মাক্রোঁর প্রচেষ্টায় ইউরোপে নতুন প্রতিরক্ষা উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 08.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাক্রোঁর প্রচেষ্টায় ইউরোপে নতুন প্রতিরক্ষা উদ্যোগ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন৷ জার্মানিসহ মোট দশটি দেশ এতে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে৷

‘ইউরোপিয়ান ইন্টারভেনশন ইনিশিয়েটিভ’ বা ইআইটু নামে এই উদ্যোগ বুধবার প্যারিসে বাস্তব রূপ নেয়৷ দশ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন৷ দেশগুলো হচ্ছে, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্স৷

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক টুইটে বলেছে, ‘‘নতুন হুমকি মোকাবিলা করতে ইউরোপের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার৷’’

ইউরোপের সীমান্তের কাছে সামরিক কিংবা মানবিক সংকট তৈরি হলে সেক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দেখাতে এই উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে, বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন৷ ‘‘এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইউরোপ সক্ষম এবং সমসময় প্রস্তুত – ইআইটু উদ্যোগের মাধ্যমে এ রকম বার্তা সবার কাছে অবশ্যই পৌঁছে দিতে হবে,’’ বলে মন্তব্য করেন ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা৷

তবে ন্যাটোর সঙ্গে নতুন এই উদ্যোগের কোনো সংঘাত হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়৷ বরং ‘‘ইউরোপিয়ান ইন্টারভেনশন ইনিশিয়েটিভের কারণে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোতে ইইউর ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে,’’ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়৷

প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ যখন এক বছরেরও বেশি সময় আগে এমন উদ্যোগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, তখন অনেকে এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন৷ কারণ, সেই সময় ‘পেসকো’ নামে ইইউ'র আরেকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল৷ পরবর্তীতে গত বছরের ডিসেম্বরে পেসকো সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়৷ ইইউ'র ২৫টি দেশ তাতে সই করে৷ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা আদানপ্রদান পেসকো চুক্তির লক্ষ্য৷

তবে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর আসল স্বপ্ন হচ্ছে, একটি ‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গড়ে তোলা৷ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এমন এক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি৷ ‘‘আমাদের এমন ইউরোপ দরকার যে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করা ছাড়া একাই নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম,’’ মঙ্গলবার বলেন তিনি৷

ইআইটু উদ্যোগে জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চায় ফ্রান্স৷ যদিও এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে অনেকদিন সময় নিয়েছে জার্মানি৷ এমনকি চাপে পড়ে জার্মানি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন ক্লাউডিয়া মায়োর৷ তিনি বার্লিনের ‘জার্মান ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরে ইআইটু উদ্যোগ গড়ে ওঠায় জার্মানির কর্মকর্তা একটু সতর্ক৷ ‘‘ইইউ কাঠামো ও ন্যাটোর বাইরে পরিকল্পনা করে অর্থপূর্ণ আরেকটি কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি জার্মানরা ইতিবাচক হিসেবে দেখে না,’’ বলেন তিনি৷ বরং এমন উদ্যোগ ইইউকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা৷

মায়োর বলেন, ‘‘জার্মানি এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হতে চাপ অনুভব করেছে, কারণ, তা না হলে ফ্রান্স আর জার্মানিকে যে ইউরোপের ইঞ্জিন বলা হয় এবং ইউরোপীয় সহযোগিতা ও ইন্টিগ্রেশনের চালিকাশক্তি মনে করা হয়, সেই ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷’’

লুইস স্যান্ডার্স/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন