মরণোত্তর অঙ্গদানে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ | বিশ্ব | DW | 19.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মরণোত্তর অঙ্গদানে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে কিডনি, লিভার, হৃদপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ফলে উপকৃত হচ্ছেন অনেক রোগী৷ এবার রাজ্য তথা দেশের প্রথম সরকারি হাসপাতাল হিসেবে মেডিকেল কলেজে বিনামূল্যে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়েছে৷

বেহালা ম্যান্টনের শর্মিষ্ঠা দাস চাকরি করেন৷ হঠাৎ দেখা দিলো কিডনির সমস্যা৷ ডায়ালাইসিস করতে করতে প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে৷ অন্যের কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপন করানোর অত সামর্থ্য কোথায়? কিডনি কেনাবেচার জগৎ সম্পর্কে তাঁদের জানাও নেই৷ অতএব দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে দুটো করে ডায়ালাইসিসই ছিলো ৩৮ বছর বয়সি এর শর্মিষ্ঠার ভবিতব্য৷

ভিডিও দেখুন 01:06

দেখুন কী বলছেন শর্মিষ্ঠা দাস

মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ৪৮ বছরের হাবিবুর রহমানেরও একই অবস্থা৷ তাঁর হৃদপিণ্ড না প্রতিস্থাপন করালেই নয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো৷ এত টাকা কোথা থেকে মিলবে, চিন্তা ছিল সেটাই৷

‘ব্রেন ডেথ' রোগীর কিডনি, হার্ট, লিভার-সহ বিভিন্ন অঙ্গ একজন অসুস্থ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপিত করে রোগীকে নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব৷ এই মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যে ক্রমশ এগিয়ে চলছে, তার প্রমাণ শর্মিষ্ঠা ও হাবিবুর৷ ডয়চে ভেলেকে শর্মিষ্ঠা বললেন, ‘‘আড়াই বছর ডায়ালাইসিস করার পর আজ ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে৷ আমার সেই সামর্থ্য ছিল না৷ আজ ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের জন্যই আমি ভালো হতে পেরেছি৷'' একই বক্তব্য হাবিবুরের পরিবারের৷

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮-তে রাজ্যে মরণোত্তর অঙ্গদানের হার বেড়েছে৷ ২০১৮-তে ৩৮টি ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে৷ গত বছরের শেষে ২০ বছরের সজল কর গাড়ি দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর চোট পান৷ ছেলে আর ফিরে আসবে না জেনেই দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর পরিবার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেয়৷ ব্রেন ডেথ হওয়া সজলের হার্ট পান কলকাতা

অডিও শুনুন 04:24

‘ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের জন্যই আমি ভালো হতে পেরেছি’

মেডিকেল কলেজের রোগী হাবিবুর৷ একটি কিডনি পান বেহালার শর্মিষ্ঠা৷ এভাবেই সজলের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নবজীবন লাভ করেছেন আরও একাধিক রোগী৷

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৬টা সফল হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করে পশ্চিমবঙ্গ এই বিষয়ে নয়া দিগন্তের সূচনা করেছে৷ ডয়চে ভেলেকে মেডিকেল কলেজের কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের প্রধান এবং প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্লাবন মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘প্রথম প্রতিস্থাপন হয়েছিল রাখাল দাসের৷ তারপর হাবিবুরের৷ সবাই ভালো আছেন৷ এছাড়া যাদের হয়েছে, তারাও ভালো আছে৷'' ২০১৯ সালে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ আরও বাড়বে আশা করা হচ্ছে৷ মরণোত্তর অঙ্গ দেওয়ার ব্যাপারে এখন সবাই অনেক বেশি সচেতন৷

মেডিকেল কলেজের সুপার এবং ভাইস প্রিন্সিপাল ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘‘গণমাধ্যম অঙ্গদানের ব্যাপারে সচেতনতা যথেষ্ট বাড়িয়েছে৷ ব্রেন ডেথ রোগীর পরিবার এখন অনেক সচেতন৷ আমরা কোনও পরিবারকে অঙ্গদানের জন্য জোর করতে পারি না, কেবল বলতেই পারি৷ তাই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি৷''

অডিও শুনুন 02:10

‘এখন সবাই ভালো আছে’

মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডাঃ উষ্ণীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ডাক্তাররা যখন রোগীদের ওষুধ দিয়েও সামাল দিতে পারেন না, তখন তাঁরা প্রতিস্থাপনের জন্য পাঠান৷ অঙ্গ অচল এমন রোগীদের একটা রেজিস্টার আছে৷ ব্রেন ডেথ রোগী পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়৷''  

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অঙ্গ প্রতিস্থাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা রোটো-র কিছু নির্দেশিকা আছে, সেগুলি মানতে হয় হাসপাতালকে৷ যে হাসপাতালে রোগীর ব্রেন ডেথ হয়, সেখানে কারো অঙ্গ প্রতিস্থাপন দরকার হলে তিনিই অগ্রাধিকার পাবেন৷ কোনো রোগী না থাকলে রাজ্যের অন্য সরকারি হাসপাতালে দেখা হবে৷ তারপরে দেখা হবে বেসরকারি হাসপাতালে৷

এই নিয়মেই দক্ষিণ কলকাতার যে বেসরকারি হাসপাতালে শর্মিষ্ঠার ডায়ালাইসিস চলছিল, সেখানেই ব্রেন ডেথ রোগী পাওয়া যায়৷ ফলে কিডনির ক্ষেত্রে শর্মিষ্ঠা অগ্রাধিকার পান৷ এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ও নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শর্মিষ্ঠার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রোটোতে আমি আগেই ওর কথা বলে রেখেছিলাম৷''

অডিও শুনুন 06:52

চিকিৎসকরা যা বলেন...

অঙ্গদান সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে৷ এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে অঙ্গ স্থানান্তরের জন্য সড়কে রয়েছে বিশেষ লেন, যার নাম গ্রিন করিডোর৷ তবে এখনও উন্নতির অনেক অবকাশ রয়েছে৷ মরণোত্তর প্রতিস্থাপনের সংখ্যা বাড়লে ক্রমশ কমবে অঙ্গ পাচার চক্রের দৌরাত্ম্য৷ বহুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে অঙ্গ কেনাবেচার চক্র সক্রিয়৷ বিপুল টাকা অবৈধভাবে লেনদেন হয়৷ শর্মিষ্ঠা ও তার স্বামী শান্তনু দাস জানিয়েছেন, ‘‘কিডনির জন্য তাঁদের কাছে ৭ লক্ষ টাকাও চাওয়া হয়েছিল৷''

২০১৮-র থেকে এই বছরে মরণোত্তর প্রতিস্থাপনে বেশি সাড়া মিলবে বলে আশা চিকিৎসকদের৷ ডাঃ সন্দীপ ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘‘আপাতত রাজ্যের রোগীদের চাহিদা মেটানোই লক্ষ্য৷ পরে অন্য রাজ্যেও আমরা অঙ্গ দান করতে পারব৷ এজন্য মরণোত্তর অঙ্গদানের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে৷ মনে রাখতে হবে, পরলোকে অঙ্গের প্রয়োজন নেই৷ প্রয়োজন আছে আমাদের পৃথিবীতে৷''

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন