মাদ্রাসায় ‘অবাধ’ ধর্ষণ সম্পর্কে বলছেন বাংলাদেশিরা | বিশ্ব | DW | 30.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মাদ্রাসায় ‘অবাধ’ ধর্ষণ সম্পর্কে বলছেন বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে নিজেরাই পোস্ট দিয়েছেন কেউ কেউ৷

হুজাইফা আল মামদুহ

হুজাইফা আল মামদুহ

মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতনের ঘটনা এর আগেও প্রকাশ পেয়েছে৷ গত এপ্রিলে এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তার ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের পর পাশবিকভাবে হত্যা করেন৷ এরপর পরই এসব ঘটনা সামনে চলে আসছে৷

গত জুলাই মাসে পাঁচজন মাদ্রাসা শিক্ষককে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ১১ বছরের এক এতিমকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক হন কয়েকজন শিক্ষার্থী৷ ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সের ডজনখানেক ছেলেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একজন মাদ্রাসা শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করা হয়৷

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ষণ থেকে শুরু করে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়৷

শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের প্রধান আবদুস শহীদ এএফপিকে বলেন, ‘‘বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে তা প্রকাশ্যে আসেনি৷ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শিশু সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠান, কিন্তু তারা এই অপরাধগুলো নিয়ে কথা বলেন না এটা ভেবে যে এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হবে৷’’

ঢাকার তিনটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন হুজাইফা আল মামদুহ৷ গত জুলাইয়ে ফেসবুকে নিজেসহ অন্য মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রকাশ করে দেন তিনি৷ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মামদুহ বলেন, মাদ্রাসায় যারা পড়াশোনা করেছে তাদের সবাই এই যৌন নির্যাতন সম্পর্কে জানে৷

‘‘আমি জানি অনেক মাদ্রাসা শিক্ষক শিশুদের সঙ্গে যৌন মিলনকে বিবাহবহির্ভূত নারীদের সঙ্গে যৌন মিলনের থেকে কম অপরাধ বলে বিবেচনা করেন৷ যেহেতু তারা মাদ্রাসায় একই ছাত্রাবাসে থাকেন তাই তারা সহজেই তাদের অপরাধ আড়াল করতে পারেন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এ বিষয়গুলো চেপে রাখতে চাপ দেন৷’’

আল মামদুহের ফেসবুক পোস্টগুলো বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং এজন্য তাকে হুমকিও পেতে হয়েছিল৷ তাকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ভারমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ আনা হয়৷ একই সঙ্গে ২০১৫ সালে খুন হওয়া ব্লগার অভিজিৎ রায়ের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তাকে৷

তবে ফেসবুকে মামদুহ মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন নিয়ে খোলামেলাভাবে লেখার পর অন্যদেরও সেই নীরবতা ভাঙতে উৎসাহিত করে৷ মোস্তাকিম বিল্লাহ মাসুম একটি ওয়েবসাইটে লিখেছেন, সাত বছর বয়সে সে প্রথম তার মাদ্রাসার এক বড় ভাইয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল৷

১৫ বছর বয়সি এই তরুণ এএফপিকে জানান, তার এক শিক্ষক তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করেছিল৷ মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতন করার তথ্য তার কাছে রয়েছে৷

এসআই/কেএম (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন