মন্দিরের রত্নভান্ডারের চাবি হারানো ঘিরে রহস্য | বিশ্ব | DW | 12.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মন্দিরের রত্নভান্ডারের চাবি হারানো ঘিরে রহস্য

পুরীর জগন্নাথ দেব মন্দিরে রত্নভান্ডারের চাবি হারানো নিয়ে বিভ্রান্তির জেরে নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে৷ সুপ্রিম কোর্ট মন্দির ম্যানেজমেন্ট পর্যালোচনা করে এ মাসেই রিপোর্ট দিতে বলেছেন ওড়িষা সরকারকে৷

ওড়িষা রাজ্যের পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দিরে পান্ডারাজ নিয়ন্ত্রণে এবং ভক্ত ও পূণ্যার্থীদের ওপর পান্ডা এবং অন্যান্য দালালদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে দেশের শীর্ষ আদালত বিখ্যাত সব মন্দির ও ধর্মস্থানের টাকাকড়ি এবং অন্যান্য বিষয় সম্পত্তির আর্থিক দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রকে৷ এক জনস্বার্থ মামলার শুনানির বৃহত্তর পরিসরে বিখ্যাত সব ধর্মস্থানগুলির বিষয় সম্পত্তি ও ধন দৌলতের আর্থিক দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করার এবং সেই সঙ্গে ধর্মস্থানগুলির বাণিজ্যিকীকরণ রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলেছেন৷ এটা শুধু জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, ভারতের অন্যান্য যেসব নামকরা মন্দির আছে, যেমন, অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দির, জম্মুর বৈষ্ণব দেবী, গুজরাটের সোমনাথ মন্দির, কেরালার পদ্মনাভস্বামী মন্দির, অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির, ধর্মশালা মন্দির ইত্যাদি৷ কমিটিকে ৩০শে জুনের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে৷

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই স্থানগুলির মাহাত্ম্য শুধু ধর্মীয় নয়, এর সামাজিক, ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যকলার গুরুত্ব কম নয়৷ যার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ পূণ্যার্থী ছুটে যায় দর্শনের জন্য৷ দান করেন প্রচুর অর্থ প্রণামী  হিসেবে৷ এছাড়া ইতিহাস বলছে, অতীতে যুদ্ধ জয়ের পর প্রচুর ধনসম্পদ এই রত্নভান্ডারে জমা করা হয়েছিল৷

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দরকার হলো কেন? দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রত্নভান্ডারের দুটি প্রকোষ্ঠ আছে৷ একটি বাইরের অন্যটি ভেতরের৷ বাইরের প্রকোষ্ঠে থাকে জগন্নাথ দেবের নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী এবং অলঙ্কারাদি৷ ভেতরের প্রকোষ্ঠে আছে বিপুল ধনরত্ন৷ ১৩০ কিলো সোনা, ২৬০ কিলো রুপো, মনি মানিক্য, হিরে জহরত৷ রত্নভান্ডারের তিনটি চাবি৷ একটি থাকে মন্দিরের প্রশাসনের অফিসে, দ্বিতীয়টি থাকে পুরীর গজপতি মহারাজার কাছে আর তৃতীয়টি থাকে সরকারি ট্রেজারিতে৷ ভেতরের প্রকোষ্ঠের তিনটি ঘরের তিনটি চাবিই পাওয়া যাচ্ছে না, যেটা থাকার কথা সরকারি ট্রেজারিতে৷

১৯৮৫ সালে ভেতরের প্রকোষ্ঠ খোলার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্ত জনশ্রুতি ভেতরের ঘর থেকে কালনাগের হিস হিস শব্দ শুনে আর কারোরই দরজা খোলার সাহস হয়নি৷ মনে করা হয়, ঐ নাগই এই রত্নভান্ডার আগলে রেখেছে৷ প্রাচীন স্থাপত্যের কাঠামো সংস্কারের কাজে ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগকে (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) রত্নভান্ডার পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছিল৷ সম্প্রতি পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ বাইরের প্রকোষ্ঠ দেখে ফিরে আসে, যেহেতু ভেতরের প্রকোষ্ঠের চাবি পাওয়া যায়নি৷ এই নিয়ে শুরু হয় দোষারোপ পাল্টা দোষারোপ৷

পুরীর গজপতি দিব্যসিংহ মহারাজা মন্দিরের রত্নভান্ডারের চাবি হারানোর দায় নিতে নারাজ৷ সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আমার কাছে যে চাবিটি থাকার কথা সেটি ঠিকই আছে৷ হারিয়ে থাকলে তা হরিয়েছে সরকারি ট্রেজারি থেকে৷ জেলা কালেক্টর অরবিন্দ আগরওয়াল বলেছেন, জেলা ট্রেজারিতে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়, কিন্তু চাবি পাওয়া যায়নি৷ ভেতরের প্রকোষ্ঠ শেষবার খোলা হয়েছিল ১৯৬৪ সালে৷ তারপর আর খোলা হয়নি৷ জগন্নাথ দেব মন্দির আইনে প্রতি তিন বছর অন্তর ভেতরের প্রকোষ্ঠ খোলার নিয়ম, কিন্তু তা পালন করা হয়নি৷ ওড়িষার নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল সরকার তড়িঘড়ি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ওড়িষা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঘুবীর দাসের নেতৃত্বে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন