মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে করোনার গুজব | বিশ্ব | DW | 27.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে করোনার গুজব

করোনাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই ভুল তথ্য বা গুজবে ভরপুর সামাজিক গণমাধ্যম৷ এর অনেকগুলো ধর্মকে কেন্দ্র করে৷ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এসব গুজব ছড়িয়েছে ব্যাপকহারে৷

মধ্যপ্রাচ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন, মুসলিমদের কিছু হবে না-এমন সব খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল৷ বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এমন অভূতপূর্ব একটি মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে একটা সমাধান পাবার আশায় এসব খবর ছড়াতে শুরু করেন মানুষ৷

‘‘দুর্ভেদ্য সংকট ও সংঘাতের সময় মানুষ প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভর করে এর ব্যাখ্যা করতে চান,'' বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের শিক্ষক নাবিল দাজানি৷ ‘‘শুধু ইসলাম বিশ্বে নয়, সব জায়গাতেই এমনটি দেখেছি৷''

কোভিড-১৯ ছড়ানো শুরু করলে এর প্রতিকার থেকে শুরু করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সবকিছু নিয়েই গুজব ছড়াতে শুরু করে৷

এ অবস্থায় আরব বিশ্বের সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টের সত্যতা যাচাই করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি৷ যেমন, গেল ফেব্রুয়ারিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বলা হচ্ছে অনেক চীনা নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন, কারণ করোনা ভাইরাস মুসলিমদের আঘাত করে না৷

 প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি ২০১৯ সালের মে মাসের, করোনা ভাইরাস চীনে দেখা দেবারও কয়েক মাস আগের৷ ভিডিওটিতে দেখা গেছে টাগালগ ভাষাভাষী কিছু মানুষ সৌদি আরবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন৷

আরেকটি ক্লিপে দেখা গেছে, কোরআনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পর থেকে চীনা নাগরিকরা পবিত্র গ্রন্থটির কপি পাচ্ছেন৷ আসলে ক্লিপটি কমপক্ষে ২০১৩ সালের, যেখানে বাইবেল বিতরণ করা হচ্ছিল৷

আরেকটি ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে৷ সেখানে বলা হচ্ছিল, পাঁচশ বছরের ইতিহাসে স্পেনে প্রথমবার আযানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে৷ স্পেন করোনায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ৷ বাস্তবতা হল, স্পেনে অনেকদিন ধরেই আযানের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই৷ 

‘‘আমাদের এখানে কখনো কখনো এমন সব ধর্মীয় দাবি ওঠে যা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিপরীত,'' বলেন এইউবির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সারি হানাফি৷ ‘‘তবে ধর্ম সামাজিক সংহতিরও অন্যতম ভিত্তি যা কোয়ারান্টিনের সময় মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে৷''

শুধু ধর্মকে কেন্দ্র করেই নয়, এএফপি পশ্চিমা দেশগুলো নিয়েও বেশ কিছু দাবি বা গুজবের সত্যতা যাচাই করেছে৷ যেমন, আরববিশ্বে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে, ইটালিয়ানরা করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় একটি পাবলিক চত্বরে গণআত্মহত্যা করছেন৷

আসলে ভিডিওটি কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার অনেক আগেই একটি প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ৷ প্রতিবাদটি ইটালির অতিডানপন্থিদের বিরুদ্ধে ছিল৷

এছাড়া ইটালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, ‘সমাধান একমাত্র স্বর্গ থেকেই আসবে' এমন কথাও ছড়ানো হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, যা সত্য নয়৷

এদিকে, ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' নিয়ে ব্রিটেনে স্কুল অফ অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের গবেষক দিনা মাতার বলেন, এটি কোন আঞ্চলিক বিষয় নয়৷

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বা পৃথিবীর অন্য কোন জায়গায় এ তত্ত্বগুলো ‘‘ধর্মকে রাজনৈতিক চর্চা জায়েজ করবার কাজে ব্যবহার করা হয়৷''

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পশ্চিমেও একই দশা বলে মনে করেন তিনি৷

হানাফি বলেন, অন্যান্য অঞ্চলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো হয়তো শুধু ধর্মকে ব্যবহার করে হয় না৷ তার সঙ্গে জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সংস্কার ও বর্ণবাদ যুক্ত করা হয়৷

সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, কোন দেশের ল্যাবে করোনা ভাইরাস তৈরি করে অন্য দেশে আঘাত করা কিংবা শরণার্থীরা কোভিডে বেশি আক্রান্ত হন-এগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে কোথাও কোথাও জড়িয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোকেই উস্কে দেয়া হয়৷

আমরা যখন দূর্বল বোধ করি এবং যখন কোন কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করতে পারছি না বলে মনে হয়, তখনই এ ধরনের তত্ত্ব ছড়ায় বলে মনে করেন হানাফি৷

জেডএ/কেএম (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন