‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা যত কমবে, গুজব তত বাড়বে′ | আলাপ | DW | 14.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা যত কমবে, গুজব তত বাড়বে'

প্রচলিত গণমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যত কমবে, গুজব তত বাড়বে বলে মনে করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী৷ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুজব নিয়ে নিজের ভাবনার বিস্তারিত জানিয়েছেন অধ্যাপক চৌধুরী৷

ডয়চে ভেলে : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনে না জেনে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন অনেকে৷ এতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : এই মাধ্যমে মানুষ সেগুলোই শেয়ার করে যেগুলো সে বিশ্বাস করতে চায়৷ যে জিনিসগুলো তার পছন্দ হয় সেগুলোই সে নিয়ে নেয়৷ এভাবেই ছড়ায়৷ এগুলো একটা গোপনীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়৷ প্রকাশ্য হয় না, কিন্তু এর প্রভাব পড়ে৷

আমরা দেখেছি, অনেকে ভুল তথ্য শেয়ার করার পরও সেটা অনেকে প্রত্যাহার করেন না...

ভুল তথ্য মানুষ দুই কারণে দেয়৷ একটা ইচ্ছে করে দেয়৷ অর্থাৎ, বানিয়ে দেয় রংচং মিশিয়ে৷ আরেকটা কারণ হলো, যে দিচ্ছে সে হয়তো নিজে তৈরি করেনি, শুনেছে৷ কিন্তু ওইটা তার পছন্দ হয়েছে৷ আর প্রত্যাহার করা না করা সমান৷ কারণ, এটা ছড়িয়ে পড়লে যারা বিশ্বাস করার তারা করে ফেলবে৷ এই কারণে প্রত্যাহার করার কোনো তাৎপর্য নেই৷ কারণ, এটা তো গুজবের মতো ছড়িয়ে পড়ে৷ এগুলো তো তথ্য নয়, গুজব

অনেকের মৃত্যুর সংবাদ না জেনে ফেসবুকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷অথচ তিনি মারা যাননি৷ ওই পরিবারটি তো চরম বেকায়দায় পড়ে, তাই না?

অবশ্যই৷ এটা তো খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ৷ এটা তো শুধু পরিবার নয়, তার অনুরাগীদের উপরও প্রভাব পড়ে৷ এটা একটা মিথ্যাচার৷ কেউ যদি ইচ্ছে করে দেয় তাহলে সে অন্যায় কাজ করে৷ তাছাড়া অন্যের কাছ থেকে শুনে, যাচাই না করে দিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত না৷ আমি মনে করি এটা খুবই অন্যায় কাজ৷

অডিও শুনুন 10:10

‘অবাধ তথ্য প্রবাহের কথা বলা হয়, কিন্তু আসলে তো তথ্য প্রবাহ নেই’

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে যথারীতি তারকা হয়ে উঠেছেন৷ তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন...

এদের খুব খারাপভাবে দেখবো৷ এটা তো প্রতারণার শামিল৷ একটা খবর সে বানালো বা যাচাই না করেই বলে দিলো এবং মুখরোচক হওয়ার কারণে অনেকেই শুনলো৷ এতে সে বড় হয়ে গেল৷ এই ধরনের প্রতারণা ঠিক না৷ এই ধরনের প্রতারণা পরিহার করা দরকার৷ এই ধরনের প্রতারণা চলে কেন সেটাও আমাদের দেখতে হবে৷ মানুষ যখন আসল খবরটি পায় না, গুজব তখনই তৈরি হয়৷

সমাজে এসব খবরের কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?

এটা তো সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে৷ এই ধরনের প্রতারণামূলক খবর দিয়ে এক ধরনের খ্যাতি অর্জন করা, ফলোয়ার তৈরি করার প্রভাব তো খারাপই হবে৷ এতে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু কতটা খারাপ আমরা হয়তো তার পরিমাপ করতে পারবো না৷

যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তারা তো আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না?

এটা একটা বড় সমস্যা৷ যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে না৷ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যেটা আছে, সেটা কিন্তু এ থেকে রক্ষা করে না৷ শুধুমাত্র যারা রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, ছোট হোক আর বড় হোক, তারা একটা মামলা ঠুকে দিলে তাকে ধরে নিয়ে আসছে৷ এই আইনটার সুবিধা ব্যক্তিরা পাচ্ছেন না৷ এই ধরনের সুযোগ থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি৷ এগুলো আবার যাচাই করে দেখতে হবে৷ কারণ, এটাও একটা মিথ্যাচার হতে পারে৷ ফলে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আরেকটা মিথ্যাচার দিয়ে তো আর কাজ হবে না৷ কাজেই এগুলো যাচাই-বাছাই করতে হবে৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কি যা ইচ্ছে তা-ই করা সম্ভব?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তো যা ইচ্ছে তাই করা যাচ্ছে৷ কিন্তু এটা যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একটা মনিটরিং থাকা দরকার৷ যেটা মিথ্যা সেটা যেন তারা দেখে৷ যারা এটার দায়িত্বে আছে বা যারা এটা চালাচ্ছেন, তাদের উপরই দায়িত্বটা বর্তায়৷ সরকারের ভূমিকাও থাকবে৷ সরকার ওই কোম্পানিকে বলবে৷ গভমেন্ট তো কোনো অলৌকিক বিষয় না, গভমেন্টও ব্যক্তি৷ যেসব প্রতিষ্ঠান এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরই এটা দেখা উচিত৷ সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপটা আমার পছন্দ না৷ তখন এটার অপব্যবহার হতে পারে৷

শুধু সামাজিক মাধ্যম না, পত্রিকা বা অনলাইনেও তো অনেক ‘গল্প' ছাপা হচ্ছে৷ মানুষ এগুলো অনেক সময় বিশ্বাসও করছেন..,

মানুষের কোনো অপরাধ আমি দেখি না৷ যারা করছে, তারা হয়তো ইচ্ছে করেই করছে৷ মানুষ তো আসল খবর পাচ্ছে না৷ অবাধ তথ্য প্রবাহের কথা বলা হয়, কিন্তু আসলে তো তথ্য প্রবাহ নেই৷ খবর তো নিয়ন্ত্রিত৷ বিশেষ করে যে সমস্ত খবর মানুষ জানতে চায়, সেই বিষয়ে তারা খবর পায় না৷ রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক অনাচারের খবর মানুষ জানতে চায়৷ কিন্তু সেগুলো পায় না৷ তখন গুজব ছড়ালে মানুষ খুশি হয়৷ তখন মনে করে একটা কিছু হচ্ছে৷ তখন মানুষ অন্যায্য আনন্দ পায়৷

এই ধরনের ভুল খবর যারা ছড়াচ্ছে, তাদের কিভাবে নিবৃত্ত করা যায়?

ওই যে, যে মাধ্যম এটা প্রচার করছে আমি সেই মাধ্যমের উপরই দায়িত্ব দিতে চাই৷ তথ্য প্রবাহকে অবাধ করা দরকার৷ সত্যি তথ্য যাতে প্রচার পায়, সেই স্বাধীনতা দেওয়া দরকার৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতা খুবই জরুরি৷ যে গুজবগুলো ছড়ানো হয় তার মধ্যে মতও থাকে৷ এটা যে একটা নিরপেক্ষ জিনিস, তা নয়৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতাটা খুবই জরুরি৷

সংবাদমাধ্যমে কি তাহলে সঠিকভাবে মত প্রকাশ হচ্ছে না?

না, হচ্ছে না৷ সংবাদপত্র তো নানান রকমের প্রভাবের মধ্যে আছে৷ যারা বিজ্ঞাপন দেয় তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়৷ মালিকের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক অবস্থান তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়৷ সরকার অপছন্দ করবে কিনা এ বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হয়৷ সংবাদপত্রে স্বাধীনতার অভাব তো অনেক দিনের পুরনো, এখনো সেটা আছে৷

সামাজিক বা অনলাইন মাধ্যম আরো পরিশীলিতভাবে কিভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব?

আমি যেহেতু প্রাচীণপন্থি লোক তাই সংবাদপত্র ও টেলিভিশনকে গুরুত্ব দিতে চাই৷ সংবাদপত্রে একটা খবর দিলে দায়িত্ব নিয়ে দেয়৷ টেলিভিশনে একটা খবর গেলে তারাও দায়িত্ব নিয়ে দেয়৷ সামাজিক মাধ্যম বা অনলাইনে যারা দিচ্ছে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই৷ যা ইচ্ছে তাই দিয়ে দিচ্ছে৷ আমি মনে করি, যেগুলো প্রচলিত গণমাধ্যম, যাদের দায় থাকে, তাদের আরো শক্তিশালী করা দরকার৷ সঠিক খবর দিতে পারার সুযোগ দেওয়া দরকার৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতা না দিলে তো গুজব তৈরি হবে৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতা যত কমবে, গুজব তত বাড়বে, এটাই নিয়ম৷

বিজ্ঞাপন