মাছ কার? সাগর যার! | অন্বেষণ | DW | 04.11.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মাছ কার? সাগর যার!

দক্ষিণ চিলির ধীবররা মাছধরার জাহাজ আর স্যামন ফার্মের বিরুদ্ধে যুঝছেন৷ তারা হাল ছাড়তে রাজি নন৷ নয়া ফিশারি আইন জেলেদের বিরুদ্ধে গেলেও, সরকার তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন৷ তবে আশার আলো আছে৷ শেষ ভরসা ‘রামধনু যোদ্ধা'!

স্যার্খিও মাইয়োর্গা চিলোয়ে-র উপকূলে বাস করেন, ও মাছ ধরেন৷ এখান থেকে চতুর্দিকে স্যামন মাছের ভেড়ি দেখা যায়৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক, সব ধরনের সংস্থাই তাতে সংশ্লিষ্ট, তাদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে ক্রমাগত৷ স্যার্খিও বলেন, ‘‘আমাদের মাছ ধরার এলাকা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে৷ আগে আমরা এখানে মাছ ধরতাম, গালো মাছ কিংবা সি-বাস৷ এখন আর আমরা এখানে মাছ ধরতে পারি না, কারণ এই সুবিশাল, ভাসন্ত প্ল্যাটফর্মগুলো এখানে রয়েছে৷ ওখানে একটা, ওখানে আরো একটা৷ অনেকগুলো৷''

স্যার্খিও আরো জানালেন, ‘‘কয়েকজন ডুবুরি জলে নেমে দেখেছে৷ ৪৫ থেকে ৫০ মিটার গভীরে তারা দেখেছে যে, সব কিছু মরে গেছে, সব মরা৷ সাগরের কোনো জীব আর বেঁচে নেই৷''

তারপর স্যার্খিও-র নৌকো ওদের বয়াগুলোর কাছে পৌঁছাল৷ ওরা এখানে কাঁকড়া ধরবে, স্পাইনি ক্র্যাবস, তবে শুধু পুরুষ কাঁকড়া; মেয়ে কাঁকড়াগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে৷ অবশ্য আজ বিশেষ কাঁকড়া উঠছে না৷ দিনের শেষে দেখা গেল, ওরা চল্লিশ হাজার কাঁকড়া ধরেছে, যার দাম উঠবে প্রায় ৫০ ইউরো৷

ফিশারি আইন ও জেলেদের আশা-নিরাশা

চিলোয়ের বাসিন্দাদের ৮০ শতাংশ জেলে৷ তাদের অধিকাংশ আবার ফিশারি আইনের বিরুদ্ধে৷ এর আগের রক্ষণশীল সরকারের অর্থনীতি মন্ত্রী লঙ্গেরার নামে এই আইন৷ চিলির ধীবররা সমুদ্রাঞ্চলকে বেসরকারি মালিকানার হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিপক্ষে, কেননা স্যামন চাষের ভেড়ি আর জাহাজে করে মাছধরার ফলে সাধারণ জেলেদের রুটি মারা যাচ্ছে৷ মুনাফা করছে সামান্য কয়েকটি প্রভাবশালী বাণিজ্যসংস্থা৷ তাদের শিকারের একাংশ স্থানীয় বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে পারেন জেলেরা৷ কিন্তু আসল লাভ করে বাণিজ্যসংস্থাগুলি, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে মাছ রপ্তানি করে৷ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা৷

পরের দিন কাস্ত্রো শহরে আঞ্চলিক রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক৷ সরকারি কর্মকর্তা জানালেন, ‘‘সরকার ধীবরদের সঙ্গে মিলে উন্নতি করার চেষ্টা করছেন, যাতে আমরা বিভিন্ন ধরনের মাছধরার ক্ষেত্রে প্রগতি সাধন করি৷ কিছু কিছু ব্যাপারে আমরা একমত হতে পেরেছি৷''

দৃশ্যত আজকের বৈঠকেও একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ আগামীতে প্রতি দু'মাস অন্তর এ ধরনের আলাপ-আলোচনা বসবে, যাতে দক্ষিণ চিলির ধীবরদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়৷

রামধনু যোদ্ধা

রাজনীতির কচকচির পর মাইয়োর্গা আবার তাঁর সারা জীবনের স্বপ্নের কথা ভাবতে চান: তাঁর নিজস্ব একটি বড়োসড়ো মাছধরার জাহাজ৷

নৌকোর নাম হবে ‘গেরেরো আরকোয়িরিস' বা ‘রামধনু যোদ্ধা'৷ স্যার্খিও-র পুরনো নৌকার নামও তাই ছিল৷ নামটার একটা বিশেষ অর্থ আছে৷ স্যার্খিও জানালেন, ‘‘কোথায় যেন পড়েছি, রেনবো-ওয়ারিয়র নামের একটি জাহাজ মুরুরোয়া অ্যাটল-এ ফরাসিদের আণবিক বোমা ফাটানো প্রায় বন্ধ করে দিতে চলেছিল৷ জাহাজটা নাকি ফরাসিদের সর্বত্র অনুসরণ করে বেড়িয়েছিল, তাদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি, যা প্রাণ চায় করতে দেয়নি৷ কাজেই আমার জাহাজের নামও রামধনু যোদ্ধা৷''

কেননা স্যার্খিও ও চিলির অন্যান্য ধীবররাও এতো সহজে হাল ছাড়তে রাজি নন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন