ে বের করেও আনা যায়৷ এই ক্ষেত্রে দেহটিকে যে কোন ভঙ্গিতে বসানো কিংবা দাঁড় করানো যায়৷ তবে এইজন্য বিশেষ পলিমার ব্যবহার করতে হয় যেটা আলো, বাতাস এবং তাপের মধ্যে টিকে থাকতে পারে৷ এরপর পুরো দেহটিকে একটি এয়ার টাইট চেম্বারে রাখা হয় এবং তাতে গ্যাস এবং তাপ ঢোকানো হয়৷ এর ফলে দেহটিকে যেই ভঙ্গিতে বসানো হয়েছে সেভাবেই সেটি শক্ত হয়ে যায় এবং এভাবেই টিকে থাকে মাসের পর মাস৷ একে বলা হয় ফিগার প্লাস্টিনেশন৷

প্লাস্টিনেশনের এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সাধারণত এক বছর লেগে যায়৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন