মহাজোটের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, বিএনপির বর্জন | বিশ্ব | DW | 03.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মহাজোটের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, বিএনপির বর্জন

মহাজোটের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন৷ তবে বিএনপি বা তাদের জোট ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি৷ অবশ্য ভবিষ্যতে তাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে যাবেন কিনা তা এখনো চূড়ান্ত করেনি দলটি৷

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘আমরা শপথ নিচ্ছি না৷'' যেহেতু তিন মাস সময় পাওয়া যাবে, তাই এই সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত তা-ও বলছে না দলটি৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা শপথ নিচ্ছি না৷ তবে সময় যেহেতু আছে, তাই এই সিদ্ধান্তই যে ফাইনাল সেটাও বলছি না৷''

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘সংখ্যায় কম হলেও তাদের সংসদে যাওয়া উচিত৷ নির্বাচন যেহেতু হয়ে গেছে, তাই সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে আমি মনে করছি না৷ তারা সংসদে না গেলে তিন মাস পর এই আসনগুলো শূন্য হবে, নতুন নির্বাচন হবে৷'' বিএনপি সংসদে না গেলে আগামী সংসদ কেমন হতে পারে? শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘‘আগে যেমন ছিল, তেমন হবে৷'' সেটা কি কার্যকর সংসদ হবে? তাঁর মতে, ‘‘এটা নির্ভর করছে যারা সংসদ চালাবে, তাদের উপর৷ তবে কোনো পরিবর্তন হবে এমনও আমার মনে হচ্ছে না৷''  

অডিও শুনুন 01:52

‘সংখ্যায় কম হলেও তাদের সংসদে যাওয়া উচিত’

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ৷ বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই আমন্ত্রণ জানান৷ গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়ের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার এটাই প্রথম সাক্ষাৎ৷

এবার নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ৷ জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন৷ অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে৷ এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ৷ আর তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন শেখ হাসিনা৷

অডিও শুনুন 00:28

‘বিএনপি আন্দোলনে যাচ্ছে কি না, সময় হলেই জানতে পারবেন’

এর আগে সকালে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘শপথ তো পার হয়ে গেছে, প্রত্যাখ্যান করলে শপথ থাকে নাকি আর? আমরা শপথ নিচ্ছি না, পরিস্কার করে বললাম৷'' এরপর বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়৷ এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জনাব আলমগীর বলেন, ‘‘ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থী আলাদাভাবে নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির বিষয়ে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন৷''

ভবিষ্যতে বিএনপি কি আন্দোলনে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না, সময় হলেই জানতে পারবেন৷'' 

বিএনপি সংসদে না এলে সংসদ কি কার্যকর হবে? জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘‘গত সংসদ কি কার্যকর ছিল না? আমার তো মনে হয়, স্বাধীনতার পর যতগুলো সংসদ ছিল তার মধ্যে গত সংসদই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিল৷ অশ্লীল বাক্য বিনিময় ছাড়া কি সংসদ কার্যকর বলা যাবে না?''

এবার তো জাতীয় পার্টি জোট শরিক হয়ে নির্বাচন করেছে? তারা কি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করতে পারবে? জনাব হানিফ বললেন, ‘‘আমি এখনো মনে করি বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে এবং সংসদে যোগ দেবে৷ আর যদি না-ই আসে তাহলেও সংসদ কার্যকর হবে৷ গত সংসদে শুধু বিরোধী দল না, আমরা সরকারি দলের সদস্যরাও সরকারের অনেক কাজের সমালোচনা করেছি৷ এমপিদের কাজ কী? জনগণের উন্নয়ন করা, আর সরকার কোনো কিছু ভুল করলে তার সমালোচনা করা৷ সেই কাজগুলো কিন্তু গত সংসদেও হয়েছে৷''

অডিও শুনুন 02:27

‘সরকারি দলের সদস্যরাও সরকারের সমালোচনা করেছি’

অন্যদিকে এরশাদকে ছাড়াই শপখ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা৷ তবে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদ, নাকি অন্য কেউ হচ্ছেন, সেটা এখনো ঠিক করতে পারেননি দলটির নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা৷ তাছাড়া দশম সংসদের মতো এবারও দলটিকে বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যাবে কিনা, সে সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারেননি তারা৷

তবে শপথ নেওয়ার পর সরকারে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা৷ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে৷ দশম সংসদে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি৷ এবারও মন্ত্রীসভায় থাকার ইচ্ছে তাঁর৷

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসুস্থ থাকায় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ শপথ নিতে পারেননি৷ তবে বাকি ২১ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবারই সংসদে শপথ নেন৷ পরে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সংসদ কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন জাতীয় পার্টির সাংসদরা৷ সেখান থেকে বের হওয়ার পর দলের আরেক কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আজকেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি৷ সামনে পার্টিতে একটা মিটিং আছে, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন