ভ্যাকসিন তৈরিতে আরও অর্থ সাহায্য প্রয়োজন | বিশ্ব | DW | 12.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

ভ্যাকসিন তৈরিতে আরও অর্থ সাহায্য প্রয়োজন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণায় গতি বাড়াতে তহবিল তৈরির কথা জানিয়েছে।

দ্রুত করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য অর্থ সাহায্য চাইলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, গোটা পৃথিবীতেই ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চলছে। শতাধিক সংস্থা এই কাজে নিযুক্ত। তবে সাত-আটটি সংস্থা তাদের কাজে অনেকটাই এ গিয়ে গিয়েছে। আরও দ্রুত এবং সহজে যাতে তারা ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলতে পারে, তার জন্য অর্থ সাহায্য দরকার। অন্য দিকে এ দিনই অ্যামেরিকায় মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সকলেই করোনা টেস্ট করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-সহ পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির গবেষণা চলছে। চীন এবং অ্যামেরিকার দুইটি সংস্থাও এর মধ্যেই প্রাথমিক পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে। যদিও সকলেই জানিয়েছে, এই বছরের শেষের আগে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়া সম্ভব নয়। এরই মধ্যে সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেছেন, গত সপ্তাহে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য তহবিল তৈরির কথা জানানো হয়েছিল। প্রায় ৪০টি দেশের সহায়তায় আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ফান্ড তৈরি হয়েছে। কিন্তু আরও অর্থের প্রয়োজন। সে কারণেই সকলের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবারও দাবি করেছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা সেখানে বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেখানে মারা গিয়েছেন ৮১ হাজার ৭০০ জন। আক্রান্ত ১৩ লাখ ৮৫ হাজার। এরই মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে কেউ চাইলেই করোনার পরীক্ষা এখন করতে পারেন। পরে অবশ্য প্রশাসন জানায়, প্রেসিডেন্ট আসলে বলতে চেয়েছেন, যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরা করোনা পরীক্ষা করতে পারেন। সকলের করোনা পরীক্ষা করার মতো পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। অন্য দিকে, সোমবার থেকে হোয়াইট হাউসে মাস্ক পরাও নিয়ম হয়ে গিয়েছে। কারণ, রোববারেই সেখানে দুই জন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ভিডিও দেখুন 03:00

পুলিশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

এ দিকে ভিয়েতনামের পরে ইন্দোনেশিয়াতেও রাস্তায় রাস্তায় চালের মেশিন বসানো হয়েছে। কার্ড সোয়াইপ করে সেখান থেকে চাল নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। আপাতত জাকার্তায় এ ধরনের ১০টি মেশিন বসানো হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, আগামী দিনে আরও মেশিন বসানোর পরিকল্পনা আছে। এই মেশিন থেকে চাল নিলে কোনও ভাবেই কারও সংস্পর্শে আসতে হবে না। ভিয়েতনামে প্রথম এই অভিনব উদ্যোগ শুরু হয়েছিল।

ইউরোপে সার্বিক ভাবে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল। ইটালি, স্পেনের মতো দেশগুলি থেকেও ধীরে ধীরে লকডাউনের কড়াকড়ি তোলা হচ্ছে। যদিও জার্মানি জানিয়েছে, লকডাউনতোলার পরে সেখানে সংক্রমণ অনেকটাই বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, খুব সতর্ক হয়ে দেশগুলিকে লকডাউন তুলতে হবে। কারণ, একবার লকডাউন উঠে গেলে মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা যাবে না। তখন সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যেও লকডাউন তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কিন্তু কী ভাবে সেই লকডাউন উঠবে, তা নিয়ে বিস্তর অস্বচ্ছতা ছিল। যার জেরে দেশ জুড়ে তাঁকে নিয়ে প্যারোডি তৈরি করেন অনেকে। সোমবার ফের কী ভাবে লকডাউন তোলা হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ দিকে ব্রাজিলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। করোনা সংক্রমণ আরও বেড়েছে। তারই মধ্যে দেশের প্রশাসন জিম এবং বিউটি পার্লারকে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করেছে। যা নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ দিকে সোমবার মার্কিন প্রশাসনিক সচিব মাইক পম্পেও ভারত, ব্রাজিল, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, ওই বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন পম্পেও। কী ভাবে ভাইরাস ছড়ালো, এখন কী অবস্থা, ভবিষ্যৎ কেমন হবে, এই সব বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি পম্পেও কিছুদিন আগে চীনের উহানের পরীক্ষাগার থেকে করোনা ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। এই বৈঠকে সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গোটা বিশ্বে প্রায় ৪২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

বিজ্ঞাপন