ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হতে পারে এই মাসেই | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হতে পারে এই মাসেই

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনার টিকা দেয়া শুরুর কথা থাকলেও তার আগেই শুরু হতে পারে৷ স্বাস্থ্যসেবা সচিব আবদুল মান্নান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা উপহারের টিকা দিয়ে এ মাসেই সূচনা করার চিন্তা করছি৷’’

বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার ভারতের উপহার অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা হাতে পেতে পারে বাংলাদেশ৷ দূতাবাসের মাধ্যমে এই টিকা হস্তান্তর করা হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মঙ্গলবার দুপুরে জানিয়েছেন৷

বিমানবন্দরে হাজির থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই তা গ্রহণ করবেন৷ ভারত যে উপহারের টিকা পাঠচ্ছে তার চিঠি এসে গেছে৷

স্বাস্থ্যসেবা সচিব আবদুল মান্নান ডয়চে ভেলেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন পেশাজীবীদের ছোট ছোট গ্রুপকে এ মাসেই ভ্যাকসিন দেয়ার চিন্তা করছি৷ এর মাধ্যমে একটা অবজার্ভেশনও হবে৷ যেহেতু আমরা আগেই উপহারের ভ্যাকসিন পাচ্ছি, তাই এটা কাজে লাগাতে চাই৷ শুরুটা করতে চাই৷”

তিনি জানান, এই ২০ লাখ ডোজ টিকা তিন কোটি ডোজের চুক্তির বাইরে৷ এটার সাথে চুক্তির কোনো সম্পর্ক নাই৷ এটা অতিরিক্ত৷

অডিও শুনুন 01:50

শুরুটা করতে চাই: আবদুল মান্নান

তবে তিনি বলেন, এ মাসেই টিকা দেয়া শুরু হলেও মূল টিকা কর্মসূচির সাথে যেন সময়ের পার্থক্য বেশি না হয়, তাহলে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, সেটাও বিবেচনা করা হচেছ৷

বাংলাদেশের নাগরিকদের বিনামূল্যে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা সচিব৷ তবে বেসরকারি উদ্যোগে টিকা আনার কয়েকটি আবেদন আছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে৷ তাদের অনুমতি দেয়া হলে সেই টিকা নাগরিকদের কিনতে হবে বলে জানান তিনি৷

 

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক বৈঠক শেষে দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে শিডিউল আছে তাতে আগামীকাল (বুধবার) টিকা আসবে৷ পরশুদিনও (বৃহস্পতিবার) হতে পারে৷’’

তবে ওই ব্রিফিং-এ উপহারের টিকা নির্ধারিত সময়ের আগেই দেয়া হবে কিনা বা দেয়া হলে কারা পাবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম৷ তিনি বলেন, বুধবার এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে বৈঠক আছে৷ সেখানেই এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷

বাংলাদেশে টিকা দেয়ার যে খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে যে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে তার প্রথম চালান আসবে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৷ ২৬ জানুয়ারি থেকে হবে অ্যাপস-এর মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন৷ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা দেয়া শুরু হবে৷ প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা ৫০ লাখ নাগরিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিআইপিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই৷ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই টিকা নিচ্ছেন- বাংলাদেশে এমন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘‘এ ধরনের চিন্তা আপাতত  নেই৷ যাদের সবচেয়ে আগে প্রয়োজন, ফ্রন্টলাইনার, তাদের আগে দেবো৷ ডাক্তার, নার্স, পুলিশ প্রথমে পাবেন৷ সাংবাদিকদেরও দেওয়া হবে৷ ভিভিআইপিরা আগে পাবেন না৷’’

কেন্দ্রীয়ভাবে তিনটি জায়গায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হবে৷ মহাখালীর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির প্রধান কার্যালয়, তেজগাঁর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিজস্ব সংরক্ষণাগার ও তেজগাঁর কেন্দ্রীয় ওষুধাগার৷

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক জানান, ভ্যাকসিন ‘ওয়াক ইন কুল’ নামে ছোট ঘরের মধ্যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হবে৷ দেশের ২৯টি জেলায় ওয়াক ইন কুল আছে৷ আরো ১৮টি জেলায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য ওয়াক ইন কুল তৈরি হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 05:08

মানসিকভাবে প্রস্তত করা প্রয়োজন: লেনিন চৌধুরী

এ ছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘আইএলআর’  নামের হিমায়িত বাক্সের মধ্যে ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে৷ ভ্যাকসিন পরিবহন করা হবে আলাদা হিমায়িত বাক্সের৷

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী  মনে করেন, ‘‘ভ্যাকসিন দেয়ার আগে দেশের মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তত করা প্রয়োজন৷ কারণ, বিশ্বের যেসব দেশে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে, সেখানে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঘটনাও ঘটেছে৷ ভারতেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ তাই এসব ব্যাপারে আমাদের নাগরিকদের আগাম মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন৷’’

তিনি বলেন, রেজিষ্ট্রেশনের জন্য অ্যাপটি এখনো প্রস্তুত নয়৷ তাই মাত্র কয়েকদিন আগে রেজিষ্ট্রেশন শুরু করলে কীভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে ভ্যাকসিন দেয়া হবে সেটা বোঝা বেশ কঠিন৷ আর আগে একটি মহড়া বা ট্রায়াল হওয়া দরকার৷ তার প্রস্তাব- উপহারে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের একটি অংশ ফ্রন্ট লাইনার স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি অংশকে আগে দিয়ে দেখা যেতে পারে৷ আর ভ্যাকসিন দেয়ায় যেন স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ইপিআই'র কর্মীদের প্রাধান্য থাকে৷ প্রশাসন আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখবে৷

প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পেতে ৬ মাস লাগবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও