মন্ত্রিসভায় অদল-বদল স্বাভাবিক নিয়মেই | বিশ্ব | DW | 04.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মন্ত্রিসভায় অদল-বদল স্বাভাবিক নিয়মেই

সরকারের মন্ত্রীসভায় কিছু নতুন মুখ এসেছে৷ পাশাপাশি অদল-বদল হয়েছে কয়েকটি দফতরে৷ হঠাৎ কেন এসব পরিবর্তন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছে৷ এর মধ্যে দু--একটি দফতরে হয়ত কিছু সমস্যা ছিল৷ কিন্তু অন্যগুলোতে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না৷ আওয়ামী লীগও বলছে, সরকারকে গতিশীল করতেই এটা করা হয়েছে৷ সামনে নির্বাচন, সরকার ভালো কিছু করতে চায়, এ কারণে পরীক্ষিত ত্যাগী মানুষকে মন্ত্রীসভায় এনেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁরা ভালো কিছু করবেন এমন প্রত্যাশা ক্ষমতাসীন দলটির৷ 

সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মন্ত্রীসভায় রদবদল– এটা খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া৷ এতে বাঁকা চোখে দেখার কিছু নেই৷ ক'দিন আগেও মোদীর মন্ত্রীসভায় অদল-বদল হয়েছে৷ ব্রিটেনেও আমরা রদবদল হতে দেখেছি৷ এটা সরকারের শেষ বছর বা প্রথম বছরেও হতে পারে৷ যাঁদের মন্ত্রীসভায় আনা হয়েছে, আবেগের বশে তাঁরা এসেছেন, এমন নয়৷ তাঁরা সবাই পরীক্ষিত মানুষ৷ তাঁদের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা আমাদেরও৷

অডিও শুনুন 03:35
এখন লাইভ
03:35 মিনিট

‘বিমান মন্ত্রণালয়ে যে বদল হতে পারে, সে ধারণা আগেই পাওয়া গিয়েছিল'

তবে বিমান মন্ত্রণালয় নিয়ে কিছু কথা আছে৷ খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজের চড়া উড়োজাহাজে সমস্যা ধরা পড়েছে৷ পাইলট হিসেবে পাওয়া গেছে সরাসরি জঙ্গি সদস্যকে৷ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কিছু খারাপ ইমেজ গেছে৷ ফলে এই দফতরটিতে যে বদল হতে পারে, সে ধারণা অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছিল৷''

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি অনেকদিন ধরেই শূন্য ছিল৷ খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই দফতরটি তাঁর হাতে রেখেছিলেন৷ এই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগে দুই জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন৷ এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তাঁকে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে৷ তবে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে তাঁর জায়গায় রাখা হয়েছে৷ এসেছেন নতুন মন্ত্রী৷

নিজে যেভাবে কাজ করছিলেন, নতুন মন্ত্রী আসায় সেই কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটবে কি-না জানতে চাইলে জনাব পলক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটি একটি বিশাল মন্ত্রণালয়৷ আমি এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি৷ সামনের এক বছরে এটাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই৷ মন্ত্রী হিসেবে যিনি এসেছেন, তিনিও এই সেক্টরের মানুষ৷ তাঁর সঙ্গে আমার এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে৷ তিনি বলেছেন, দু'জনে মিলেই সামনে আমরা ভালো কিছু করতে চাই৷ আমাদের আলোচনা হয়েছে কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না, মিলেমিশেই কাজ করবো৷''

অডিও শুনুন 01:11
এখন লাইভ
01:11 মিনিট

‘আলোচনা হয়েছে, মিলেমিশেই কাজ করবো’

নির্বাচনের বছরে এমন রদবদল কি আসলে নির্বাচনকে টার্গেট করে? সরকার কি নির্বাচন ঘিরে কোনো পরিকল্পনা করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মন্ত্রীসভায় রদবদলের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর৷ তিনি যেটা ভালো মনে করেছেন, সেটা করেছেন৷ এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ যাদের দিয়ে ভালো কাজ হবে বলে মনে করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন৷ এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া৷ আর নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন৷ সেখানে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে৷ ফলে মন্ত্রীসভার এই রদবদলের সঙ্গে নির্বাচনকে মেলানো ঠিক হবে না৷''

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিমান মন্ত্রণালয়ের বদলটা আগে থেকেই অনুমিত ছিল৷ গত দুই বছরে বিমানে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে৷ খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিমানেই ত্রুটি ধরা পড়েছে৷

অডিও শুনুন 02:10
এখন লাইভ
02:10 মিনিট

‘প্রধানমন্ত্রী যেটা ভালো মনে করেছেন, সেটা করেছেন’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিমানের অবস্থান খারাপ হয়েছে৷ ফলে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণে মন্ত্রীকে সরে যেতে হলো কিনা- সে প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে রাশেদ খান মেননকে৷ রাশেদ খান মেননের সময়ে বিমান মন্ত্রণালয় প্রথমবার বড় ধাক্কা খায় ২০১৬ সালের মার্চে৷ নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো বিমানের (পণ্যবাহী উড়োজাহাজ) সরাসরি ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্য৷

ত্র কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি উড়োজাহাজ৷ সে ঘটনা পুরো দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে৷ যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিমানে ত্রুটি আর জঙ্গি ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে নানাভাবে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরও ২০১৬ সালের নভেম্বরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক আনসার সদস্য ছুরিকাঘাতে নিহত হন৷ গতবছর সেপ্টেম্বরে হজ মৌসুমের মধ্যে বিমানবন্দরের মূল ভবনে আগুন লাগলে তিন ঘণ্টা বহির্গমন কার্যক্রম বন্ধ থাকে৷ পরে তদন্তে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দরটিতে আগুন নেভানোর অত্যাধুনিক কোনো যন্ত্রপাতিই নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন