মহাকাশে বিকিরণের ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে যাচ্ছে পুতুল | বিশ্ব | DW | 23.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

মহাকাশে বিকিরণের ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে যাচ্ছে পুতুল

মানুষ আরও বড় মাত্রায় মহাকাশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ কিন্তু এমন ভ্রমণের সময় নানারকম বিপজ্জনক বিকিরণ ক্যানসারসহ অন্যান্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে৷ সেই বিপদের মাত্রা বুঝতে দু'টি পুতুলকে চাঁদে পাঠানো হচ্ছে৷

কোলন শহরে জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টার ডিএলএফ-এ হেলগা ও জোহর নামের দুই ফ্যান্টম বা পুতুল মহাকাশে যাবার অপেক্ষায় রয়েছে৷ চাঁদে পাড়ি দেবার সময় মহাকাশচারীদের উপর বিকিরণ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, বিকিরণ সংক্রান্ত পদার্থবিদ টোমাস ব্যার্গার এভাবে সে বিষয়ে আরও জ্ঞান অর্জন করতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘ফ্যান্টম আসলে একটা মানুষ, তবে তার দেহ প্লাস্টিকের তৈরি৷ তাই সেটি বিকিরণের প্রভাব মাপার আদর্শ পরীক্ষামূলক ব্যক্তি৷''

পরীক্ষামূলক এই দুই মডেল একাধিক স্তর দিয়ে তৈরি৷ প্রত্যেক স্তরে মানুষের হাড়গোড়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও সংযোজক টিস্যুর নকল রয়েছে৷ মানুষের শরীরের কাঠামো হুবহু নকল করতে ফ্যান্টমের শরীরে প্লাস্টিকের ঘনত্বের মধ্যেও পার্থক্য রাখা হয়েছে৷ টোমাস ব্যার্গার মনে করেন, ‘‘আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্যা হলো, বিকিরণের মুখে সেগুলি সমান সংবেদনশীল নয়৷ যেমন যে সব অংশে রক্ত সৃষ্টি হয়, সেগুলি ত্বকের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল৷ মহাকাশে মানুষ বা মহাকাশচারী হিসেবে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে হলে আমাকে নিখুঁতভাবে জানতে হবে, আমার ত্বক, ফুসফুস, জননতন্ত্র, সুষুম্না কাণ্ডের উপর কতটা বিকিরণ হচ্ছে৷''

পুতুলের শরীরের মধ্যে ভরা ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের মাধ্যমে মহাকাশযাত্রার সময় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পরিমাপ করা হবে৷ পুতুলের শরীর জুড়ে আড়াই হাজারেরও বেশি স্ফটিকখণ্ড বসানো রয়েছে৷ পরিমাপের মাধ্যমে বিকিরণের এক ত্রিমাত্রিক চিত্র উঠে আসছে৷ কোন অঙ্গের উপর ঠিক কতটা বিকিরণ হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷

সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা চন্দ্রযাত্রার সময়ে মহাকাশচারীর উপর ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেব করতে পারেন৷ টোমাস ব্যার্গার বলেন, ‘‘আমরা চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছি৷ এই প্রথম ফ্যান্টমের মাধ্যমে আমরা মহাকাশের এতটা গভীরে যাচ্ছি৷ সেই যাত্রার জন্য তৈরি মহাকাশযানেই ফ্যান্টম থাকছে৷ এভাবে বিকিরণ মাপার কাজ কখনো হয়নি৷''

ওরিয়ন নামের যানের এই যাত্রাপথে গবেষকরা বিকিরণের আরও একটি ঝুঁকি পরিমাপ করবেন৷ এমন ঝুঁকি বিরল হলেও তা মহাকাশচারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ সূর্যের মধ্যে আলোড়নের সময় মহাকাশে প্রোটনের যে বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, সেটি মানুষের জন্য সত্যি বিপজ্জনক৷ এমন সৌর ঝড় মহাকাশযানের উপর আছড়ে পড়লে কী করা উচিত, নাসার এক ভিডিওতে তা দেখানো হয়েছে৷

এমন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পানি বা প্লাস্টিকভরা পাত্র দিয়ে এক প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে হয়৷ যতক্ষণ সৌর ঝড় চলে, মহাকাশচারীদের তার মধ্যে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে হয়৷ বিকিরণ থেকে সুরক্ষা পেতে আধুনিক জ্যাকেটও ব্যবহার করা যেতে পারে৷ ২০২০ সালে ওরিয়ন যানের অভিযানের সময় দুটি পুতুলই এমন জ্যাকেট পরে থাকবে৷ তখন সেই জ্যাকেটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে৷

বিকিরণ গবেষক হিসেবে টোমাস ব্যার্গারের কাছে হেলগা ও জোহরের যাত্রা অভিনব এক সুযোগ৷ এই অভিযানের আওতায় হেলগা ও জোহরকে চাঁদে পাঠিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে৷

মাইকে শেফার/এসবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন