মাদকবিরোধী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিরোধীদের ঘায়েলের আশঙ্কা বিএনপির | বিশ্ব | DW | 23.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মাদকবিরোধী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিরোধীদের ঘায়েলের আশঙ্কা বিএনপির

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিরোধী পক্ষকে ঘায়েলের আশঙ্কা করছে বিএনপি৷ তারা মনে করে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধীদের দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে৷ ওদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে সবার সহযোগিতা চেয়েছে সরকার৷

গত ১৪ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম অংশ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে৷ মঙ্গলবার দিবাগত রাতেও বিভিন্ন জেলায় ন'জন নিহত হয়েছেন৷ একদিনে সবোর্চ্চ ১১ জন নিহত হয়েছেন সোমবার রাতে৷ আর একক জেলা হিসেবে যশোরে সর্বোচ্চ সাতজন নিহত হয়েছেন৷

এরইমধ্যে অভিযোগ উঠেছে এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত যারা নিহত হয়েছেন, তারা মাদক বহনকারী, খুচরা ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবী৷ অথবা কেউ কেউ আগে মাদক ব্যবসা করতেন, এখন ছেড়ে দিয়েছেন৷ যুবলীগ এবং যুবদলের দু'জন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাও আছেন এদের মধ্যে৷ তবে মূল হোতারা ধরা-ছোয়ার বাইরে রয়েছেন৷ তাই আলোচনায় উঠে এসেছে কক্সবাজারের (কক্সবাজার-৪ আসন) আওয়ামী লীগ দলের সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি৷ তাঁকে ইয়াবা পাঁচারে বাংলাদেশের ‘রিং লিডার’ বলে ধারণা করা হয়৷

Bangladesch - Zahlreiche Todesvolle durch Razzien gegen Drogenhandel

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় আওয়ামী লীগ সাংসদ বদিউর রহমান বদির নাম আছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে৷ স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার বদিকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তবে কোনো তথ্য প্রমাণ নাই৷’’ তাই তিনি বদির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷

আইন ও সালিশ কোন্দ্রের (আসক) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত৷ আমরা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানি যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, এমপি, পুলিশ, এমনকি মাদকদদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনও জড়িত৷ আর সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদির নামও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বার বার উঠে এসেছে৷ কিন্তু এই অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন বা বন্দুকযুদ্ধ নিহত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে তালিকার আলোচিত কাউকে দেখছি না৷ তাহলে প্রশ্ন উঠছে, এই বন্দুকযুদ্ধে নিহতের মাধ্যমে কি মূল হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে?’’

অডিও শুনুন 02:13
এখন লাইভ
02:13 মিনিট

অতীতে অনেক অভিযান শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করেছে: নূর খান

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিয়ে বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল ও একবারে নির্মূল করার জন্যই এই সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে৷’’ বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন৷

তাঁর কথায়, ‘‘এই ক্রসফায়ার নিয়ে দেশের মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে৷ এমন একটা সময় যখন নির্বাচন সামনে ও সরকারের শেষ বছর, ঠিক তখনই দেশে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরাও মাদকবিরোধী অভিযান চাই৷ তবে এটা অরাজনৈতিক হতে হবে৷ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিতে হবে, এমনটি যেন না হয়৷ আমরা আগেও বলেছি, মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে৷ কিন্তু যে সব যুক্তি খাড়া করানো হচ্ছে, সেগুলো কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে যুক্তি বলে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়৷’’

একদিন আগে, অর্থাৎ মঙ্গলবার, ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মাদকের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বলেন, ‘‘সারা দেশে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে, তাতে দেশের মানুষ খুশি৷ মানুষ এ অভিযানের প্রশংসা করছে আর সেটা বিএনপির ভালো লাগছে না৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘সরকারের কোনো ভালো কাজ বিএনপির ভালো লাগবে না, এটাই তো স্বাভাবিক৷ কথায় আছে না, ‘যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা৷’ সরকার জনগণের স্বার্থে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছে৷ এটা সর্বনাশা ধ্বংসের পথ থেকে তরুণ সমাজকে ফিরিয়ে আনার একটি যুগান্তারী পদক্ষেপ৷’’

সরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘‘মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে না৷ যারা মারা যাচ্ছেন, তারা বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছেন৷ এরা তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী৷ সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে৷ এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ীকে অভিযানে আটক করা হয়েছে৷ এই অভিযান চলবে৷ আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি৷’’

সরকারের এই বক্তব্য নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা মাদকবিরোধী অভিযানের পক্ষে৷ কিন্তু কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না৷ যারা অপরাধী, তাদের আটক করে আইনের মাধ্যমে শান্তি দেয়া হোক৷ বিচারের আগে ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষও শিকারে পরিণত হতে পারেন৷ এমনটা অতীতেও হয়েছে৷ এটা অবশ্যই মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷’’

অডিও শুনুন 01:47
এখন লাইভ
01:47 মিনিট

আমাদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে বিরোধীদের দমন করতে চায় সরকার: খন্দকার মোশারফ

তিনি আরো বলেন, ‘‘মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ তাই আমাদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে বিরোধীদের দমন করতে চায় সরকার৷ সেকারণেই আমরা বলছি যে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিরোধীদের দমনে সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারে৷ কারণ দেশের মানুষ জানে, সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা, এমপি থেকে শুরু করে আরো অনেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত৷ কিন্তু তারা গডফাদার৷ তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷’’

বিএনপির এই আশঙ্কার পিছনে যুক্তি আছে বলেই মনে করেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান৷ তিনি বলেন, ‘‘অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানসহ আরো অনেক অভিযান শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করেছে৷ এবারও তা হতে পারে৷’’

বাংলাদেশে মাদকসেবী ৭০ লাখ৷ তবে আশঙ্কার কথা হলো, এদের মধ্যে ৬০ ভাগের বয়স ১৮ বছরের নীচে৷ এ মুহূর্তে মাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ইয়াবা নামের এক ধরনের উত্তেজক ট্যাবলেট৷ এটা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসে৷ এ কারণেই কক্সবাজারকে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট মনে করা হয়৷ এ ধরনের পাচারের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে বার বার৷

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ১৪১ জন৷ এদের মধ্যে ঢাকায় থাকেন ৪৪ জন৷ তবে তাদের কেউ আটক বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন