মঙ্গলবার কৃষকদের ভারত বনধ | বিশ্ব | DW | 07.12.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মঙ্গলবার কৃষকদের ভারত বনধ

মোদী সরকার তাঁদের দাবি না মানায় মঙ্গলবার ভারত বনধের ডাক দিলেন কৃষকরা। সমর্থনে ১৮ বিরোধী দল।

কৃষকদের সঙ্গে মোদী সরকারের সংঘাত চরমে উঠল। দিল্লি ঘিরে বসে থাকা কৃষকদের কোনো দাবি মানতে রাজি নয় সরকার। কৃষি আইন বাতিল করা দূরস্থান, সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে আইনও করার দাবি মানতে রাজি নয়। কোনো দাবিই মানা হচ্ছে না দেখে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে কৃষক সংগঠনগুলি মঙ্গলবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। তাদের সমর্থন করছে কংগ্রেস, এনসিপি, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ডিএমকে, আপ সহ মোট ১৮টি বিরোধী দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস কৃষকদের দাবি সমর্থন করলেও বনধ সমর্থন করছে না। কারণ, তারা নীতিগতভাবে বনধের বিরোধী।

সমর্থন বিদেশ থেকেও আসছে। লন্ডনে কৃষকদের সমর্থনে বড়সড় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। নিউজিল্যান্ড, অ্যামেরিকা সহ বেশ কয়েকটি দেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। বিদেশ থেকে এ হেন সমর্থন পেয়ে কৃষকরা উজ্জীবীত বলে জানিয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব কৃষক যাত্রা করে কনৌজের কৃষকদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। লখনউতে বাড়ির পাশেই তাঁকে থামিয়ে দেয়া হয়। তিনি সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এ ভাবে সরকার তাঁদের মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেডজরিওয়াল অবশ্য দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় গিয়ে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁদের আন্দোলনকে আপ যে সমর্থন করে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়ে এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপি-র এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, কৃষকদের দাবি মানার প্রশ্নই নেই। কারণ, অনেক কৃষি আইন সবদিক বিবেচনা করেই আনা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের সুবিধা হবে। দালালরাজ খতম হবে। কর্পোরেটগুলি কৃষিক্ষেত্রে এলে লাভবান হবে। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আইন করা হয়েছে। আর এমএসপি থাকবে সেটাও সরকার জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আইন করা হবে না। এরপরেও কৃষকরা আন্দোলন করতে চাইলে করবেন। তার দায় সরকারের নয়।

সরকারের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করে এই সার সত্যটা কৃষকরাও বুঝে গেছেন। তাই তাঁরা ভারত বনধ ডেকেছেন। মঙ্গলবার রাস্তা ও রেল রোকোও হতে পারে। কৃষকরা তাঁদের শক্তি প্রদর্শন করতে বদ্ধপরিকর। দিল্লিতে ট্যাক্সি ও অটোচালকদের কয়েকটি ইউনিয়ন বনধে সামিল হওয়ার ঘোষণা করেছে। ফলে দিল্লির রাস্তায় অটো ও ট্যাক্সি কম চলতে পারে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় বনধে ভালো সাড়া মিলতে পারে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এভাবেই ভারত বনদের আগের দিন সরকার ও কৃষকদের প্রস্তুতি তুঙ্গে উঠেছে।

তাঁদের এই দাবিদাওয়া যে সরকার সহজে মানবে না, তা কৃষকরা ভালো করেই জানেন। দিন কয়েক আগে গাজিপুরে বিক্ষোভরত কৃষকরা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, তাঁরা খাবার দাবার সঙ্গে এনেছেন। তাঁদের জমিতে ফসল পাকছে। বিশেষ করে আঁখ তোলার সময় এসে যাচ্ছে। সরকার তাই সময় নষ্ট করে তাঁদের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। কৃষকরা সাফ জানিয়েছিলেন, তাঁরা হেস্তনেস্ত করতে চান। কারণ, এই আইন তাঁদের সর্বনাশ করবে। ফলে তাঁরা বাঁচার জন্য লড়াই করছেন। সে জন্যই দিল্লির শীতে রাস্তায় শুচ্ছেন। পরিবার পরিজন ছেড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিজনেস এডিটর জয়ন্ত রায়চৌধুরি ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''লড়াই সহজ নয়। তবে কৃষকেরা এখন বিদেশেও সমর্থন বাড়াবে। এর ফলে তাঁদের মনোবল বাড়বে। আর তারা মনে করছেন, জমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে সরকার যদি তাঁদের চাপে পিছোতে পারে, তা হলে এখানেই বা কেন পিছবে না।''

বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, কৃষকরা এই আন্দোলন খুব বেশিদিন টানতে পারবেন না। তাঁদের ধৈর্যচ্যূতি ঘটতে বাধ্য। তাঁরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন। সরকার যে দাবি মানবে না, তা বুঝে যাওয়ার পর বেশিদিন আন্দোলন চালানো মুসকিল। কৃষকরা আন্দোলন করছেন বলে তাঁদের কিছু বলা হচ্ছে না। অন্যরা করলে তো এতদিনে উঠিয়ে দেয়া হতো।

এই চাপ ও পাল্টা চাপের খেলায় কে শেষ পর্যন্ত জিতবে তা পরে জানা যাবে, আপাতত একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, গত এক বছরে বিরোধী দলগুলি কোনো বিষয়ে একজোট হয়ে সরকারের বিরোধিতা করেনি। এই কৃষক আন্দোলন নিয়ে তাঁরা সকলে এক হয়েছেন। সকলেই কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষির উপরেই নির্ভরশীল। ফলে তাঁদের মন ও ভোট পাওয়ার জন্য বিরোধীরাও একজোট।

বিজ্ঞাপন