মস্তিষ্কের উপর সংগীতের প্রভাব কম নয়! | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মস্তিষ্কের উপর সংগীতের প্রভাব কম নয়!

সংগীত যে আমাদের শরীর-মন তরতাজা করতে পারে, তা অনুভব করতে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না৷ তবে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের উপর সংগীতের প্রভাব সম্পর্কে নেদারল্যান্ডসের এক গবেষক নতুন দিশা দেখাচ্ছেন৷

সংগীতের ছন্দে আমরা নেচে উঠি৷ সংগীত আমাদের মুখে হাসি ফোটায়৷ সংগীত আমাদের হৃদয় খুলে দেয় – অর্থাৎ মনে আনন্দ দেয়৷ নেদারল্যান্ডসের মস্তিষ্ক গবেষক এরিক স্কের্ডার এমনটা মনে করেন৷ সংগীত শুনলে মানুষের মাথার মধ্যে ঠিক কী ঘটে, ‘সিঙ্গিং ইন দ্য ব্রেন' নামের বইয়ে তিনি তা বুঝিয়ে বলেছেন৷ নিউরোসাইকোলজির অধ্যাপক এরিক স্কের্ডার বলেন, ‘‘সাহিত্যে সংগীত সম্পর্কে বর্ণনায় একটি বিষয় উঠে এসেছে, যা হলো প্রত্যাশা৷ যে মুহূর্তে আপনি ভাবছেন, এটা তো খুব চেনা সুর, ঠিক সেই মুহূর্তে মস্তিষ্কের মধ্যে নিজেকে পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়৷ সেই প্রণালী আপনাকে ভাবতে শেখায় – সত্যি, এটাই তো চাই!''

আন্দ্রে রিউ-র মতো পেশাদারী সংগীতশিল্পীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের উপর সংগীতের প্রভাব আরও বেশি৷ স্বরলিপি পড়ে সঙ্গে সঙ্গে সংগীত সৃষ্টি করতে সাধারণ সংগীতপ্রেমীকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয়৷ এভাবে অবশ্য মস্তিষ্কেরও প্রশিক্ষণ চলে৷ পেশাদারী সংগীতশিল্পী কোনো এক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কাজ করতে পারেন৷ এরিক স্কের্ডার বলেন, ‘‘আপনি দেখবেন, উচ্চ মানের সংগীত সৃষ্টি করার সময়েও তাঁর মস্তিষ্কের অনেক কম অংশ সক্রিয় রয়েছে, নিউরাল সিস্টেম কম ব্যবহৃত হচ্ছে৷ সেটাই তাঁর দক্ষতা৷ এমনটা করে তাঁর মস্তিষ্কের অনেক নিউরাল সার্কিট অক্ষত থাকছে৷ সেই বাড়তি শক্তি জমা হচ্ছে৷ সেই শক্তি ব্যবহার করে তিনি আরও নিউরাল সিস্টেম সক্রিয় করে তুলবেন, যা তাঁকে আরও বড় মাপের সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে৷''

ভিডিও দেখুন 03:58
এখন লাইভ
03:58 মিনিট

মস্তিষ্কের উপকার করে সংগীত

বিশেষ এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে আন্দ্রে রিউ ও তাঁর অর্কেস্ট্রা একটি সন্ধ্যায় প্রায় ১১,০০০ দর্শকের মনোরঞ্জন করলেন৷ মুগ্ধ দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই তার প্রমাণ দিলো৷ কেউ বলেন, উদ্দীপনা যোগায়, প্রাণবন্ত করে তুলেছে৷ সবার মনে আরও আনন্দ এসেছে৷ কেউ বা হতবাক হয়ে পড়েছেন৷ কেউ হাসতে বা কাঁদতে চাইছেন৷

আবেগের এমন বহিঃপ্রকাশের পেছনে প্রধান বেহালাবাদক ফ্রাংক স্টেইন্স-এরও অবদান রয়েছে৷ তিনি ২৪ বছর ধরে আন্দ্রে রিউ-র ইয়োহান স্ট্রাউস অর্কেস্ট্রার সদস্য৷ ফ্রাংক বলেন, ‘‘বেহালা বাজানো শুরু করার সময় প্রত্যেকটি আঙুলের দিকে নজর দিতে হতো, ছড়ির প্রত্যেক টানের কথা ভাবতে হতো৷ আরও অধ্যয়ন করতে করতে সব কিছু উধাও হয়ে যায়, সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঘটে৷ মনে হয়, আমারই কোনো অংশ সেই কাজ করে দিচ্ছে৷ ফলে আমার মস্তিষ্ক অন্য কোনো কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে৷''

সংগীত শুধু আবেগ জাগিয়ে তোলে না৷ এরিক স্কের্ডার তাই সব স্কুলে উচ্চ মানের সংগীত শিক্ষার ডাক দিচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সন্তানদের মস্তিষ্কের বিকাশ ৩০ বছর পর্যন্ত চলে৷ বিশেষ করে হোয়াইট ম্যাটার, প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স এই বয়স পর্যন্ত বিকশিত হয়৷ তাই সেই প্রক্রিয়া আদর্শ করে তুলতে মস্তিষ্ককে যতটা সম্ভব চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে হবে, উদ্দীপিত করতে হবে৷ সংগীত তার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে৷''

আন্দ্রে রিউ ও তাঁর অর্কেস্ট্রা নিয়মিত সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন৷ মাসত্রিখট শহরে এক কনসার্টে দর্শকরা সেই সংগীত শুনে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন৷

ইয়েন্স ফন লার্শার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন