মরণোত্তর দেহদান: সংকোচ দূর হোক | বিশ্ব | DW | 20.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

মরণোত্তর দেহদান: সংকোচ দূর হোক

মস্তিস্কজনিত রোগে ভুগছিলেন ৬৯ বছর বয়সি পলিন থর্প৷ মৃত্যুর সপ্তাহখানেক আগে মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাজ্যের এই নারী৷ বাধা দেয়নি পরিবারও, বরং পলিনের ইচ্ছানুযায়ী সানন্দেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে৷

চলতি বছর পলিন মারা যান, কিন্তু  তাঁর কিডনি, ফুসফুস আর লিভার এখন সচল অন্য কারও শরীরে৷ যা বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে চারজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে৷

অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসা বিজ্ঞানে আর নতুন কিছু নয়৷ বিশ্বজুড়ে হরহামেশাই মৃত মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের শরীরে বসানো হচ্ছে৷ যে মানুষ মারা গেছেন তার হৃদযন্ত্রটি হয়ত অন্য কারো দেহে স্পন্দিত হচ্ছে, ফুসফুস কাউকে বুক ভরে শ্বাস নেয়ার সুযোগ দিচ্ছে, কারো নিভে যাওয়া ভুবনকে নতুন করে আলোকিত করছে মৃত মানুষের চোখ, কর্মক্ষমতা যোগাচ্ছে লিভার, এমনকি একজনের হাতও বসানো হচ্ছে আরেকজনের বাহুতে৷ প্রতিস্থাপিত হচ্ছে শরীরের হাড় আর কোষও৷ সব মিলিয়ে একজনের মরদেহ সাতজনকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে৷ 

ইন্টারনেট ঘেটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রতিবছর গড়ে  একলাখ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বিশ্বে৷ কিন্তু সেই সংখ্যাটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম৷ উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ২০১৭-১৮ সালে যুক্তরাজ্যে ১৫৭৫ জন মরণোত্তর দেহদান করেছেন৷ যেখানে চলতি বছরের মার্চে বিভিন্ন অঙ্গের জন্য অপেক্ষমান রোগীর সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৭৭ জন৷ অপেক্ষার প্রহর গুণেই গত বারোমাসে মারা গেছেন ৪০৮ জন৷ সংখ্যায় তফাৎ থাকলেও প্রয়োজন আর দেহদানের প্রতিশ্রুতির ব্যবধানের চিত্রটা বিশ্বের উন্নত সব দেশে প্রায় একই৷ 

বাংলাদেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আর মরণোত্তর দেহদানের চিত্রটা কেমন? গুগলে সার্চ দিয়ে খুঁজে পাওয়া গেল বিবিসি বাংলার ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন৷ সেখান থেকে জানা যায়, দেশে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয় প্রতি বছর, অথচ প্রতিস্থাপন হয় মোটে দেড়শটি৷ বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টি কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়৷ সেসময় পর্যন্ত কেবল চারটি লিভার সংযোজন হয়েছে৷ কিন্তু এর কোনটিই মরণোত্তর দেহদান থেকে নয়৷ কেন?  উত্তর মিলছে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন থেকে৷ অঙ্গপ্রতিস্থাপনের জন্যতো দূরে থাক এনাটমি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দেহ যোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে মেডিক্যাল কলেজগুলো৷

অথচ ভেবে দেখুন সেই কবে আরজ আলী মাতুব্বর, আহমদ শরীফদের মতো প্রথীতযশারা মরণোত্তর দেহদানের নজির গড়েছেন৷ কিন্তু সেই পথে পরবর্তীতে আমরা হেঁটেছি খুব কমই৷ আশেপাশের এমন কারো কথা জানতে পারিনি যিনি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছেন বা বিষয়টি ভাবছেন৷ এর কারণটি কী ধর্মীয়, পারিবারিক না মনস্তাত্ত্বিক?

DW-Mitarbeiter Porträt Faisal Ahmed (Masum Billah)

ফয়সাল শোভন, ডয়চে ভেলে

অনেকেই হয়ত ধর্মীয়কারণে মরণোত্তর দেহদানের কথা ভাবেন না৷ যদিও সৌদি আরব সহ অনেক মুসলিম প্রধান দেশেও মৃত মানুষের শরীরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নজির আছে৷ আবার অনেকে হয়ত ধর্মের দিকটা ততটা ভাবেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর কোনো একটি ঠিকানা থাকবে সেই লোভটিও সংবরণ করতে পারেন না৷ এই মনস্তাত্ত্বিক বাধা ডিঙ্গিয়ে যারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের ক্ষেত্রে আসে পরিবারের বিষয়টি৷ বছর বিশেক আগে আমার বড় ভাই মরণোত্তর চক্ষুদানের জন্য একটি সংগঠনে নিবন্ধন করেছিলেন৷ সে সংক্রান্ত একটি চিঠি বাসায় পৌছানোর পর বাবা-মার যে আতঙ্ক দেখেছিলাম তা এখনও মনে পড়ে৷ সেখানে মরণোত্তর দেহদানের ব্যাপারটি তারা মেনে নেবেন, আর মারা যাবার পর স্বজনরা সেই দেহ যথাযথ স্থানে পৌছে দেবেন তার আশা দুরুহ৷

কিন্তু একবার ভাবুন, মৃত্যুর পর আপনার শরীর মাটির সাথে মিশে যাওয়ার চেয়ে একাধিক মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে কিংবা যুগ যুগ চিকিৎসা অধ্যয়নে কাজে লাগছে, এর চেয়ে মহৎ আর কী হতে পারে৷ যা নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন পরিবারের সদস্যরাও৷ যেমন গর্বিত এখন পলিনের স্বজনরা৷   

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলতে চান? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন