মন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মঘট, মন্ত্রীর নির্দেশেই প্রত্যাহার! | বিশ্ব | DW | 01.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মঘট, মন্ত্রীর নির্দেশেই প্রত্যাহার!

বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘটের অবসান হলেও নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ ঢাকায় তার সরকারি বাসায় তার সভাপতিত্বেই এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে৷

নৌ-মন্ত্রীই আবার যাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার জিম্মি দশায় রেখে বুধবার বিকেলে পরিবহন শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে৷ মন্ত্রী হলেও শাহজাহান খান একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি৷

২০১১ সালে  ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর নিহত হন৷ ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামির হোসেন নামের এক পরিবহন শ্রমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত৷ এছাড়া সাভারে এক নারীকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে ২৭ ফেব্রুয়ারি মীর হোসেন মীরু নামে আরেক চালককে ফাঁসির আদেশ দেন সিএমএম আদালত৷

- Minister Shahjahan Khan Bangladesch - Landesweiter Streik der Bus- und LKW Fahrer (bdnews24.com)

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান

জামির হোসেনকে কারাদণ্ড দেয়ার পরদিন থেকেই তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলনার ১০ জেলার পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন৷ পরদিন দুপুরের পর তারা ধর্মঘট শিথিল করার ঘোষণা দিলেও ওই দিন আরেক চালককে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় রাতে ঢাকায় নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় মালিক শ্রমিকদের বৈঠকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালে পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি দেয়া হয়৷ মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বেই বৈঠক হয় বলে জানা গেছে৷

এ নিয়ে শাজাহান খানের সঙ্গে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷ তবে ওই বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা খুলনার ধর্মঘট শিথিলের জন্য বৈঠকে বসেছিলাম, তবে তখনই একজন চালকের মৃত্যুদণ্ডের খবর আসায় সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান৷ তারা কর্ম বিরতির ঘোষণা দেন৷ এতে নৌ-মন্ত্রী বা আমার কোনো হাত নেই৷’’ তিনি প্রশ্ন রাখেন চালকরা গাড়ি না চালালে তাদের কী করার আছে?

অডিও শুনুন 02:47
এখন লাইভ
02:47 মিনিট

‘এতে নৌমন্ত্রী বা আমার কোনো হাত নেই’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদেশে হঠাৎ ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে৷ ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন৷ আর নৌ-মন্ত্রী ধর্মঘটের সমর্থনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘শ্রমিকরা মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে গাড়ি না চালালে তাদের তো জোর করা যায় না৷ তারা স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছে৷’’

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পরিবহন শ্রমিকদের৷ তারা পুলিশ বক্স এবং রেকার জ্বালিয়ে দেয়৷ এমনকি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায়৷ আর এতে টনক নড়ে সরকারের৷ আর সরকারের মন্ত্রীই পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে এই খবরে ব্যাপক সমালোচনা হয় সারাদেশে৷ তাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে দুপুরের পর নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন৷ তবে এখানেও তিনি কৌশল অবলম্বন করেন৷ তিনি দাবি করেন, ‘‘এটা ধর্মঘট নয়, মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি ছিল, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা করেছে৷’’

তবে চাপ আরো ছিল৷ বুধবার সকালেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘটকে অবৈধ ঘোষণার দাবিকে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ৷ দুপুরে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের সময় আদালত রুলও দিয়েছেন৷ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট৷ বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন৷

অডিও শুনুন 02:25
এখন লাইভ
02:25 মিনিট

‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বেআইনি’

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বেআইনি৷ এটা কোনোভাবেই হতে পারে না৷ এর এই অবৈধ ধর্মঘটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে৷’’ তিনি জানান, ‘‘তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও রিটের রুলের উপর শুনানি হবে৷ আর যাতে কেউ অযৌক্তিক ধর্মঘট করতে না পারে সে ব্যাপারে আদালত নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করি৷ আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আদালতে গেলে ক্ষতিপূরণ পাবেন৷’’

বুধবার ধর্মঘট শুরুর পর সরকারের একাধিক মন্ত্রী ধর্মঘটকে অবৈধ এবং অযৌক্তিক বললেও নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ছিলেন অনঢ়৷ তিনি ধর্মঘটের পক্ষে তার সাফাই অব্যাহত রেখেছিলেন৷ তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চাপে এবং হাইকোর্টে রিট হওয়ায় তিনি রণে ভঙ্গ দেন৷

মশিউর রহমান রাঙা অবশ্য দাবি করেন এটাকে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ধর্মঘট বলা যাবে না৷ তার মতে, এটা শ্রমিকদের কর্মবিরতি ছিল৷ তারা মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মত শাস্তি মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাতে চান না৷’’

তিনি আরো বলেছেন, ‘‘আমরা সরকারে থেকে, সরকারের মন্ত্রী হয়ে ধর্মঘট-এর কর্মসূচি দেই কীভাবে! দিতে পারি না৷ নৌ-মন্ত্রী এই ধর্মঘট ডাকেননি৷ শ্রমিকরা এখন কাজে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷’’

প্রিয় পাঠক, এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়