ভয়ংকর হচ্ছে কিশোর গ্রুপ | বিশ্ব | DW | 06.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ভয়ংকর হচ্ছে কিশোর গ্রুপ

ঢাকায় দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উঠতি কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার'৷ স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

এই ‘গ্যাং কালচারে' জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই মাসে দুই শতাধিক কিশোরকে আটক করে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ সর্বশেষ গত বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘কিশোর গ্যাং' বিরোধে একজন খুন হয়৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্ভট উদ্ভট সব নাম দিয়ে খোলা হয়েছে এসব গ্রুপ৷ ঢাকায় অর্ধশত ‘কিশোর গ্যাং' এর নাম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে৷ মোহাম্মদপুরে খুন হওয়া কিশোরটি ‘ফিল্ম ঝির ঝিল' গ্যাং এর সদস্য ছিল৷ আর ‘আতঙ্ক' গ্যাং-এর সদস্যরা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আদনান কবির হত্যার পর এই ‘গ্যাং কালচারের' বিষয়টি সামনে আসে৷ এর পর এসব গ্রুপের ব্যাপ্তি বেড়েছে৷ ১৫-২০ বছর বয়সি কিশোরদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ২০ জন করে সদস্য থাকে৷

কিশোর অপরাধ নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে৷ আগে তারা বখাটেপনা বা মেয়েদের উত্যক্ত করত৷ এখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে৷

অডিও শুনুন 05:05

‘কিশোররা বখাটেপনা বা মেয়েদের উত্যক্ত করত, এখন হত্যাকাণ্ডও ঘটছে’

এর বড় কারণ পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকা৷ এরপর বলব, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নেই৷ আগে গ্রামের মুরুব্বিকে সবাই ভয় পেত৷ এখন নগরায়নের ফলে মুরুব্বিদের তারা ভয় পায় না, উল্টো মুরুব্বিরাই তাদের ভয় পায়৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে৷ তারা এখানে খুব একটা মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না৷ পাশাপাশি এখন তো খেলার মাঠ নেই৷ তাই সবার হাতে এখন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট৷ তারা ইন্টারনেটে মারামারির গেম খেলছে, হরর ফিল্ম দেখছে, এগুলো তাদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে৷''

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওয়াহেদুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, মোহাম্মদপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য স্কুলে অনিয়মিত বা স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া৷ এদের অধিকাংশই বখে যাওয়া কিশোর৷ আমরা এমন পাঁচ কিশোরকে আটক করেছি৷ কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে৷

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সারওয়ার আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, গত দু’মাসে আমরা অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই শতাধিক সদস্যকে আটক করে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছি৷ ২৪ আগস্ট রায়েরবাজার ও  মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ‘স্টার বন্ড গ্রুপের' ১৭ সদস্যকে আটক করে এক বছর করে সাজা দেওয়া হয়৷ একই দিন বংশালে ‘জুম্মন গ্রুপের' প্রধানসহ পাঁচ সদস্যকে ধরা হয়৷ ২৫ আগস্ট মুগদায় অভিযান চালিয়ে ‘চান-জাদু (জমজ ভাই) গ্যাং', ‘ডেভিল কিং ফুল পার্টির', ‘ভলিয়ম টু ও ভাণ্ডারি' গ্রুপের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে সাজা দেওয়া হয়েছে৷

জাতীয় মানষিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, একটা ঘটনা বলি, একটি ছেলে একটি মেয়েকে উত্যক্ত করত৷ মেয়েটির বড় বোন ছেলেটিকে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে৷ এটি একটি রাস্তার উপরের ঘটনা৷ ছেলেটি মেয়েটির বোনকেও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করল৷ ওই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন৷ কেউ প্রতিবাদ করলেন না৷ আসলে আগে অপরাধ করলে অপরাধীরা ভয়ে থাকত৷ আর এখন অপরাধীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকেন৷

অডিও শুনুন 04:00

‘এখন অপরাধীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকেন’

‘‘এইসব গ্যাং কালচারের কিশোরদের অধিকাংশই মাদকসেবী৷ মাদক এমন একটি জিনিস সেটা ব্রেনের নার্ভকে নষ্ট করে দেয়৷ ফলে তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে৷ বা মুহুর্তেই সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে৷ এসব কারণে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং খুনোখুনির ঘটনা বেশি হচ্ছে৷''

গত ৩১ আগস্ট রাজধানীর লালবাগ কেল্লায় আশুরায় ঢোল বাজানো নিয়ে বিতর্কের জের ধরে রনি হাসান নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে আরেক কিশোর গ্রুপ৷

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর জুয়েল মিয়া বলেন, এই কিশোররা সংঘবদ্ধ হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, এদের পেছনে কোনো গডফাদার বা প্রভাবশালী কেউ রয়েছে৷ ফলে কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না৷ অনেক সময় আমরা তদন্তে গিয়ে দেখেছি, সত্যি সত্যি এরা গডফাদারের আর্শিবাদপুষ্ট৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়