মহাকাশ গবেষণা নিয়ে জার্মান এক নভোচারীর ভাবনা | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 23.04.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

মহাকাশ গবেষণা নিয়ে জার্মান এক নভোচারীর ভাবনা

বোয়িং ৭৪৭’এর পিঠে চড়ে মহাকাশফেরি ‘ডিসকভারি’র জাদুঘরে চলে যাওয়ার দৃশ্য মাত্র ক’দিন আগেই দেখেছে বিশ্ব৷ এই যানে চড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে জার্মানির মহাকাশচারী টোমাস রাইটারের৷

চুয়ান্ন বছর বয়সি রাইটার তাঁর জীবনের প্রায় পুরো একটা বছর কাটিয়েছেন মহাকাশে৷ ১৯৯৬ সালে তিনি রাশিয়ার ‘সোইয়ুজ' মহাকাশযানে চেপে ‘মির' স্টেশনে গিয়েছিলেন৷ এর দশ বছর পর ২০০৬ সালে নাসার স্পেস শাটল ডিসকভারি'তে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস'এ যান রাইটার৷ এই দুইবারে প্রায় ৩৫০ দিন মহাকাশে ছিলেন জার্মান এই মহাকাশচারী৷ তিনি বলছেন, সোইয়ুজের চেয়ে শাটলগুলো ছিল বেশ আরামদায়ক৷ তাছাড়া শাটলে করে বেশিসংখ্যক বিজ্ঞানী ও অনেক উপকরণ নিয়ে যাওয়া যেত৷

রাইটার বর্তমানে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসা'র মহাকাশে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷

বিজ্ঞানীদের মহাকাশে পাঠানোর জন্য প্রায় ৩০ বছর আগে শাটল কর্মসূচি শুরু করেছিল নাসা৷ গত বছর জুলাইতে মহাকাশফেরি ‘অ্যাটলান্টিস'এর পৃথিবীতে ফিরে আসার মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে৷ এরপর থেকে মহাকাশে যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে রাশিয়ার সোইয়ুজ৷ মার্কিন বিজ্ঞানীরাও প্রয়োজনে এই যান ব্যবহার করছে৷ কেননা ২০১৭ সালের আগে নতুন কোনো মহাকাশযান তৈরির সম্ভাবনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের৷

মহাকাশে যাওয়ার জন্য ইউরোপের নিজস্ব কোনো যান না থাকলেও মহাকাশ সম্পর্কিত গবেষণায় কাজ করে চলেছেন ইউরোপের বিজ্ঞানীরা৷ ২০০৮ সালে ইউরোপের উদ্যোগেই আইএসএস'এ ‘কলোম্বাস ল্যাবরেটরি' চালু হয়৷ মেটেরিয়াল সায়েন্স, ফ্লুইড ফিজিক্স আর লাইফ সায়েন্স গবেষণায় কাজ করছে এই ল্যাবরেটরি৷

নাসার শাটল কর্মসূচি শেষ করে দেয়ার পেছনের কারণ আর্থিক সমস্যা৷ এই একই কারণে ইটালি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এসা'র পেছনে আর বেশি অর্থ খরচ করতে পারবে না৷ ফলে মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা শঙ্কা দেখা যাচ্ছে৷

এরই মধ্যে রাইটার বলছেন, মহাকাশ গবেষণার জন্য আইএসএস'এ বিজ্ঞানীদের উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন৷ তিনি বলছেন, আইএসএস এর পেছনে ইউরোপের দেশগুলো ইতিমধ্যে অনেক অর্থ ব্যয় করেছে৷ এখন আইএসএস'কে কাজে লাগিয়ে ফল ভোগ করার সময় এসেছে৷ এবং সেটা করতে হলে সেখানে বিজ্ঞানীদের পাঠাতে হবে৷ কেননা, শুধু রোবট দিয়ে অনেক কাজ করা গেলেও একজন মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান দিয়ে যেটা করতে পারবে সেটা রোবট পারবেনা৷

আর্থিক সঙ্কটে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মহাকাশ গবেষণায় কাঁটছাট করলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম চীন৷ দেশটি ২০০৩ সালে প্রথমবারের মত মহাকাশে মানুষ পাঠায়৷ এ বছর তারা আরেকজনকে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে৷ এছাড়া গত বছর অর্বিটে পাঠানো ছোট্ট একটি স্টেশনকে ২০২০ সালের মধ্যে একটি পরিপূর্ণ মনুষ্য স্টেশনে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে চীন৷ এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোরও পরিকল্পনা করছে তারা৷

চাঁদে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে এসা, মানে ইউরোপও৷ ১৯৭২ সালের পর চাঁদে কোনো মানুষ যায়নি৷ রাইটার বলছেন, চাঁদ সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু জানার আছে৷ সত্তরের দশকে মহাকাশচারীরা চাঁদের যে অংশে গিয়েছিলেন গবেষণার জন্য সেটা খুব একটা আগ্রহ উদ্দীপক ছিল না, বলে মনে করেন রাইটার৷ সে তুলনায় চাঁদের দক্ষিণ মেরু একটা ভাল গবেষণার জায়গা বলে মনে করেন তিনি৷ তাই সেখানে প্রথমে একটা লুনার ল্যান্ডার পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এসা৷ তবে মূল লক্ষ্য চাঁদে মানুষ অর্থাৎ নভোচারী পাঠানো, বলেন রাইটার৷ তিনি বলছেন, ‘‘রোবট শুধু তথ্য আনতে পারে৷ আর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে৷ কিন্তু যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেটা আগে থেকে জানা ছিল না, সেক্ষেত্রে কী করতে হবে সেটা শুধু একজন মানুষের পক্ষেই ঠিক করা সম্ভব৷''

যাই হোক, এই যে এতসব পরিকল্পনা সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য চাই প্রচুর অর্থ৷ কেননা চাঁদে যাবার জন্য যে ধরণের প্রযুক্তি থাকা দরকার সেটা আগে তৈরি করতে হবে৷ রাইটার মনে করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণা এবং চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে অভিযানের মতো কাজগুলো করা যেতে পারে৷

প্রতিবেদন: ক্লাউস ডার্টমান / জাহিদুল হক

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন