মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের নিবন্ধন বাতিল | বিশ্ব | DW | 07.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের নিবন্ধন বাতিল

বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘অধিকার'-এর নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির এনজিওবিষয়ক ব্যুরো৷ পাশাপাশি সংগঠনটির বিরুদ্ধে দেশের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন' করার অভিযোগও এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি৷

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে সরব অধিকার (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে সরব অধিকার (ফাইল ফটো)

অধিকার ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করছে৷

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অনেকদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে অধিকার৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে দেশটির বিতর্কিত বিশেষ পুলিশ বাহিনী ব়্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের ঘটনার বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে সংগঠনটি৷ 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ব়্যাব এবং এটির সাত সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷ বাংলাদেশের বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন৷

অধিকার রোববার এনজিও ব্যুরোর একটি নির্দেশনা গণমাধ্যমকে দেখিয়েছে যেটিতে নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে৷ এনজিও ব্যুরো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি প্রতিষ্ঠান যেটির কাজ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করা৷   

‘‘সংগঠনটির কার্যকম সন্তোষজনক নয়'' লেখা হয়েছে নির্দেশনায়৷ 

এতে আরো লেখা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে কথিত গুম-খুনসহ বিচারবহির্ভূত বিভিন্ন হত্যার বিষয়ে অধিকারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়৷ এতে বহির্বিশ্বে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ক্ষুন্ন করে৷''

বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি সংক্রান্ত নিবন্ধন দশ বছরের জন্য নবায়নের আবেদন অধিকার করেছিল ২০১৪ সালে৷ কিন্তু এনজিও ব্যুরো দীর্ঘসময় এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো থেকে বিরত থাকে৷ ফলে একরকম প্রতিকূল পরিবেশে কাজ চালিয়ে যায় বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত এই মানবাধিকার সংগঠনটি৷

নিবন্ধনের বিষয়টি সুরাহায় একপর্যায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় অধিকার৷ সেখানে কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে শুনানি হতে পারে৷ তবে তার আগেই এনজিও ব্যুরো এক নির্দেশনায় নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে৷

অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এই বিষয়ে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘এর অর্থ হচ্ছে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে৷ আমরা এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবো৷''

‘‘গত বেশ কয়েকবছর ধরে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে অধিকার এবং বিধিবহির্ভূতভাবে আমাদের নিবন্ধন বাতিল সংগঠনটির কণ্ঠরোধের সর্বশেষ চেষ্টা,'' যোগ করেন তিনি৷

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন নিবন্ধন বাতিলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী নীতির প্রতিফলন ঘটেছে৷'' 

ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে কি ব়্যাব জড়িত?

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘এটা হাস্যকর যে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী মানবাধিকার সংগঠনটির নিবন্ধন আট বছর স্থগিত রাখার পর বাতিল করেছে কেননা দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে দেশটি বৈশ্বিক ক্রোধের মুখে পড়েছে৷''

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ এবং তাদের শাপলা চত্বর থেকে পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে ‘অধিকার' সেবছরের ১০ জুন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে৷ তাতে ঐ ঘটনায় অন্তত ‘৬১ জন নিহত' হয়েছে বলে দাবি করে মানবাধিকার সংগঠনটি৷

এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে ৬১ জনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানতে চায়৷ ২০১৩ সালের ১০ জুলাই অধিকারকে দেয়া চিঠিতে তথ্য মন্ত্রণালয় লিখেছিল, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় সরকার প্রকৃত সংখ্যা দেশের নাগারিকদের জানাতে চায়৷

তখনকার পত্রপত্রিকা ঘেঁটে ১৬ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য জানা যায়নি৷ এই বিষয়ে অধিকার বিরুদ্ধে করা একটি মামলা এখনো চলছে৷

এআই/কেএম

সংশ্লিষ্ট বিষয়