মন্দিরে চুম্বন দৃশ্য ঘিরে অস্বস্তি কেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মন্দিরে চুম্বন দৃশ্য ঘিরে অস্বস্তি কেন?

নেটফ্লিক্সে একটি ছবির দৃশ্য ঘিরে প্রতিবাদ হিন্দুত্ববাদীদের৷ এক মুসলিম যুবক মন্দিরে এক হিন্দু তরুণীকে চুম্বন করেছে, এই দৃশ্য ঘিরেই বিতর্ক৷ 

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বিক্রম শেঠের উপন্যাস অনুসরণে ‘এ স্যুটেবল বয়' নামে তৈরি হয়েছে একটি ড্রামা সিরিজ৷ ছয় পর্বের এই ধারাবাহিকের পরিচালক মীরা নায়ার৷ এই ছবির একটি দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ সিরিজের মুখ্য অভিনেত্রী, হিন্দু তরুণী লতা মুসলিম তরুণ কবীরকে চুম্বন করছে৷ এই দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে রয়েছে একটি মন্দির৷ সিরিজের এই দৃশ্যে আপত্তি তুলেছে বিজেপি৷ গেরুয়া শিবিরের এক নেতা নেটফ্লিক্সের দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিরিজে আপত্তিকর দৃশ্য রয়েছে যা ‘লাভ জিহাদ’কে উৎসাহিত করেছে৷ বিজেপির বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে এই দৃশ্য৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন বছর অবধি কারাবাসের সাজা হতে পারে অভিযুক্তের৷ নেটফ্লিক্সকে আপাতত বয়কটের ডাক দিয়েছে নেট-নাগরিকদের একাংশ৷ এই সংস্থা আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে৷ ২০১৮ সালে ‘সেক্রেড গেমস' সিরিজে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী৷

‘এ স্যুটেবল বয়' সিনেমায় মন্দিরের দৃশ্য নিয়ে বির্তকের মাঝে অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের বক্তব্য, ‘‘কাঠুয়ায় মন্দিরের ভিতর আট বছরের বালিকার গণধর্ষণ যদি বিচলিত করতে না পারে, তাহলে সিনেমায় একটি কাল্পনিক দৃশ্য নিয়ে প্রতিবাদের অধিকার আপনাদের নেই৷’’

একই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র খাজুরাহো মন্দিরের চুম্বন ভাস্কর্যের ছবি-সহ টুইটারে লিখেছেন, ‘‘মধ্যপ্রদেশ সরকার নেটফ্লিক্সের সিরিজের দিকে আঙুল তুলেছে৷ অথচ এই রাজ্যেই রয়েছে খাজুরাহো মন্দির৷’’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক মানস ঘোষ একই সুরে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ দৃশ্য ধর্মীয় ভাবাবেগকে মোটেই  আঘাত করছে না৷ হিন্দুধর্মের সেই উদারতা আছে যাতে মন্দিরের গায়ে খাজুরাহোর মতো ভাস্কর্য দেখা যায়৷ তাই যে ঐতিহ্যের কথা বলা হয়, সেটা আসলে হিন্দুত্ববাদীদের ভাবনার সঙ্গে খাপ খায় না৷’’

অডিও শুনুন 04:17

এ দৃশ্য ধর্মীয় ভাবাবেগকে মোটেই আঘাত করছে না: অধ্যাপক মানস ঘোষ

অতি সম্প্রতি অলঙ্কার ব্যবসায় যুক্ত সংস্থা ‘লাভ জিহাদ'-এ অভিযুক্ত হওয়ার জেরে তাদের বিজ্ঞাপন তুলে নিয়েছিল৷ ‘বিগ বস-১৪'-তেও এই একই ধরনের অভিযোগ ওঠে৷

বিজেপিকে বিঁধে ‘লাভ জিহাদ' প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান বলেন, ‘‘ভালোবাসা ব্যক্তিগত৷ লাভ জিহাদের নামে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না৷’’

প্রসঙ্গত নুসরত নিখিল জৈনকে বিয়ে করার পর তাঁর শাঁখা-সিঁদুর পরা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷ তিনি বিয়ের জন্য ধর্মান্তরিত হয়েছেন কিনা, এ প্রশ্নও তুলেছিল মুসলিম মৌলবাদীরা৷ অতীতে অনেক হিন্দি সিনেমায় ‘লাভ-জিহাদ'-এর নমুনা দেখা গিয়েছে৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ঘোষের মন্তব্য, ‘‘ভিন্ন ধর্মে বিয়েতে বাধা দেওয়ার মতো শিল্প মাধ্যমে তার প্রকাশকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করে কোনো কোনো শক্তি৷ এটা শিল্পমাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপ৷ মন্দিরের সামনে চুম্বন দৃশ্যকে একটা সৃষ্টি হিসেবে দেখতে হবে৷ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়৷’’

টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেতা বাদশা মৈত্র ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘চুম্বন ভালবাসার প্রকাশ৷ কেউ যদি মন্দির বা ধর্মস্থলে ভালোবাসার সঙ্গে প্রিয় মানুষকে চুম্বন করে, তাতে অপরাধের কিছু নেই৷’’  

নেটফ্লিক্সের গ্রাহক সংখ্যা ভারতে ৪৬ লক্ষেরও বেশি৷ এই ধরনের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার তোড়জোড় ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এই নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে৷ সেই চেষ্টা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে শিল্পমাধ্যমের উপর বড়সড় হস্তক্ষেপ নেমে আসবে বলে মত বিশেষজ্ঞরা৷ অধ্যাপক ঘোষ বলেন, ‘‘কোনো যুগল যদি ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, তাঁদের দেখে শিল্পীর কোনো নান্দনিক অনুভূতি জাগতে পারে৷ তাতে ধর্ম থাকে না৷ আসলে ধর্ম একটা বিমূর্ত বিষয়৷ শিল্প তার ব্যতিরেকে নিজের মতো চলে৷''

এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার শিল্প-চিত্রকলা হিন্দুত্ববাদীদের নিশানায় এসেছে৷ গত বছর দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘ছপক' নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল ধর্মীয় কারণে৷ অভিনেত্রী ও পরিচালক সুদেষ্ণা রায় ‘এ স্যুটেবল বয়' প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হিন্দুধর্ম এতো ঠুনকো নয়৷ ভগবান শুধু মন্দিরে নয়, সর্বত্রই আছেন৷ তাহলে মন্দিরে চুম্বনে অসুবিধে কোথায়? আমাদের সাহিত্য, মহাকাব্য এ রকম সঙ্কীর্ণতার শিক্ষা দেয় না৷ কৃষ্ণের লীলা, মন্দিরে যৌনদৃশ্য সম্বলিত স্থাপত্য উদার চিন্তার কথাই বলে৷’’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন