ভ্যাকসিন আর দূরত্ব বাঁচাচ্ছে যৌনকর্মীদের | আলাপ | DW | 06.08.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

ভ্যাকসিন আর দূরত্ব বাঁচাচ্ছে যৌনকর্মীদের

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে দৈনিক সংক্রমণ চার লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু সেই অর্থে আক্রান্ত হননি যৌনকর্মীরা৷ কেন?

সোনাগাছির এই রাস্তাটা সন্ধের দিকে একেবারে অন্য চেহারায় থাকে৷ চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউয়ের ব্যস্ততা এমনিতেই কলকাতার যে কোনো রাস্তার চেয়ে বেশি৷ সোনাগাছির মুখে তার উপর জায়গায় জায়গায় জটলা থাকে৷ খরিদ্দারদের আগ্রহী দৃষ্টি, যৌনকর্মীদের খরিদ্দার ধরার চেষ্টা, আলো-আঁধারি রাস্তায় যেন একটু বেশি গায়ে লাগালাগি৷

সেই রাস্তা দিয়েই সোনাগাছির ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মী (নাম পরিবর্তিত)৷ একের পর এক গলির মুখে ছোট ছোট হেল্প ডেস্ক৷ থার্মাল স্ক্যানার নিয়ে বসে আছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা৷ লক্ষ্মীর মুখে ডাবল মাস্ক, সাংবাদিককেও বাধ্য করেছে ডাবল মাস্ক পরতে৷ কিছুক্ষণ পর পরই পকেট থেকে স্যানিটাইজার বার করে হাতে লাগিয়ে নিচ্ছে৷

স্টোরির স্বার্থে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের অব্যবহিত পরে সাংবাদিককে যেতে হয়েছিল সোনাগাছি৷ করোনার একেবারে গোড়ায় এই লক্ষ্মীদের নিয়েই স্টোরি করেছিল ডিডাব্লিউ৷ লম্বা লকডাউনে কার্যত অনাহারে দিন কাটছিল লক্ষ্মীদের৷ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরে তারা কেমন আছেন, সেইটেই স্টোরির বিষয়৷

এমন সোনাগাছি সাংবাদিক দেখেনি৷ গায়ে গায়ে সোনাগাছি হঠাৎ সতর্ক হয়ে নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছে৷ কেউ কারো কাছে ঘেঁসছে না৷ জায়গায় জায়গায় হেল্প ডেস্কে থার্মাল স্ক্যানারে মেপে নেওয়া হচ্ছে খরিদ্দারের তাপমাত্রা৷ সামান্য সর্দি-কাশির আভাস পেলেও তাকে চলে যেতে বলা হচ্ছে৷ একেকটি ঘরে ঢোকার মুখে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে কাস্টমারকে৷

লক্ষ্মীর বক্তব্য, ''ঘরের ভিতরেও মাস্ক খুলতে দিচ্ছি না আমরা৷ নিজেরাও খুলছি না৷ আগেই এ কথা জানিয়ে দিচ্ছি বাবুদের৷ তাতে পোষালে ভালো, না পোষালে কিছু করার নেই৷''

খাতায় কলমে এশিয়ার সবচেয়ে বড় যৌনপল্লি কলকাতার সোনাগাছি৷ শতক পুরনো এই রিপুমহলে এখন বাস করেন প্রায় সাত হাজার যৌনকর্মী এবং তাদের পরিবার৷ এছাড়াও রয়েছে ভাসমান যৌনকর্মীরা৷ যারা সোনাগাছিতে থাকেন না কিন্তু কাজের সূত্রে আসেন৷ সেই সংখ্যা হিসেব করলে মোট যৌন কর্মীর পরিমাণ ১৫ হাজারের কাছাকাছি৷ আশ্চর্য বিষয় হলো, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সেই সোনাগাছি সামলে ফেলেছে৷ মৃত্যু হয়নি একজনেরও৷ সব মিলিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ শতাংশেরও কম যৌনকর্মী৷ কীভাবে?

কিছুদিন আগে করোনাতেই মৃত্যু হয়েছে বিশিষ্ট চিকিৎসক স্মরণজিৎ জানার৷ দীর্ঘদিন ধরে সোনাগাছির যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি কাজ করেছেন৷ সাংবাদিককে বলছিলেন, ''করোনার প্রথম ঢেউয়ে সম্পূর্ণ লকডাউনে ভয়ংকর অবস্থা হয়েছিল সোনাগাছির যৌনকর্মীদের৷ বোঝা যাচ্ছিল ফের লকডাউন হলে তারা না খেতে পেয়ে মরে যাবে৷'' ফলে টিকা আসার পরেই দ্রুত যৌনকর্মীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ডাক্তারবাবু৷ পাশাপাশি শুরু হয় সচেতনতা শিক্ষা৷

স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলে

স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলে

এনজিও দুর্বার ভারতের যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে৷ ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করতে শুরু করে তারা৷ যৌনকর্মীদের বোঝানো হয়, ব্যবসা করলেও কীভাবে দূরত্বের কথা মাথায় রাখতে হবে৷ মুখ থেকে মাস্ক খোলা যাবে না৷ কীভাবে নিজেদের স্যানিটাইজ করতে হবে৷এরপরেই গোটা সোনাগাছি জুড়ে বেশ কিছু হেল্প ডেস্ক তৈরি করে দুর্বার৷খরিদ্দারদের পরীক্ষা শুরু হয়৷

দুর্বারের সম্পাদক কাজল বসুর বক্তব্য, ''ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মতোই সমস্ত কাজ করেছি আমরা৷ তাতে লাভও হয়েছে৷ যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কড়া আইসোলেশনে রাখা হয়েছে৷ সোনাগাছির মতো ঘিঞ্জি জায়গায় একবার করোনা ছড়িয়ে গেলে ভয়ংকর ব্যাপার হতো৷''

দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায়৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানিয়েছেন, ''খুব সতর্কভাবে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ সরকারও খুব সাহায্য করেছে৷ সে কারণেই সময় মতো সকলকে টিকা দেওয়া গেছে৷ ব্যবসা বন্ধ না করেও যে সতর্কতা অবলম্বন করা যায়, সোনাগাছি এবারে তা দেখিয়ে দিয়েছে৷''

শুধু সোনাগাছি নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত যৌনপল্লিতেই একই নিয়ম পালন করেছেন যৌনকর্মীরা৷ ফলও পেয়েছেন৷ তবে বাকি ভারতের চেহারা অবশ্য এক নয়৷ দিল্লিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে ফের কাজ বন্ধ হয়ে যায় যৌনকর্মীদের৷ নিশার (নাম পরিবর্তিত) মতো যৌনকর্মীরা হরিয়ানায় দেশের বাড়ি ফিরে গেছিলেন, যারা বাড়ি ফিরতে পারেননি, তারা পরিচিত কাস্টমারদের বাড়ি গিয়ে অথবা হোটেলে গিয়েছেন৷ যৌনকর্মীর বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লিতে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা এক এনজিও কর্মী৷ তবে গত একমাসে দিল্লির যৌনকর্মীদেরও টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে৷ জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে তারা কাজও করতে শুরু করেছেন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়