মহাকাশ অভিযানে সাহায্য করবে ‘স্বাবলম্বী′ ড্রোন | অন্বেষণ | DW | 19.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

মহাকাশ অভিযানে সাহায্য করবে ‘স্বাবলম্বী' ড্রোন

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে রোবট ও ড্রোনের প্রয়োগও বাড়ছে৷ এবার তাদের পরস্পরের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে স্বতন্ত্র করে তোলার উদ্যোগ চলছে৷ ভবিষ্যতে গ্রহান্তরের অভিযানে স্বাধীন রোবটের ঝাঁক গড়ে তোলাই হলো লক্ষ্য৷

ঝাঁকবাঁধা ড্রোন

 ক্যানাডার মিস্ট ল্যাবের জোভানি বেলট্রাম ও তাঁর সহকর্মীরা একঝাঁক ড্রোনের জন্য এক কৃত্রিম ও স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি করেছেন৷ জোভানি বলেন, ‘‘এই সব ড্রোন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয় করে৷ নিজেদের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে তারা কাজ স্থির করে৷''

কার ক্যামেরা সবচেয়ে ভালো? কে সবচেয়ে ভালোভাবে আকাশ থেকে মাপজোক করতে পারে? এ সব বিষয় নিয়ে ড্রোনগুলির মধ্যে সংলাপ চলছে৷ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই সব যন্ত্র নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷

যন্ত্র সম্পর্কে মানুষের মতো কথা বলতে সত্যি অদ্ভুত লাগে৷ আমাদেরকে বাইরে রেখে তারা নিজেরাই সক্রিয় হয়ে ওঠে, নিজেদের মধ্যে সংলাপ চালায়৷ এখানে সত্যি এমনটাই ঘটছে৷

ভিডিও দেখুন 04:14

সাহায্য করবে ‘স্বাবলম্বী' ড্রোন

পারস্পরিক সহযোগিতা

ড্রোনের এই ঝাঁক আগে থেকে ওড়ার জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়৷ প্রথম ড্রোনটি একটি চৌকো ক্ষেত্র বেছে নিয়েছে, দ্বিতীয়টি অন্য একটি ক্ষেত্রের উপর উড়ছে৷ ড্রোনের মোট সংখ্যা যতই হোক না কেন, প্রত্যেকটি ড্রোন নির্ধারিত ক্ষেত্রের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে৷

একটি ড্রোন বিকল হয়ে গেলে ঝাঁকের বাকি ড্রোনগুলি তা টের পায়৷ তখন নতুন করে নিজেদের মধ্যে জায়গা ভাগ করে নেয়৷ জোভানি বেলট্রাম বলেন, ‘‘এই অভিযানই সম্ভবত প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ উড়াল, যার আওতায় রোবটগুলি বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোপুরি একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷'' অন্যান্য রোবটগুলির ক্ষেত্রেও এমনটা সম্ভব৷ একে বলে ‘সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রিত প্রণালী'৷ অর্থাৎ প্রণালীর প্রত্যেকটি অংশ একাধিক কম্পিউটারে বিভক্ত থাকে৷ সেগুলি পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে পারে৷

জোভানি বলেন, ‘‘নিজেদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেয়৷ কোনো রোবট যদি হাই ডেফিনিশন ছবি তুলতে পারে, তখন সেটি সেই বিশেষ দায়িত্ব নিতে চাইবে৷ কিন্তু সেই ইচ্ছা অনেকটা নিলামের দর হাঁকার মতো৷ সে একশ' টাকা দর হাঁকবে৷ বাকি রোবটদের সেই ক্ষমতা না থাকায় তারা এত বড় অঙ্কের দাঁও লাগাতে পারবে না৷ শেষ পর্যন্ত যে রোবট সবচেয়ে বেশি দর হাঁকবে, সেই দায়িত্ব পাবে৷''

ড্রোন ও রোবটের ভাষা

ড্রোনদেরও নিজস্ব এক ‘ভাষা' রয়েছে৷ সেই ভাষায় তারা দরকষাকষি করে, নিজেদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা সেরে নেয়৷ জোভানি বেলট্রাম ও তাঁর সহকর্মীরাই সেই ভাষা সৃষ্টি করেছেন৷ নাম রেখেছেন ‘বাজ'৷ জোভানি বলেন, ‘‘ রোবটগুলি নির্দিষ্ট এক সেট ভাষা ব্যবহার করে৷ তাদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সেটি কাজে লাগানো হয়৷ যে কোনো চালু অবকাঠামোর উপর তা চাপানো সম্ভব৷ তাই যে কোনো রোবটের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা যায়৷'' 

ভিডিও দেখুন 00:56

ড্রোন দিয়ে ফ্যাশন শো!

এই পরিকল্পনার ভিত্তি হলো, নানা ধরনের রোবট নিয়ে এক ঝাঁক গড়া হবে৷ উড়ন্ত রোবট, জমিতে চলমান রোবট, লাফ মারতে পারে এমন রোবট – তারা সবাই একই ভাষায় স্বতন্ত্রভাবে পরস্পরের সঙ্গে সংলাপ চালাবে৷ চাঁদ অথবা অন্য গ্রহের বুকে রোবটের ঝাঁক অনুসন্ধান চালাতে পারবে৷ সেটাই গবেষকদলের লক্ষ্য৷ জোভানি বেলট্রাম বলেন, ‘‘চাঁদের বুকে রোভার বা লম্ফঝম্প করে এমন রোবট আশা করছি৷ দুর্বল মাধ্যাকর্ষণের কল্যাণে চাঁদে লাফানোর কাজ বেশ সহজ৷ মঙ্গলগ্রহে বায়ুমণ্ডল থাকায় কপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে৷''

পরীক্ষার সময়   ড্রোনগুলি একজন মানুষের কাছ থেকেই নির্দেশ পাচ্ছে৷ মানুষ কীভাবে রোবটগুলির সঙ্গে সংলাপ চালাতে পারে, সেই পরীক্ষা এক্ষেত্রে জরুরি৷ গবেষকদল সেই মানুষের চোখের পাতার সঞ্চালনের উপর নজর রাখছে৷ রোবট চালানোর আদর্শ পদ্ধতিরও খোঁজ চলছে৷ চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানে কোনো মহাকাশচারী নির্দেশ দেবেন৷ রোবটের ঝাঁক সেই নির্দেশ পালন করবে৷ জোভানি বেলট্রাম বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো, মঙ্গলগ্রহে গিয়ে সেখানে ছোট উড়ন্ত রোবট-বোঝাই একটি রোভার ছেড়ে দেওয়া হবে৷ সেগুলি চারিদিকে উড়ে বেড়িয়ে রোভারকে তথ্য দেবে৷ তার ভিত্তিতে গন্তব্য স্থির করে রোভার এগিয়ে যাবে৷''

এই পরীক্ষামূলক ক্ষেত্রে রোবটের ঝাঁক ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ভালোভাবেই সম্ভব হচ্ছে৷ ব্যাটারি শেষ হলেই ড্রোনগুলি এমনিতেই ফিরে আসে৷

লেয়া আলব্রেশ্ট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন