‘মাদকের উৎসমূলে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত’ | বিশ্ব | DW | 17.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘মাদকের উৎসমূলে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত’

সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

এই উদ্যোগগুলোকে কীভাবে দেখছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস চৌধুরী? ডয়চে ভেলের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি৷

ডয়চে ভেলে : মাদকের সংজ্ঞা কী?

অধ্যাপক মানস চৌধুরী : যদি ঐতিহাসিকভাবে বলি, সম্ভবত এর প্রচুর প্রমাণও আছে, যখন স্থানীয় কোন ভেষজকে কলোনিয়াল প্রশাসকেরা ক্ষতিকর নেশাদ্রব্য, এই ক্যাটাগরিতে ফেলেছে৷ এটা একটা লিগ্যাল-মেডিকেল লড়াই৷ যদি আমরা পুরোনো কালের কথা বলি, ধরুন আপনি একটা নির্দিষ্ট পাতা দিয়ে, একটা নির্দিষ্ট চিকিৎসা করছেন এবং তার একটা নির্দিষ্ট ব্যবহার আছে; এর একটা নিজস্ব লোকজ স্থানীয় উপযোগ আছে৷ এটাকে কলোনিয়াল প্রশাসকেরা নেশাদ্রব্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পেরেছেন যখন, তাদের মোটের উপর দু'টো লাভ হয়েছে৷ একটা সাংস্কৃতিক লাভ, আরেকটি আর্থিক লাভ৷ আর্থিক লাভটা তো খুবই পরিস্কার৷ তার ড্রাগের মার্কেট বড় হবে৷ আর সাংস্কৃতিক লাভটা হচ্ছে, আপনি বাঙালি হোন আর সাঁওতাল হোন এখানে ‘বর্বরতার’ বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া যাচ্ছে৷ পুরো জিনিসটার মধ্যেই কাঠামোগত এক ধরনের বজ্জাতি আছে৷ ভালো বাংলায় বললে এটা দুরভিসন্ধি বলা যেতে পারে৷ সাধারণভাবে বলতে গেলে মাদক একটা লিগ্যাল-মেডিকেল টার্ম৷ এটা আইনি ও চিকিৎসাগত টার্ম৷ ডাক্তার বা আইনজীবী ভালো বলবেন৷ স্বাভাবিক দশা থেকে একটু ভিন্ন উত্তেজনা তৈরি করে এবং সমাজ সংহতিকে বিঘ্নিত করতে পারে এমন দ্রব্য৷ ক্রীড়াঙ্গনে এই সংজ্ঞাটা বেশি ব্যবহার হয়েছে৷ আমার মনে হয় না যে, শত শত বছর ধরে নির্ধারিত সংজ্ঞায় থাকা যাবে৷

অডিও শুনুন 23:36

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান প্রশাসন আসার পর থেকে মোটামুটি একটা ল্যাবরেটরি কেসের মতো দাঁড়িয়েছে’

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বছরে একবার ডোপ টেস্ট করা হবে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই উদ্যোগগুলো আপনি কীভাবে দেখেন?

সত্যি যদি বলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান প্রশাসন আসার পর থেকে মোটামুটি একটা ল্যাবরেটরি কেসের মতো দাঁড়িয়েছে৷ সরকারের একটা হুকুম মুখে উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা প্রতিপালনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত হয়ে পড়া, এমনকি কোনো ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও, গত দুই তিন বছর এটি এক্সটা অর্ডিনারিভাবে চলছে বলে আমি মনে করি৷ গ্রামের ভাষায় আমরা যেটা বলি, কোমর বেঁধে নেমে পড়া৷ পরিস্থিতিটা আসলে আরামদায়ক নয়৷ দেখেন অনেকগুলো জায়গায় আমাদের চয়েস নেই৷ যেমন ধরেন যখন এনআইডি আসল তখন তো আর আমাদের চয়েসের বিষয় থাকল না৷ প্রায় সকলকেই এটা নিতে হল৷ বিশেষ করে যারা চাকরি করেন তাদের সবাইকেই এটা নিতে হল৷ নাম ভুলসহ নানা ধরনের ভুল সত্ত্বেও৷ এখন সত্যি সত্যি সরকার যদি এটার বিধিমালা করে তাহলে আজকে হোক আর কালকে হোক সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে সেটা মানতে হবে৷ উনাদের মতো ব্যতিব্যস্ত হয়ে না হলেও এটা তো সবখানেই ঘটবে৷ আমি রাষ্ট্রের হুকুম পালনে অতটা বিচলিত নই সত্যি সত্যি৷ আমি বরং চিন্তিত কেন এক একটা সময় এক এক ধরনের ফরমান জারি হয়৷ প্রমাণ করা সম্ভব হবে না, হতে পারে এই ডোপ টেস্টটাকে সামনে আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো লক্ষ্যে৷ মুখস্তের মতো সংখ্যাটা না বলতে পারলেও সারাদেশের মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়নি৷ সবাই কবে পাবেন সেটা এখনও নিশ্চিত না৷ সবই চলছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীয় আলাপ৷ আপনার হয়তো কানে এসে থাকবে এই ভীতসন্ত্রস্ত আচরণের মধ্যে প্রচুর ডায়াগনস্টিক কোম্পানি অজস্র টাকা আয় করেছে৷ আমি তাদের সেবাকে খাট করতে চাচ্ছি না৷ একেকজনকে আটবার দশবার টেস্ট করতে হয়েছে৷ একেকবার টেস্টে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত গেছে৷ এরকম একটা সময় এই ডোপ টেস্টের ঘটনাটা আমাকে ভাবিয়েছে৷ বিষয়টা হচ্ছে, যেটা নীতিগত বা পলিসিগত প্রশ্ন, এটা ব্যক্তি অনুশীলন পর্যন্ত আসা প্রয়োজন কিনা৷ আমাদের চারদিক দিয়ে সীমান্ত, এগুলো যদি ভাবি আমরা ওই সেই সিগারেটের আলাপের মত, আমি নিজেও ধুমপায়ী৷ ফলে সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো তামাক বিক্রেতাদের থামানো৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব ড্রাগের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো খুব ক্লাসিফায়েড ড্রাগ৷ গাঁজা বা এগুলো নয়৷ উনি খুবই ক্লাসিফায়েড এবং সিনথেটিক ড্রাগের কথা বলছেন৷ সেগুলোর তো সুস্পষ্ট, এবং সুনির্দিষ্ট ভূ-রূপ আছে৷ এগুলো তো আপনি বাড়ির টবে চাষ করে সেবন করতে পারছেন না৷ আমি রাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে প্রহসনমূলক মনে করি৷ কারণ এগুলোর সোর্স বন্ধ করা সম্ভব৷

অনেকেই মদ আর মাদককে এক করে ফেলেন৷ কেউ মদ খেলে কী ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে? মদ খাওয়া আর মাদক সেবন দু'টোই কী একই ধরনের অপরাধ?

দীর্ঘদিন ইউরোপের আমস্টারডাম শহরে এবং এখন আরও অনেক জায়গায় গাঁজা সেবন বৈধ৷ এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে বলতে পরছি না, নেদারল্যান্ডসের পরে আরও দু'একটি রাষ্ট্রে এটার বৈধতার প্রসঙ্গ আসছে৷ এখন প্রশ্ন হল কী পরিমাণ সেবন বৈধ, সেখানে চাষ বৈধ না সেবন বৈধ? আমরা একটা সাদামাটা জ্ঞান থেকেই তো ভাবি! সতর্কতার সঙ্গেই বলছি, বাংলায় মদ আর মাদক এই দু'টোরই ধাতু এক৷ এই কারণে একটা গোলমাল হয়ে গেছে৷ কিছু সিনথেটিক মাদক যেগুলো ২৪ ঘন্টা, কোন কোন ক্ষেত্রে, যেমন ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেই সম্ভবত, ৪৮ ঘন্টারও পর ডোপ টেস্টে ধরা পড়েছিল৷ মদ একেবারেই এরকম জিনিস বলে মনে হয় না৷ প্রচলিত যে ডোপ টেস্টগুলো আমরা জানি তা তো আসলে স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডের কয়েকটি বিপর্যয় থেকে আসা জ্ঞান আমাদের৷

আমরা দেখেছি, এই ধরনের উদ্যোগ আগেও নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি৷ আমাদের পক্ষে কী এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ডোপ টেস্ট করার সক্ষমতা আছে?

একটু ঝুঁকিপূর্ণ আলাপ হবে৷ আমি মনে করি না যে, বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ডোপ টেস্ট করার কথা ভেবে এই উদ্যোগ৷ আমার কাছে মনে হয়, এটা একটা প্রকল্প৷ এটা করতে গেলে তো আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটা দপ্তর হবে৷ আরো কিছু এজেন্সি এর সঙ্গে জড়িত হওয়ার সম্ভবনা আছে৷ এটা হয়তো আউটসোর্সিং হবে৷ এটা হয়তো একটা প্রজেক্টে পরিণত হবে৷ এই পরিকল্পনার একটা প্রজেক্ট-মূল্য থাকতে পারে৷ প্রকল্পগত দিক থাকতে পারে৷ করোনার মতো খাতরনাক অসুখের ভ্যাকসিন দেওয়ার কী হাল? সেখান থেকে মনে হয় এটা কোনো সহজ লক্ষ্যের ঘোষণা দিচ্ছে৷ আমি মনে করি না, কোন প্রকল্পের সূচনা হয়, প্রকল্পের লক্ষ্য সাধনের জন্য৷ আমি মনে করি, প্রকল্পের সূচনা হয় প্রকল্পের আয়তন ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য৷

মদ খাওয়ার বিষয়ে একেক ধর্মে একেক রকম ব্যাখা আছে৷ কারও ধর্মে যদি মদ খাওয়া নিষিদ্ধ না হয় তাহলে সরকার কী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে? যে কারণে মদ খাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া হয় সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত?

রাষ্ট্রের যে বৈষম্য এটা তার দারুণ একটা উদাহরণ৷ একটু আগে যে বলছিলাম নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকজায়গায় বৈধ৷ এই বৈধ এর মানে কী? আমরা তো ভেঙে মানে করি না৷ ব্রিটিশকাল থেকে যে লাইসেন্সের বিষয়টা, সেখানেও কিন্তু মেডিকেল হেলথের একটা লজিক দেওয়া ছিল৷ এটা কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্রীয় আইন৷ আমরা তো জানি, এর একটা শ্রেণীগত পাটাতন আছে৷ কোন শ্রেণীর লোক কোথায় গিয়ে অনায়াসে মদ খরিদ করতে পারবেন সেটা প্রকাশ্যে আমরা বলতে নাও চাইতে পারি লিগ্যাল কারণে৷ কিন্তু মধ্যবিত্তরা সেটা যে জানি না, তা তো নয়৷ আর ধর্মের বিষয়টা একটু চক্রাকার হবে৷ আমরা বহু লোক চাই রাষ্ট্র ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত না হোক৷ বা রাষ্ট্রের একাংশও ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত না হোক৷ আমি মনে করি, মদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিষয়টা আত্মঘাতিভাবে সামনে আনা হচ্ছে৷ আমরা যদি বহু লোক চাই ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা না হোক তাহলে কেন মদের ক্ষেত্রে সেটা সামনে আনা হচ্ছে? আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, ধর্মীয় অনুশাসন আর রাষ্ট্রের প্রতিবিধান এই দু'য়ের সাংঘর্ষিক অবস্থান কিন্তু নানান কিছুতে আছে৷ বরং এভাবে যদি বলি, মদকে নিষিদ্ধ করা সেটা আধুনিক রাষ্ট্রের কয়েকটি প্রিন্সিপালের গুরুতর লঙ্ঘন৷ কিন্তু সত্যি সত্যি সেটা করতে চাইলে ধর্মের অজুহাতের দরকার নেই৷ এখন আমি ধূমপায়ী, কিন্তু বাজারে যদি সিগারেট না পাওয়া যায় তাহলে আমি বড়জোর তিনদিন চুল ছিঁড়ব৷ তারপর তো আমি নতুন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে যাব৷ যেটার সাপ্লাই নেই, সেটা নিয়ে হয়ত দু'একদিন বিলাপ করব, তারপর তো সেটা শেষ৷

যারা নিয়মিত মাদক সেবন করেন তাদের বছরে একবার ডোপ টেস্ট করলেই কী মাদক সেবন থেকে নিবৃত্ত করা সম্ভব?

না, সম্ভব না৷ লক্ষ্যটা যদি আপনার মাদক নিবারণ হয় তাহলে সত্যি সত্যি এর উৎসমুখগুলো, এর গতিপথগুলো, এর জংশনগুলো, এর রুটগুলোতে মনোযোগ দেওয়া অনেক কাজের হবে রাষ্ট্রের জন্য৷ কিন্তু সারাবছরে কোনো একজন ব্যক্তিকে একবার টেস্ট করা হবে তা দিয়ে নিবৃত্তি সম্ভব নয়৷ এটা রিহ্যাব থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায়৷ সত্যি সত্যি যেসব শিক্ষার্থীকে রিহ্যাবে যেতে হয়েছে এটার যে মর্মান্তিক ক্ষয়ক্ষতি হয় সেটা তো আপনি জানেন৷ এটা তো আর্থিকভাবেও অবহনযোগ্য৷ প্রায়ই দেখা যায়, তিনবার, চারবার ফেল করছে৷ সেখানে বছরে একবার ডোপ টেষ্ট করে কী হবে? আমি যেটা মনে করি, যদি সত্যি সত্যি ডোপ টেষ্ট চালু হয় তাহলে চাকরির ভয়ে চাকুরিজীবীরা হয়ত মাদক নেবেন না৷ এটা একটা লক্ষ্য হতে পারে৷ 

মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো কী আসলে মাদক নিরাময়ে ভূমিকা রাখছে? এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তো নানা ধরনের অভিযোগ আছে৷ এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে আরো বেশি কার্যকর করা যায়?

আমি যেহেতু শিক্ষকতা করি, সেখানে কিছু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক ঘটনা আমি জানি বা টের পাই৷ এই প্রশ্নটাতে আমি শুধু যত্নের সঙ্গে একাকার করার থেকে একটু আলাদা করতে চাইব৷ শুধু মাদক নিরাময় কেন্দ্র না, মানুষ যখন রাগ করে এনজিও বলে, তখনো তারা ভুলে যান যে, প্রচুর এনজিও আছে যারা বিনা পয়সায় দরিদ্র মানুষের ভূমি বিরোধ নিয়ে আইনি সহায়তা দিচ্ছে৷ প্রাইভেট হাসপাতালের মধ্যে ঢাকাতেই ১৮০ ডিগ্রী ভিন্ন ধরনের হাসপাতাল আছে৷ যত্নের সঙ্গে রোগী দেখা থেকে শুরু করে তিন মিনিটে এক হাজার টাকার হাসপাতালও আছে৷ কিছু নিরাময় কেন্দ্রের ব্যাপারে অভিযোগ কানে এসেছে৷ তারা একটা সিস্টেমেটিক ডিপেনডেন্সির মধ্যে রাখে এটা বলা হয়তো নিরাপদ হবে৷ ধরেন যারা গুরুতর রোগের রোগী, হাসপাতালে তাঁদের প্রচুর টাকা খরচ হয় তখন তাদের যেভাবে আয়ুর বা সুস্থতার বিষয়টা বলা হয় সেগুলোর মধ্যেও তো একটা স্ট্রাকচারাল প্রতারণা আছে৷ সারাংশ বললে, মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো এক রকমের হওয়ার কথা না৷ কারো কারো কর্তব্যবোধ অন্যদের থেকে আলাদা৷ যে কাঠামোগত বিষয়ের দিকে আপনি ইঙ্গিত করলেন, সেটা নিয়ে সমাজে আলোচনা আছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমারও মনে হয়েছে তাদের কেউ কেউ একটা সিস্টেমেটিক ডিপেনডেন্সির মধ্যে রাখে৷ অনেকেই রোগীর সঙ্গে আসামীর মতো আচরণ করে৷ তাতে আমার মনে হয় না, যারা মাদকাসক্ত তাদের আসলে কোনো সাহায্য করে৷ পরিশেষে আসলে কাউকেই হেল্প করে না এইরকম আচরণ৷

ভয়ংকর মাদক বলতে কি আলাদা কিছু আছে? না কি সব মাদকই ভয়ংকর? অন্যভাবে বললে মাদক সেবনের ফলে ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে কি ভয়ংকর বলা হচ্ছে?

মাত্র দু'তিনশ বছর আগে আমাদের এই অঞ্চলে তামাকের চেয়ে বহুলও প্রচলিত ছিল গাঁজা৷ তামাকই বরং পরে যুক্ত হয়েছে৷ পরে স্ট্যাটাসটা বদলে গেছে৷ তামাক আপনি পানের মতো চিবালেও পারিবারিক বিপর্যয় ছাড়া লিগ্যালি বা মরালি কেউ আপনাকে শাসন করতে যাচ্ছেন না৷ অত্যন্ত বিপজ্জনক মাদক থাকতে পারে৷ কিছু কিছু মাদকের ক্ষেত্রে শোনা যায়, এগুলো শুধু হ্যালুসিনেশন করে তাই-ই নয়, বরং তা দীর্ঘমেয়াদি অন্যান্য অরগানে ছাপ ফেলে যায়৷ আবার কিছু কিছু মাদক ইদানীং আবিষ্কৃত হচ্ছে, যা কিনা ভিডিও গেমসের মতো আমৃত্যু আসক্ত রাখবার মতো ক্ষমতা-সম্পন্ন৷ কেমিক্যালের প্রভাব তো আমরা হিস্টোরোক্যালি জানতে শুরু করেছি৷ ড্রাগ ইন্ড্রাস্ট্রিও তো মূলত কেমিক্যাল৷ আমি মনে করি, এক মাদকের চেয়ে আরেক মাদক অধিক ক্ষতিকর হওয়া সম্ভব৷ সাধারণভাবে বলা যায়, যে কোনো ভেষজ মাদক, যে কোনো কেমিক্যাল মাদকের থেকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ৷ এটা পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে বোঝা যায়৷ ভেষজ মাদকের পূর্বব্যবহার ছিল মূলত ঔষধিমূলক৷ কেমিক্যালের নতুন নতুন মাদক আসছে সেগুলোকে মারাত্মক বিপজ্জনক বলা সম্ভব বা বলা উচিৎ হবে আমাদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়